Monday, 31 May 2021

উপাদৃতা ... বিজ্ঞপ্তি বসুধা প্রকাশনীর দশম মাসিক পত্রিকা " উপাদৃতা " এর জন্য লেখা আহ্বান করা হচ্ছে । লেখকদের লেখা দেওয়ার জন্য নিম্নলিখিত বিষয়গুলাে সম্পর্কে অবগত করা হচ্ছে -

 ১. ৫ টি বিষয়ের ওপর আমাদের এই e - mag বেরােবে A. অনুগল্প B. কবিতা C. গল্প D , নিজের হাতে আঁকা ছবি E. স্টিল ফটোগ্রাফি F. ক্যালিওগ্রাফি G. ভ্রমণ কাহিনী 

২. শব্দসীমা - অনুগল্প ( সর্বাধিক ১০০০ শব্দে ) , কবিতা ( ২০-২৫ ) লাইন , গল্পের ক্ষেত্রে ও ভ্রমণ কাহিনীর ক্ষেত্রে শব্দসীমা নেই । 

৩. সমস্ত বিষয়ের লেখা হতে হবে অরাজনৈতিক । যদি ছবি , ক্যালিওগ্রাফি দেন সেক্ষেত্রে 1 : 1 অনুপাতে দেবেন ।

৪. একজন লেখক যেকোনাে একটি বিষয়ে লেখা দিতে পারেন । ( বানান এবং ব্যাকরণগত ভুল কাম্য নয় , অন্যথায় লেখা বাদ যেতে পারে ) 

৫. সমস্ত লেখা পাঠাতে হবে whats app group এর admin মারফত বাংলা font এ টাইপ করে , কোনরকমের jpg png pdf বা word ফরম্যাট এ লেখা গ্রহণ করা হবে না । ছবি দিলে শুধুমাত্র jpg ফরম্যাট এ দেবেন । লেখা ও ছবি জমা দেওয়ার সময়সীমা ( ২২.৫.২০২১ -৪.৬ , ২০২১ সকাল ১০ টা ) (Link নিচে দেওয়া আছে )

৬. লেখার নাম , বিষয় , লেখকের নাম , এবং whats app নম্বর উল্লেখ করা আবশ্যক ।

৭. নির্বাচিতদের সূচি গ্রুপ মারফত জানিয়ে দেওয়া হবে এবং নির্বাচিতদের e - certificate ও দেওয়া হবে ।

৮. লেখা নির্বাচিত হলে আপনাদের সৌজন্য সংখ্যা দিতে আমরা অপারগ 1 1. যদি কারাের একটি ছবি ও লেখা নির্বাচিত হয় তবে ২৫ টাকা + ১০ টাকা / 2. যদি কারাের শুধু লেখা নির্বাচিত হয় তবে ২৫ টাকা / 3. যদি কারাের শুধু ছবি নির্বাচিত হয় তবে ২৫ টাকা সংগ্রহ মূল্যে আপনাদের এই e - mag টি সংগ্রহ করতে হবে । টাকা জমা দেওয়ার বিষয় লেখা নির্বাচিত হওয়ার পরবর্তীতে আপনাদের জানিয়ে দেওয়া হবে।

৯. বইটি ebook আকারে প্রকাশিত হবে ।

১০. পূর্বে প্রকাশিত কোনাে লেখা ও ছবি দেওয়া যাবে না এবং লেখা ও ছবির স্বত্বাধিকার আপনাদের পুরােপুরি দেওয়া হবে । 

১১.বিচারকের বিচারে সেরা লেখা ও ছবি প্রকাশিত হবে বসুধা প্রকাশনীর নিজস্ব ব্লগ সাইটে 

১২. আমরা বাংলার বৃহত্তম e book app swiftboox এর সাথে একজোট হয়েছি । আপনাদের মধ্যে সেরা লেখাগুলি পরবর্তীকালে প্রকাশিত হবে । এই অ্যাপ এ । কোনাে বিষয়ে জিজ্ঞাস্য থাকলে আমাকে mssg করবেন ।

What's app - https://chat.whatsapp.com/G1yzTxxh1KcJ87Aqh3tlCR


মৃণালিনী

 কোনটা সহজ বেশী?

ভূল বুঝে চলে যাওয়া না ঠিকটা বুঝে দূরে সরে থাকা? ভালোবাসতে গেলে কি কাছে থাকার খুব প্রোয়োজন?

দূরে গিয়ে ভালোবাসা যায়না?

হয়তো জানবেনা হয়তো দেখবেনা চোখে |

তবু নিরবে নিশ্চুপে কত ভালো চাওয়া, কত প্রার্থনা,

লেখা হবে রোজ এই মনের কোথাও |

আচ্ছা কোনটা বড়? কষ্ট না রাগ?

যদি তোমার রাগ দিয়ে আমার কষ্টটাও রাগে পরিনত করতে পারো,

তবে বুঝবো রাগটাই বড় |

জানোতো মৃণাল পাকে ফোটে, কিন্তু স্বভাবে পাক নেই |

সহজের সুন্দরে পরিপূর্ণ সে |

সে সুবাস ছড়ায়না ঠিকই | কিন্তু ছটা ছড়ায় প্রকৃতির আনাচে কানাচে |

তেমনই তুমিও আমার মৃণালিনী |

তোমার সহজ সুন্দর রূপটাই দেখে যাবো সারাজীবন |

যদি কখনও আমার মনে পাক আসে,

তবু তুমি সেই পাকে ফুটে থাকবে আমার মৃণালিনী হয়েই 

সবসময়!!

- Ragini Of night ©

নিরোগ পৃথিবী

 সাড়েচুয়াত্তর বার আদর করেছি আমি তোমার চুলের ঘ্রানে নাক ঠেকানো অষ্টআশিবার বুকভেজানো সন্ধ্যায় বৃষ্টির কবিরাজিওষুধ যদি এরপরেও না পৃথিবী সুস্থ হয় তবে আমি তো-মা-র বুকেই আরেকটা পৃথিবী বানিয়ে নেব । 

সিকতা আনান হক ©

Tuesday, 18 May 2021

ব্যাগ

 কুমুদরাত , শিশুশশী কার্নিশ বেয়ে ঝুলন্ত পিঠের শিরদাঁড়াতে পিঠথলে , এ শহরের শেষ বৃষ্টি হয়তাে দেখা নয়নাভিরামে বুকের সেচে গগনবাউল একতারা নগর ছেড়ে যখন রাঙামাটির ধুলা উড়িয়ে পথের নরম মাটি লেপানাে কচি আলপথে গরুর গাড়ির চাকার ছাপ রেখে বেরােই তখন পিঠের উপর চাপ ফেলছে গীতবিতান শহর ছেড়ে পাড়ির তরে ছােট্ট থলেতে গুছিয়ে ভরে নিয়েছি রবীঠাকুরকে নরম হয়ে যাওয়া হলদেটে পাতার পুরােনাে সঞ্চায়িতাটা সাথে ঝাঁকঝাঁক বর্ষাসহ পােকা খাওয়া সােনার তরী ' আর চোদ্দবার বাঁধানাে গীতবিতান । ঢুকুর ঢুকুর তাল তুলছে কাঠের চাকা চালকের গলায় ভাটিয়ালি গান আকাশের স্বরে মেঘেরকুমার খােলে গীতবিতানের দুশাে চূড়াশি পৃষ্ঠা মেঘে মেঘে রটে যায় ছেলেখেলা ... " ওগাে কাঙ্গাল ! আমারে কাঙ্গাল করেছ আরাে কি তােমার চাই ? ওগাে ভিখারী আমার ভিখারী চলেছ , কী কাতর গান নাই । " সবশেষে শােনিত পানা বিকেলপঁচাআলাে গােধূম আর ফরিঙের আদিম খেলাধুলা আর আমি ছুটন্ত তালগাছ গুনি বিস্ময়ে চাকার মর্মর ধ্বনি , কাঁচা ধুলাে , জাফরানিসন্ধ্যা অজয়ের একপশলা কুলুকুলু আর হাতে রবীন্দ্রনাথ । 

-সিকতা অনান হক ©

বর্ণবাদ

“ শুনলাম কাল ছেলের জন্য পাত্রী দেখতে গেছিলেন । তা কথা এগােলাে ? “ আর বলবেন না মশাই । যা দিনকাল পড়লাে ! ছবি দেখে তাে এতটা বুঝতে পারিনি , গিয়ে দেখি মেয়ে একদম কয়লার মতাে কালাে । ওই কালাে মেয়ে আমাদের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়ার মতলব ছিল । আমিও একদম উপযুক্ত জবাব দিয়ে এসেছি । ইস্ , এই ছাত্রদের জ্বালায় একটু শান্তিতে কথা বলার জো নেই । সেই তখন থেকে চিৎকার করেই চলেছে । অ্যাই , কি হয়েছে রে তােদের ? এত চিৎকার যে করছিস , তা বর্ণবাদ নিয়ে যে রচনাটা লিখতে দিলাম সেটা কি লেখা শেষ ? 

অপরাজিতা ©

বিপরীত শব্দ

 দিনের দিনের তােমার ঠোঁটের নেশায় , দিশেহারা হই আমি রাতে । সমান্তরাল ভাবে আমার মনের ঘরে আসাে যখন , তুমি স্পর্শে যাও বেঁকিয়ে । উজ্জ্বলতা বাড়ায় যখন নগ্নতার , নিরব ভালবাসা নিতান্ত সরল মুহূর্তগুলাে অনুজ্জ্বলতা । 

অর্পি রায় ©

Monday, 10 May 2021

লাহিড়ী বাড়ির রহস্য

সকালবেলা তিয়া সবে জল বিস্কুট খেয়ে পড়তে বসেছে। এমন সময়ে কলিং বেলটা বেজে উঠলো। 

তিয়ার বাবা “ওই বোধহয় খবরের কাগজ এসেছে” বলে দরজাটা তড়িঘড়ি করে খুলতে গেলেন‌। সকালে খবরের কাগজ না পড়লে আবার তিয়ার বাবার নাকি সকালটা ঠিক শুরু হয় না। কিন্তু খবরের কাগজের লোক আসেনি। এসেছেন এক বছর আটত্রিশ-চল্লিশ বছরের ভদ্রলোক। তিয়ার বাবা বললেন,“আপনি কে? কি চাই এখানে?”

ভদ্রলোক বললেন,“আমার নাম সমরেশ লাহিড়ী। আচ্ছা এটা কি রুপকথা দত্তর বাড়ি?”

“হ্যাঁ, এটা রুপকথা দত্তর বাড়ি। আমি ওর বাবা। আপনি কি কোনো সমস্যা নিয়ে এসেছেন?”

“হ্যাঁ তা এক প্রকার সমস্যাই বটে। আপনি একটু রুপকথার বন্ধু ময়ূরী কে ডাকতে পারবেন? আসলে আমার দুজনের সাথেই একটু কথা বলার দরকার।”

“হ্যাঁ হ্যাঁ,আমি এক্ষুনি ময়ূরীকে ডাকছি আর রুপকথাকেও পাঠিয়ে দিচ্ছি। আপনি ভেতরে আসুন।”

তিয়ার বাবা ভদ্রলোককে ড্রয়িংরুমে এসে বসিয়ে তিয়ার ঘরে যেতেই তিয়া বললো,“চিন্তা কোরো না। মিমিকে ফোন করে দিয়েছি, এক্ষুণি চলে আসবে।”

তিয়ার বাবা বললেন,“ঠিক আছে,তুই গিয়ে ওখানে বস। আমি চা বানিয়ে আনছি।”

আসলে তিয়ার মা দু-তিন দিন হলো বাড়িতে নেই। তিয়ার এক মাসির বাড়ি গেছেন। তাই বাপ বেটিতে প্রত্যেকদিন রান্নাঘরে এক্সপেরিমেন্ট করার সুযোগ পাচ্ছে। আসলে ঘরে গৃহকর্ত্রী না থাকলে যা হয় আর কি!

তিয়া ড্রয়িংরুমে গিয়ে বসতেই মিমি এসে হাজির। তিয়া পরিচয় করিয়ে দিলো,“এই হলো ময়ূরী। আমার বন্ধু।”

ভদ্রলোক বললেন,“আসলে আমি আগে মুম্বাইতে কর্মরত ছিলাম । উত্তর কলকাতার বাগবাজারে আমার আদি বাড়ি। ছোটোবেলা থেকে ওখানেই বড়ো হয়েছি। তারপর কাজের সূত্রে মুম্বাইতে যাওয়া। কিছুদিন হলো কাজের সূত্রে আবার কলকাতাতেই চলে এসেছি। এসে বাগবাজারের পুরোনো বাড়িতেই আছি। এছাড়া কলকাতার দু-জায়গায় আমার দুটো ফ্ল্যাট আছে। বাগবাজারে এসে থাকতেই বাড়িতে অদ্ভুত সমস্যা শুরু হয়েছে।”

তিয়া বললো,“কি সমস্যা?”

“আমাদের বাড়িতে হঠাৎ করে ভূতের উপদ্রব শুরু হয়েছে। ভূতের উপদ্রব বলতে সে মারাত্মক কান্ড। প্রত্যেকদিন এইসব হচ্ছে। এই ধরো আলো বন্ধ হয়ে যাওয়া। অন্য বাড়িতে আলো থাকে কিন্তু আমাদের‌ই আলো বন্ধ থাকে। আমরা কিন্তু কেউ লাইট অফ করি না। ইলেকট্রিসিটিতেও কোনো সমস্যা নেই। এছাড়া জিনিসপত্র পড়ে যাওয়া, উপরে দুমদাম আওয়াজ হ‌ওয়া এসব তো লেগেই আছে। একবার আমার মা বাথরুমে যাওয়ার সময়ে কিসব ছায়া দেখে একেবারে অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলেন।”

তিয়ার বাবা ঠিক সেই সময়ে চা নিয়ে ঘরে ঢুকলেন। বললেন,“একটু চা খেয়ে নিন। রুপকথার মা বাড়িতে নেই তো,তাই তেমন কিছু করতে পারলাম না।”

ভদ্রলোক হেসে বললেন,“না না,এই যথেষ্ট।”

তারপর চায়ে একটু চুমুক দিয়ে বললেন,“আসলে আমাদের বাড়ির সবার বিশ্বাস বাড়িতে ভূত আছে। সেই এইসব কান্ড করছে। কিন্তু আমার বিশ্বাস এসব কিছুই না। মানে ভূত বলে তো কিছু হয় না। তাই তোমাদের কাছে আসা। ভেবে দেখো কি করবে। উপযুক্ত পারশ্রমিক‌ও আমি দেবো।”

তিয়া বললো,“টাকার কথা পরে হবে। আগে যে প্রশ্নগুলো করবো তার উত্তর দিন। প্রথম প্রশ্ন,এর মধ্যে কি কোনো প্রোমোটাররা আপনাদের বাড়িতে এসেছিলো?”

“দেখো পুরোনো বাড়ি, প্রোমোটাররা তো লেগেই থাকে। একটা দুটো তো নয়। এই পর্যন্ত অনেক প্রোমোটার‌ই এসেছে।”

মিমি বললো,“বাড়িটা কত পুরোনো?”

“তা তো অনেক পুরোনো,একশো বছর তো হবেই। সঠিক ভাবে জানি না। মা জানতে পারেন।”

তিয়া বললো,“বাড়িতে কে কে আছেন?”

“বাড়িতে আমি,আমার স্ত্রী আর আমার একটি চার বছরের মেয়ে আছে। আর তাছাড়া আমার বৃদ্ধা মা,আমার দাদা যিনি বিয়ে করেননি। আর আছে চল্লিশ বছরের পুরোনো লোক বৃন্দাবন কাকা,আর অঞ্জন।”

মিমি বললো,“অঞ্জন কে?”

“অঞ্জন আমাদের বাড়ির আশ্রিত। বাবা কোন অনাথ আশ্রম থেকে নিয়ে এসেছিলেন। বাড়ির সব কাজ ও করে। খুব ভালো ছেলে।”

তিয়া বললো,“ঠিক আছে,আমরা কেসটা নিচ্ছি।”

ভদ্রলোক বললেন,“তাহলে অ্যাডভান্স টা...”

তিয়া হেসে বললো,“অ্যাডভান্স পরে হবে। আগে কাজটা মিটুক।”

চা খাওয়া শেষ হয়ে গিয়েছে। সমরেশবাবুও উঠে পড়লেন। বললেন,“ঠিক আছে,তাহলে তোমরা একদিন এসো। আর আমার এই কার্ডটা রেখে দাও। একটা ফোন করে দিলে আমি বাড়িতে থাকবো।”

এই বলে একটা কার্ড বার করে তিয়ার হাতে দিলেন। 






তিয়ারা এখন বাগবাজারের লাহিড়ী বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে আছে। পুরোনো বাড়ি, কিন্তু নিয়মিত বাড়িটা মেনটেইন করার জন্য এখন‌ও বেশ ভালোই আছে। কালকে ওই কথাবার্তা হ‌ওয়ার পর তিয়ারা ঠিক করেছিলো পরের দিন ওই বাড়িতে যাবে। তবে তিয়ারা একা আসেনি এখানে। তিয়ার বাবাও ওদের সাথে এসেছেন। তিয়াদের এখন উইন্টার ভ্যাকেশন চলছে,বাবার কলেজেও ছুটি। অগত্যা এইরকম ভূতের বাড়ি দেখার জন্য তিনিও হাজির হয়েছেন তিয়াদের সাথে।

তিয়ারা বাড়ির ভেতরে ঢুকলো। বাড়ির উঠোনে একজন বছর ছাব্বিশ-সাতাশের লোক দাঁড়িয়ে ছিলেন। ওদের দেখে এগিয়ে আসলেন। 

হাত জোড় করে বললেন,“নমস্কার, আমি অঞ্জন সেন। ছোড়দা আপনাদের কথা আগেই বলে রেখেছিলেন। আপনারা ভেতরে চলুন।”

তিয়ারা ভেতরে গেলো। অঞ্জনবাবু ওদের বসার ঘরে নিয়ে গেলেন। ঘরটা সত্যি‌ই খুব সুন্দর। প্রত্যেকটা ফার্নিচারেই আভিজাত্যের ছাপ আছে। 

অঞ্জনবাবু বললেন,“আমি ছোড়দাকে ডেকে দিচ্ছি। আচ্ছা আপনারা চা খাবেন তো?”

তিয়ার বাবা বললো,“না না,আমরা খেয়েই বেড়িয়েছি।”

“তা বললে কি হয়? কিছু তো খেতেই হবে। আগে ছোড়দাকে ডেকে দিই।”

এই বলে ঘর থেকে বেড়িয়ে গেলেন। কিছুক্ষণ পরে সমরেশবাবু ঘরে ঢুকলেন। বললেন,“তোমরা এসে গেছো, ভালো হয়েছে।

অঞ্জন তোমাদের কিছু খেতে দেয়নি?”

ঠিক সেই সময় অঞ্জনবাবু একজনকে নিয়ে ঘরে ঢুকলেন।তার হাতের ট্রেতে তিনপ্লেট মিষ্টি। ট্রেটা টেবিলের ওপর রেখে দেওয়ার পর অঞ্জনবাবু বললেন,“একটু কিছু খেয়ে নাও। তারপর না হয় সবার সঙ্গে কথা বলবে।”

অগত্যা ওরা খেতে শুরু করলো। খাওয়াদাওয়া হয়ে গেলে তিয়া বললো,“আমরা আপনার মায়ের সাথে কথা বলবো একটু।”

সমরেশবাবু বললেন,“বেশ তো,অঞ্জন তোমাদের সব জায়গায় নিয়ে যাবে।”

তিয়া ওর বাবাকে বললো,“তুমি একটু ওনার সাথে কথা বলো। আমরা সবকিছু দেখেশুনে তারপর আসছি।”

এই বলে ওরা অঞ্জনবাবুর সাথে বেরিয়ে গেলো। 

নীচে তেমন কোনো ঘর নেই। আছে বলতে একটা বড়ো উঠোন। আর তার পাশে একটা বড়ো ড্রয়িংরুম। ওপরের ঘরগুলোততেই সবাই থাকে।  ওরা উপরে উঠে সিঁড়ির পাশের ঘরে ঢুকলো। সমরেশবাবুর মা খাটে বসে পান সাজছিলেন। ওদের দেখে বলে উঠলেন,“অ্যাই অঞ্জন,কে এসেছে রে!”

মিমি ফিসফিস করে বললো,“পুরো রিনির ঠাম্মার জেরক্স কপি!”

অঞ্জনবাবু বললেন,“মা,ওরা তো তোমার সাথে দেখা করতে এসেছে। কালকে তোমাকে ছোড়দা এদের কথা বললো না।”

সমরেশবাবুর মা বললেন,“অ,তা সমু বলছিলো বটে। তা তোমরা কি জানতে চাও শুনি?”

তিয়া বললো,“আমরা আপনাকে ঠাম্মা বলবো তো?”

সমরেশবাবুর মা এক গাল হেসে বললেন,“ওমা বলবে না কেনো! অবশ্যই বলবে।”

“তাহলে আপনাকে কয়েকটা প্রশ্ন করি। এ বাড়ির কোনো পুরোনো ইতিহাস আছে?”

“তেমন কিছু জানি না বাপু।”

মিমি বললো,“আচ্ছা ঠাম্মা আপনি নাকি অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলেন। কেসটা কি?”

ঠাম্মা আঁতকে উঠলেন,“ওকথা আর বলো না। হরি হরি! সেদিন রাতে আমি একটু বাথরুমে যাওয়ার জন্য উঠেছিলাম। হঠাৎ করে বাথরুমের দরজায় আলো আঁধারিতে কার যেনো ছায়া দেখতে পেলাম। আমি চিৎকার করে সকলকে ডাকলাম। তারপর আর কিছু মনে নেই।”

তিয়া বললো,“ঠিক আছে ঠাকুমা। আমাদের আর কিছু জানার নেই। আমরা আসলাম।পরে দরকার হলে আবার আসবো।” এই বলে ওরা বেরিয়ে গেলো। 




“আর কোনো মতেই এখানে থাকা আমার পক্ষে সম্ভব না। প্রত্যেকদিন রাতে এই ভূতের উপদ্রব আর ভালো লাগছে না। আমার মেয়ে ছোটো,ওর পড়াশোনাটাও ঠিকঠাক হচ্ছে না। পরে গিয়ে তো অসুবিধায় পড়বে। তাই মেয়েটাকে আমার বাপের বাড়িতে রেখে এসেছি। কিন্তু আমার পক্ষে আর এখানে থাকা সম্ভব নয়।”

এই নিয়ে প্রায় পনেরো বার হলো। সমরেশবাবুর স্ত্রী রিমাকে তো কোনো কথাই জিজ্ঞেস করা যাচ্ছে না। তিয়া বা মিমি যাই বলতে যাচ্ছে ওনার সেই এক কথা,“আমার পক্ষে আর এখানে থাকা সম্ভব নয়।” মিমির তো মাঝে মাথা ঘোরানো শুরু করেছিলো।

শেষে তিয়া বললো,“প্লিজ মিসেস লাহিড়ী, আমাদের সাথে একটু সহযোগিতা করুন। আমরা আপনাকে বেশি বিরক্ত করবো না। শুধু যা যা জিজ্ঞেস করবো তার ঠিকঠাক উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করুন।” 

এবার মনে হলো মহিলা একটু শান্ত হয়েছেন। বললেন,“বলো কি জানতে চাও?”

তিয়া বললো,“ভূতের উপদ্রব বলতে ঠিক কিরকম উপদ্রবের কথা বলছেন?”

“সে ভয়ঙ্কর, বলে শেষ করা যাবে না। একদিন আমাদের বাড়িতে লোডশেডিং  হয়ে গেছে, আমি আলো আনতে গেছিলাম। হঠাৎ করেই ওপরে দুমদাম শব্দ হতে শুরু করলো। তারপর ওটা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরেই কে যেন আমার চুলটা টেনে ধরলো। আমি তো প্রায় অজ্ঞান‌ই হয়ে গিয়েছিলাম। আর এছাড়া বাসনপত্র পড়া, কার‌ও ছায়া দেখা এসব তো লেগেই আছে।”

মিমি বললো,“এইসব ঘটনাগুলো কখন ঘটে? রাতে না সকালে?”

“সাধারণত এগুলো মাঝ রাতে বা রাতে লোডশেডিং হয় তখনই হয়। সকালে হয় না তেমন।”

তিয়া হঠাৎ করে বললো,“আচ্ছা আপনি কি চান এই বাড়িটা বিক্রি হয়ে যাক?”

মিসেস লাহিড়ী তেমন না ঘাবড়েই বললেন,“এখন যা চলছে, তাতে এই বাড়িটা বিক্রি হয়ে যাওয়াই ভালো। সমরেশকে তো কতবার বলেছি, ও তো মানতেই চায় না।‌ বলে ফ্যামিলি সেন্টিমেন্ট। ছাই ফ্যামিলি সেন্টিমেন্ট। এ বাড়িটা বিক্রি করতে তো একজন ছোঁক ছোঁক করছে।”

তিয়া প্রশ্ন করতে যাবে, এমন সময়ে দেখা গেলো দরজার বাইরে একটা ছায়া। মানে কেউ ওখানে একটা দাঁড়িয়ে আছে। তিয়া আর মিমি সেখানে দৌড়ে গেলো। দেখা গেলো সেখানে একজন মধ্যবয়সী ভদ্রলোক দাঁড়িয়ে আছেন। 

মিসেস লাহিড়ী ততক্ষণে ঘর থেকে বেরিয়ে এসে বললেন,“দাদা আপনি?এখানে? কি করছেন?”

ভদ্রলোক আমতা আমতা করে বললেন,“আসলে, শুনলাম যে দুটো মেয়ে এসেছে, ওই সমু যাদের কথা কালকে বলছিলো। তাই দেখা করতে এসেছিলাম।”

তিয়া বললো,“আপনি আপনার ঘরে যান, আমরা আসছি।”

উনি ওনার ঘরে চলে যাওয়ার পর তিয়া মিসেস লাহিড়ীকে বললো,“তা, কে চায় বাড়িটা বিক্রি হয়ে যাক?”

মিসেস লাহিড়ী বললেন,“আমার ভাসুর‌ই তো চান। উনি তো আরেক জন, নেশা ভাং করে টাকা ওড়ান। খালি খালি টাকা নষ্ট হচ্ছে, কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না।”

তিয়ারা আর তেমন কথা না বাড়িয়ে সমরেশবাবুর দাদা অমরেশবাবুর ঘরের দিকে গেলো। অঞ্জন বাবু বলে দিয়েছিলেন যে কিভাবে যেতে হবে। ওরা ওনার কাছে শুনে বলেছিল যে তাঁকে আর কষ্ট করে যেতে হবে না। ওরা একাই চলে যেতে পারবে। 






মিমি অমরেশবাবুকে বললো,"আপনি তখন ঘরের বাইরে দাঁড়িয়ে কি শুনছিলেন?"

অমরেশবাবু বললেন,“বললাম তো, তোমাদের সাথে দেখা করতে এসেছিলাম।”

“যদি বলি যে আপনি আড়ি পেতে আমাদের কথা কথা শুনছিলেন,তাহলে?”

“আমি কেনো শুনতে যাবো তোমাদের কথা!”

তিয়া বললো,“বুঝলি মিমি, এখন বরং এসব থাক। আমরা কাজের কথায় আসি। যখন রাতে এসব ঘটনা ঘটে আপনি তখন কোথায় থাকেন?”

“আমি তো সাধারণত ঘরেই থাকি। মাঝেমধ্যে হয়তো থাকতে পারি না। যে ঘটনাগুলো ঘটে সেগুলো জানি। একদিন রাতে ঘরে এসে লাইট অফ করে শুতে যাচ্ছি, হঠাৎ করে ঘরের পাশে কিসের যেনো ঝুমঝুম আওয়াজ। আমি তো বেশ ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম।”

তিয়া হঠাৎ করে বললো,“মোস্ট রিসেন্টলি আপনি তো প্রোমোটার রামানন্দ যোশীর কাছে গিয়েছিলেন তাই না?”

অমরেশ বাবু আমতা আমতা করে বললেন,“হ্যাঁ,হ্যাঁ মানে না।”

“দেখুন আপনি হ্যাঁ বা না কি বলবেন সেটা আমি জানি না। কিন্তু আপনার ঘরের টেবিলে রামানন্দ যোশীর কার্ডটা কিন্তু জ্বলজ্বল করছে।”

মিমি একবার মুখ ফিরিয়ে দেখলো যে সত্যিই একটা কার্ড আছে। 

অমরেশবাবু বললেন,“আমি যোগাযোগ করিনি। উনিই একদিন আমাকে ডেকেছিলেন। বলেছিলেন বাড়িটা কিনতে চান। তাতে আমিও নাকি কিছু শেয়ার পাবো। কিন্তু সমু এসবে একদম রাজি নয়। তাই আমিও ওনাকে না করে দিয়েছি।”

তিয়া বললো,“ঠিক আছে,আমরা এখন আসছি। আর এই কার্ডটা আমরা নিয়ে যাচ্ছি। এটার আর আপনার প্রয়োজন পড়বে বলে মনে হয় না। চল মিমি।”





তিয়ার বাবা মুড়ি আর চপ খেতে খেতে বললেন,“কেসটা খুব‌ই ইন্টারেস্টিং বুঝলি। বাড়ির একটা লোকও তো ভালো নয় দেখছি। তবে যাই বলিস অঞ্জন ছেলেটা কিন্তু খুব ভদ্র, অমায়িক। ওই বাড়িতে ওই যা একটু ভালো।”

তিয়াদের সমরেশবাবুর আজ না খাইয়ে ছাড়েননি। খেয়ে দেয়ে ওরা যখন বাড়ি ঢুকেছে তখন বেলা চারটে। তিয়ার মাও এরমধ্যে একবার ফোন করেছেন। তিয়া অবশ্য এসব কিছুই জানায়নি। কারণ জানলে যে উনি কি পরিমাণ টেনশন করবেন সেটা ও জানে। যাই হোক, তিয়ার বাবা এরমধ্যে অনেকজনকেই অপরাধি ভাবতে শুরু করেছেন। তবে একশোতে একশো পেয়ে তার কাছে পাশ করে আছেন অঞ্জনবাবু। 

তিয়া বললো,“সে তো বুঝলাম, কিন্তু ওনার এই অমায়িকতা একটা মুখোশ নয় তো।”

তিয়ার বাবা বললেন,“আরে,তুই সমরেশবাবু কেই বা ধরছিস না কেনো? হতেও তো পারে উনি এসবের পিছনে আছেন।”

“ঠিক বুঝতে পারছি না ব্যাপারটা, বুঝলে বাবা। মিমিটা আসুক, ওর সাথে একটু আলোচনা করি।”

ঠিক সেই সময়েই মিমি হাঁফাতে হাঁফাতে এসে বললো,“কি রে তোরা! তোদের বাড়ির সামনে হুমকির চিঠি দিয়ে যাচ্ছে, আর তোরা জানতে পারছিস না।“

তিয়ার বাবা বললেন,“হুমকির চিঠি! এই তিয়া এইসব কেস আর নিতে হবে না। তুই সমরেশবাবু কে বলে দে। শেষে ক্রিমিনাল ধরতে গিয়ে বেঘোরে প্রাণটা হারাবি নাকি!”

তিয়া ততক্ষণে মিমির হাত থেকে চিঠিটা নিয়ে পড়তে শুরু করেছে।  চিঠিতে লেখা একটা দু-লাইনের ছড়া।

                   'ভূতকে ধরতে চাইলে,

                   বেঘোরে প্রাণ যাবে চলে।'

তিয়া হেসে বললো,“ছন্দটা ঠিকঠাক হয়নি, বোধহয় প্রথমবার ছড়া লিখেছে।”

মিমি রেগেমেগে বললো,“তোর ছন্দর কথা মনে পড়ছে, ওদিকে আমাদের জীবন মরণের প্রশ্ন উঠেছে।”

“আরে কুল কুল! এটা তো একটা উড়ো চিঠিও হতে পারে। আগে আগে দেখ না কি হয়!”





পরের দিন সকালে এক আশ্চর্য ঘটনা ঘটলো। মিমি তিয়াদের বাড়িতেই ছিলো। কোত্থেকে এক সাধুবাবা এসে হাজির,“বোম ভোলে” করতে করতে। তিয়াদের বাড়িতে এর আগেও সাধু সন্ন্যাসী এসেছেন, ভিক্ষা নিতে। কিন্তু এরকম অন্তর্যামি, পরোপকারী সাধুবাবা এর আগে কখনো দেখেনি ওরা। বাড়িতে ঢুকেই চারপাশ দেখে হঠাৎ করে বললেন,“এ বাড়িতে অমঙ্গল ঘটতে চলেছে।”

তিয়া মিমির দিকে তাকিয়ে বললেন,“এই বিটিয়া,তোরা তো ভূত ধরতে নেমেছিস!”

মিমি বললো,“আপনি কি করে জানলেন?”

সাধুবাবা হা হা করে হেসে বললেন,“আমি সব জানতে পারি, আমি অন্তর্যামি। এইসব করলে কারুর ভালো হবে না। না তোদের, না ওই ভূতের বাড়ির।”

এই বলতে বলতেই সাধুবাবা চলে গেলেন।

মিমি বললো,“কিরকম সাধুবাবা রে! আসলো, জ্ঞান দিলো, আবার চলেও গেলো! কিছু নিলোও না।”

তিয়ার বাবা বললেন,“দরকার নেই বাবা! এইসব ভূত নিয়ে গবেষণা করার, ছেড়ে দে।”

তিয়া বললো,“হ্যাঁ বাবা, তুমি ঠিকই বলেছ। সাধুবাবার কথা তো আবার ফেলাও যায় না। বুঝলি মিমি, ইনি হলেন একেবারে ইউনিক সাধুবাবা। চল মিমি, রিনিদের বাড়িতে একটু ঘুরে আসি। এখন তো তেমন কোনো কাজ নেই। ওকে একটা ফোন করি।” এই বলে তিয়া ভেতরে গেলো।

তিয়ার বাবা অবাক হয়ে বললেন,“এ আমি কোন তিয়াকে দেখছি!”

মিমি বললো,“তুমি যেখানে আমিও সেখানেই জেঠু।”




মিমি হতভম্ব হয়ে তিয়ার কান্ড দেখছে। তিয়া যে কি করছে সেটা বুঝতেই পারছে না। মিমি জিজ্ঞাসা করেছিলো, কেনো ওরা রিনির বাড়ি যাচ্ছে?

তিয়া বলেছিলো,“একটা স্কেচ করাবো। রিনি তো খুব ভালো স্কেচ করে।”

“কার স্কেচ?”

“কার আবার? সাধুবাবার। ঘরে টানিয়ে রাখবো।”

মিমির মাথাটা বনবন করে ঘুরতে শুরু করেছিলো। একি সত্যি তিয়া?

তাও বলেছিলো,“ছবি তুলে রাখলি না কেনো?”

“আমার চোখ‌ই যা দেখে রেখেছে, তাতে আর ছবির দরকার হবে না।”

এখন তিয়া রিনিকে দিয়ে একটা স্কেচ করাচ্ছে। হাত মুখ নেড়ে খুব বুঝিয়ে করাচ্ছে। প্রায় তিন ঘন্টার পরিশ্রমের ফলে স্কেচটা শেষ হলো। দেখতে হয়েছে একেবারে সেই গোঁফদাড়ি ওয়ালা সাধুবাবার মতো। রিনিদের বাড়ি থেকে ফেরার পর মিমি বললো,“তোর ব্যাপারটা কি বলতো? কি করতে চাচ্ছিস তুই?”

তিয়া বললো,“আমি তোকে সব বলছি। আর কালকে আবার বাগবাজারে যেতে হবে। তবে এবার রহস্য উদঘাটনের জন্য। কালকে অনেক কাজ আছে।”




আজ তিয়া মিমির সাথে তিয়ার বাবাও বাগবাজারে এসেছেন। তিয়া সমরেশবাবুকেও বলে রেখেছিলো। বাড়ির সবাই যেনো আজকে বসার ঘরে উপস্থিত থাকেন। কারণ আজ ভূতের রহস্য পুরোটাই সমাধান হয়ে যাবে। 



তিয়া বলতে শুরু করল,“আমাদের এই কেসটা মূলত ভূত নিয়ে। সমরেশবাবু আমাদের কাছে এসেছিলেন এই ব্যাপারে। বাড়িতে নাকি সব অদ্ভুত অদ্ভুত ঘটনা ঘটে। যেমন জিনিসপত্র পড়ে যাওয়া, ঘরের লাইট অফ হয়ে যাওয়া, তারপর একদিন ঠাম্মার ছায়া দেখার ঘটনা ইত্যাদি ইত্যাদি। আমরা তো ভূত বলে কিছু হয় না। তাহলে এগুলো কে করছে? সেক্ষেত্রে ধরা যেতে পারে এই কাজগুলো অশরীরী নয় সশরীরী করছে। এই বাড়িতে এসে বুঝলাম যে কয়েকজন চায় এই বাড়িটা বিক্রি হোক। তো প্রথম যেদিন আসলাম সেদিন মিসেস লাহিড়ীর কাছে জানলাম যে একজন চায় এই বাড়িটা বিক্রি করতে। সমরেশবাবু বা এই বাড়ির চাকর বৃন্দাবন, এরা কেউই চায় না যে বাড়িটা বিক্রি হোক। আর ঠাম্মার কথা বাদই দিলাম, তিনি কখনোই চাইবেন না নিজের শ্বশুরের ভিটে ছেড়ে যেতে।”

তিয়া দম নেওয়ার জন্য থামলে মিমি বলতে শুরু করলো,“মিসেস লাহিড়ী যার দিকে আঙুল তুলেছিলেন তা‍ঁর কথা প্রথমে বলে নেওয়া দরকার। তিনি এই বাড়ির বড়ো ছেলে অমরেশবাবু। তাঁর করার মোটিভ আছে। প্রথমত তিনি বেকার, ভাইয়ের পয়সায় বসে খান। আর দ্বিতীয়ত উনি নেশা করেন, তাই তার জন্য তো টাকাপয়সা লাগবেই। আর তাছাড়া প্রোমোটার রামানন্দ যোশী ওনাকে প্রোপোজাল দিয়েছিলেন। ওনার ঘরে রামানন্দ যোশীর কার্ডও ছিলো। তাই মোটিভ তো ওনার ছিলোই। কিন্তু তাও উনি কাজটা করেননি। রামানন্দ যোশীকে নাকি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। এমনিতেও উনি করতে পারতেন না কাজটা। যে নেশা করে টাকা ওড়ায় সে এই রকম কাজ করতে পারবে না। মিসেস লাহিড়ীও চেয়েছিলেন এই বাড়িটা বিক্রি হোক। কিন্তু তিনি কারুর সাথে যোগাযোগ করে উঠতে পারেননি। অনেকবার সমরেশবাবুকে বলেছেন, কিন্তু লাভ হয়নি খুব একটা। এসবের পেছনে একজন তীক্ষ্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের মাথা কাজ করেছে।”

তিয়া বলতে শুরু করলো,“পরশুদিন রাতে আমার বাড়িতে একটা চিঠি আসে, হুমকির চিঠি।  যেখানে লেখা ছিলো- 

                  'ভূতকে ধরতে চাইলে,

                   বেঘোরে প্রাণ যাবে চলে।'

তো বোঝাই যাচ্ছে অপরধী কেসটা বন্ধ করে দেওয়ার জন্যই এই চিঠিটা পাঠিয়েছিলো।  আমার বাবা আমাদের কেসটা বন্ধ করে দেওয়ার কথাও বলেছিলেন। কিন্তু কালকে সকালে আরো একটা ঘটনা ঘটলো। একজন সাধুবাবা আমাদের বাড়ি আসলেন। তিনি নাকি অন্তর্যামি, সব জানেন। তা সেই অন্তর্যামি বাবা আমাদের কেসটা বন্ধ করে দেওয়ার কথা বললেন। এবার আপনাদের সেই সাধুবাবার একটা ছবি দেখাই।” বলে তিয়া নিজের ব্যাগ থেকে রিনির আকাঁ সাধুবাবার ছবিটা বার করে। সেটা খুলে সবাইকে দেখিয়ে বলে,“জানেন এই সাধুবাবার সাথে আশ্চর্যভাবে একজনের মিল পাচ্ছিলাম। তাই আমার বন্ধুকে দিয়ে এই স্কেচটা করালাম। তাও যেনো ঠিক বুঝতে পারছিলাম না। তাই আরেকটা স্কেচ করালাম,  সেটা চুল দাড়ি বাদ দিয়ে।”

তিয়া কথাটা শেষ করতেই অঞ্জনবাবু ছুটে ঘর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেন।

মিমি চিৎকার করে উঠলো,“পালিয়ে লাভ নেই অঞ্জনবাবু। বাইরে পুলিশ অপেক্ষা করছে। তাই এই ঘর থেকে বেরোবার চেষ্টা করবেন না।”

অঞ্জনবাবু থেমে ধপ করে একটা চেয়ারে মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়লেন।

সমরেশবাবু বুঝতে না পেরে বললেন,“এইসব কি হচ্ছে? তুমি ওই সাধুবাবার সাথে কার মিল পেয়েছিলে রুপকথা?”

তিয়া ব্যাগ থেকে আরেকটা কাগজ বের করে বললো,“এটা সেই ছবি যেটা সাধুবাবার‌ই, কিন্তু দাড়ি গোঁফ ছাড়া। দাঁড়ান আমিই সবাইকে দেখাচ্ছি।”

তিয়া দুটো ছবিকে পাশাপাশি দাঁড় করিয়ে দেখালো। দাড়ি গোঁফ ছাড়া ছবিটা হুবহু অঞ্জনবাবুর মতো দেখতে। 

মিমি বললো,“অঞ্জনবাবু এই সবের পেছনে রয়েছেন। ওনার ওপর সন্দেহ আমাদের কারুরই ছিলো না। কারণ উনি ওনার ব্যবহার দিয়ে সবাইকে ইমপ্রেস করেন। তারপর কালকে এই ছবিটা পাওয়ার পর একটু খোঁজখবর করি আমরা। আর জানতে পারি যে উনি প্রোমোটার যোগিন্দর সিং এর সাথে যোগাযোগ করেন। যোগিন্দর সিং ওনাকে বলেছিলেন যে বাড়িটা তাকেই পাইয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। তাই উনি এসব করেছেন।”

অঞ্জনবাবু চেঁচিয়ে বললেন,“তো কি করতাম আমি! এই বাড়িতে এইভাবে আশ্রিত হয়ে পড়ে থাকতাম!  আমার এখানে কোনো ভবিষ্যৎ নেই, কিছুই নেই। টাকাটা নিয়ে এখান থেকে চলে গেলে অনেককিছু করতে পারতাম।”

সমরেশবাবু তিয়াকে বললেন,“অঞ্জনকে আর পুলিশের হাতে তুলে দিতে হবে না রুপকথা। ওর ব্যবস্থা আমরা করছি। তুমি ওনাদের চলে যেতে বলো। আর এই নাও তোমাদের পারিশ্রমিক।” এই বলে উনি ওনার পকেট থেকে একটা খাম বের করে তিয়ার হাতে দিলেন। যাতে ছিলো পঁচিশ হাজার টাকা।

                           সমাপ্ত

                       ----------------

সৃজা সরকার ও অদৃজা সরকার ©

Wednesday, 5 May 2021

মৃত্যুমিছিল

 একটা আর্কাইভ তৈরি হয়েছে সাথে একটা এক্সপিরিয়েন্স হল , নগরীর মাঝামাঝি , কিন্তু ভীষণ চুপচাপ , প্রতি ঘন্টার নিরিখে খরচ আসে ; কাজটা সহজ , মানুষ তালাবন্দি হতে আসে , যাকে বলে স্মৃতির নষ্টালজিয়া ৷ মসনদ তেত্রিশ থেকে পয়তাল্লিশে যাচ্ছেনা আর , আটকে গেছে , রটনা ঘটনার কত আলােচনা ভেসে আসার প্রচেষ্ঠায় ভেঙে যায় মিউজিয়ামের দেওয়ালে ঝা চকচকে ভবন , ভবনের অর্ধঈশ্বর তাঁর বাণী নিখুত ভাবে পারফেক্টলি বিদ্যমান । জল , হাইড্রজেন , গুমাের , ঠিকঠাক থাকার ইতিহাস পাতায় পাতায় , আর বাকি উনিশ বিশের হিসাব কেবলে নিন্দুকের অভাব ? রাজসাক্ষী আছে , যথেষ্ট । চাল , ডাল , সজি , জগন্নাথ থাকার রেকর্ডও আছে , ‘ লজ্জার ইতিহাস বলে গাল মন্দ করার হয় ফুসফুসশুকিয়েছে নয় ঘিলু , চাঞ্চল্য ছড়িয়ে রাজা , সেনাপতি , ও অন্যান্যরা অশ্বমেধের ঘােড়া ছুটিয়েছেন । রাজসভায় শুধু একটা গােপাল ভাঁড় নেই , আর নেই প্রজাদের কিছু গুরুজন , আপন আত্মীয় , জব , মেডিসিনের সাপ্লাই , চন্দন কাঠ ইত্যাদি ; এটুকুই ।।

  KASHI ©

মনে পড়ে যায় সেই হৃদয় দেবার তিথি দুজনার দুটি পথ মিশে গেল এক হয়ে নতুন পথের বাঁকে।

 মনে পড়ে যায় সেই মন দেওয়ার তিথি, আজও মনে আছে সব, ভুলতে পারিনি অনেক সময় গেছে বিতি । সেদিন ছিলো পূর্ণিমা রাত যেনো জ্যোৎস্না স্নাত প্ৰহেলিক...