Sunday, 1 August 2021

অন্য হত্যা

 মানবিক নৃশংসতা বড়ই কঠোর,


আড়ালে আবডালে ক্রমে ক্রমে


হিংসার বীজ বপন করছে, সত্য কাজে ব্রতী না হয়ে পর নিন্দায় মেতে উঠেছে সমাজ৷ সামাজিক বিবাহে স্বয়ং সম্পূর্ন এক কন্যা যে উঠেছে শশুর বাড়ি,


রূপ গুণের জাকজমকে


পুরো সংসারে সে ধন্যি মেয়ে কিন্তু শাশুড়ি তার বড়ো খিটখিটে,


শ্বশুর তার বদ মেজাজি, স্বামী যখন আফিস কক্ষে, শ্বশুর-শ্বাশুড়ি বলে তাকে সয়তানি; বলে এ শাকচুন্নি বিয়ে করে আসলি ঘরে কোথায় গেলো অর্থের হাড়ী....


অর্থ বিনা এ ঘরে কেনে তুই এলি৷ উঠতে বসতে কথার মারপ্যাচে সে হয় অপমানি স্বামী যখন গৃহে ফেরে, তখন শ্বশুর-শ্বাশুরি বলে এ বধূ যে চরিত্রহীন নারী। কলঙ্কের দাগ সইতে না পেরে, মানসিক চাপে জর্জরিত হয়ে এক রাশি বেদনা বহন করে; সে আজ প্রাণ ত্যাগী।


কৌশিক পাল ©

অন্য হত্যা

ডাকাতবাঁশি, রঙবেরঙের সুরের বাহার আরশিজলে পূর্ণিমার ঐ চাঁদ ভাঙে হায়... বনপলাশে লাগলে আগুন মন পোড়ে কার! পাপড়িঝরা পথ বেয়ে রোজ দিন চলে যায়।


ক্লান্তিকাজল চোখের পাতায়, সন্ধ্যে কাবার; লক্ষ স্মৃতির জোনাকবাতি রাত্রি সাজায় ভিজলে মাটি শ্রাবণধারায় মন মরে তার বৃষ্টি-আঙুল মেঘ-পিয়ানোয় ছন্দ বাজায়৷


–বর্ণচোরা ©

গ্রহণ - বর্জন

 মানুষের জীবন-পট, আমাদের ছয় ঋতুর মতোই, বড় বৈচিত্র্যময়। কখনো সে রাত্রির শহর, কখনও সুশীতল গাছের ছায়ার বহর, কখনও কবিতার দেশ, কখনও পিকাসো, কখনো বৈষ্ণব পদাবলী, কখনও কবীর সুমন। ক্লিষ্ট চলাফেরাতেও নাজেহাল অবশ‍্য মাঝে-সাঝে। এতকিছুর গ্রহণের মধ‍্যেই আমাদের বেঁচে থাকা....বয়ে চলা।

          আমরা যেটাকে উচ্চাকাঙ্খা বলে থাকি, তা আমাদের মনে বেশ উঁচু স্থানেই থাকে, মানে আর সকলের থেকেও উঁচুতে, কিন্তু লক্ষ‍্য হয়ে যায় অন‍্য, তাই উচ্চাকাঙ্খারও অবনতি হয় দড়াম্ করে। গ্রহণ করব বলে যাকে সাধনার মাধ‍্যমে স্বাগত জানাবো, তাকে যদি অন‍্য অভিপ্রায়ে অন‍্যদিকে ঠেলে দেয়া হয়, তবে পরে সময়ের সাথে সাথে আমাকেই সে বর্জনের রাস্তায় নিয়ে গিয়ে ফেলবে।
   আমি শুনেছি, সাধকদের জন‍্য অপেক্ষা করতে হয়। তাঁরা যখন আসবেন, তখন আসবেন, তাঁরা এমনই দীন বেশে আসবেন যে, আমরা সাধারণরা তাঁদের আগমণ বার্তা জানতে পারবো না। কিন্তু ঐ যে ভালো কিছুর জন‍্য যে সাধন-ভজন আমাদের মাধ‍্যমে করা হয়েছিলো, সেটাই আমাদের প্রত‍্যেকের জন‍্য গ্রহণীয় সম্পদ।
    রবি ঠাকুর এক জায়গায় বলেছেন, যেখানে সংসারে চারিদিকেই ভালো-মন্দের তরঙ্গ ওঠা নামা করছে, সেখানেই ভালোকে সঠিকভাবে চেনা যায়। কাঁটার পরিচয় যেখানে নেই, সেখানে কাঁটা বাঁচিয়ে চলার শিক্ষা হবে কেমন করে....ঠিক সময়ে ঠিক জিনিসটার বর্জন মানুষ এমনভাবেই শেখে।
     তাই আদর্শ যেমন সত‍্য, তাকে গ্রহণ করার জন‍্য মানবমনে আকাঙ্খাটা থাকাও সত‍্য। আবার এই আদর্শের ব‍্যাঘাতও কিন্তু সত‍্য....এই ব‍্যাঘাতকে এড়াবার জন‍্যই কিছু বর্জন অত‍্যাবশ‍্যক হয়ে পড়ে......যা চলতি সত‍্যকে চিনতে, জানতে শেখায়।  ভালো-মন্দর, গ্রহণ-বর্জন নিয়েই পূর্ণ মানবমন।

Begum Shamima Akhtar ©

মনে পড়ে যায় সেই হৃদয় দেবার তিথি দুজনার দুটি পথ মিশে গেল এক হয়ে নতুন পথের বাঁকে।

 মনে পড়ে যায় সেই মন দেওয়ার তিথি, আজও মনে আছে সব, ভুলতে পারিনি অনেক সময় গেছে বিতি । সেদিন ছিলো পূর্ণিমা রাত যেনো জ্যোৎস্না স্নাত প্ৰহেলিক...