জানলা থেকে বাইরের দোদুল্যমান বিশাল গাছটার দিকে তাকাতেই ওর মনে পড়ে গেল যে ও একদিন স্বপ্ন দেখেছিল যে ওর এই চোখটা একদিন বাইনোকুলারের কাঁচের এপার থেকে দেখবে সাদা বরফে ঢাকা অজস্র পাহাড় যার কোনো একটা দিয়ে ঝরে পড়বে রূপলী জলস্রোত যা ওর ছোট্টো ঘরটার পিছন থেকে বয়ে যাবে। খানিকক্ষণ স্তব্ধ থেকে ও ধীরে ধীরে কল্পনায় ভেসে গেল," সারাদিনের খাটনির পর যখন ও ওর ছোট্টো একতলার ঘরের বাইরের সামনের দুপাশের বাগান শেষে কাঠের দরজাটা ঠেলে বাগানের চৌহদ্দিতে পা দেবে, তখন হয়তো একটা দমকা হাওয়ায় ওর মনে পড়বে কিছু পুরোনো কথা" । হঠাৎ ওর তন্দ্রা ছুটে গেল ঠাম্মার ভর্ৎসনায়। ও ফিরে এল ক্রূঢ়বাস্তবে, ওর মনে পড়ল কী ভাবছে ও? ভাবনার জগতে ভাসতে ভাসতে ভুললো নাকি ও সব? ও কি ভুলল ওর বাড়ি কোনো পাহাড়ের পাদদেশে নয়, ও থাকে কলকাতার একটি জঞ্জালে, যার আকাশ বলতে খোলা জানলার বাইরের এই গাছটা। ভাবতে ভাবতে ওর নিশ্বাসটা বন্ধ হয়ে এল। ইচ্ছা করল এক ধমকে থামিয়ে দেবে প্রত্যেকটা মানুষের মুখ। তারপর নিজেকে সংযত করতে গিয়েই ও কেঁদে ফেলল। আর ওর ওপর বর্ষণ হল হাজারো প্রশ্নের বারি। যার কোনো উত্তর ওর কাছে ছিল না, নেই এবং ভবিষ্যতেও থাকবে না।
এইরকম অসামঞ্জস্যতার মধ্যে দিয়েই চলছিল ইচ্ছের জীবন। যেখানে ওর মনের ভাষা বোঝার মতো কেউ ছিল না। অন্যদিকে একই পরিস্থিতিতে জড়িয়ে ইন্দ্রিকাও খুঁজে বেড়াচ্ছে নিজের মুক্তির পথ। দুটো অচেনা শরীর, কষ্ট এক।
দুজন এমনি দুজনকে চেনে না। ইচ্ছে উচ্ছাসের মুখে ইন্দ্রিকার নাম শুনেছে বারকয়েক। আর অবাক হয়ে ভেবেছে কিভাবে সম্ভব এত মিল? কিন্তু ও ভালোই বুঝেছিল যে, ইন্দ্রিকা তার মতো মুখ বুঝে সব সহ্য করে না।
সারাদিনের খুটিনাটি ইচ্ছের কাছে গল্প না করলে উচ্ছাসের দিন পেরত না। ইচ্ছেও উচ্ছাসকে না জানিয়ে কিছু করতনা। তাই দিনের শেষে দুই বন্ধু একে অন্যের অভিজ্ঞতা চারণ করে নিত। সেই সুবাদেই ইন্দ্রিকার কথা শুনে ইচ্ছে মনের মধ্যে ইন্দ্রিকার একটা ছবি সাজিয়ে ফেলেছিল। উচ্ছাস ইন্দ্রিকাকে বড্ডো ভালোবাসে।
যখন ঠাম্মার প্রশ্নে জড় জড়িত হয়ে ও টঠস্ত, সেই সময়েই ওর পাশ থেকে বেজে উঠলো," আমি তোমারো বিরহে রহিব বিলীন, তোমাতে করিব বাস"। এতদূর বাজার পরই ইচ্ছের চোখ গেল পাশে পড়ে থাকা ফোনের দিকে। ও জানত ফোনটা উচ্ছাসই করেছে, কারণ সে ছাড়া কেউ আজও পর্যন্ত এত ঠিক সময়ে ওকে ফোন করেনি। কিন্তু না, আবারও নিজেকে অসহায় অনুভব করল ও! ফোনটা এসেছে একটা অচেনা নম্বর থেকে। মুহুর্তে ওর চোখের চাহনি বদলে গেল। ওর ভাবতেই বিরক্ত লাগল যে হয়তো ফোন তুললেই ওপার থেকে ভেসে আসবে কোনো কোম্পানির ফোন যাদের জীবনের একমাত্র লক্ষ্য হল ভুল সময়ে ফোন করে ওর ব্যক্তিস্বাধীনতা নষ্ট করা। সাত পাঁচ ভাবতে ভাবতে বারোর হিসাব না মিলিয়েই মুখটাকে বাংলার পাঁচ করে হ্যালো বলার পরই ও স্তব্ধ হয়ে গেল। ওদিক থেকে কথা ভেসে এল, সে কি গভীর কন্ঠস্বর, যেন কথা বলার ভঙ্গি শুনেই মানুষটার চেহারার বর্ণনা করতে পারবে ও। মানুষটা ওপার থেকে এবার খানিকটা ইতস্তত হয়ে বলল," ইচ্ছে, আমি ইন্দ্রিকা।" এতটুকু শুনেই ও নিজের মনের মধ্যে হাজার প্রশ্ন বেঁধে ফেলল। ও প্রশ্নগুলো নিজের মনে চালাচালি করছিল এমন সময় ইন্দ্রিকা ওর উত্তেজনায় বাঁধ দিয়ে বলল, “ আসলে উচ্ছাস আমায় একবার তোমার সাথে কথা বলতে বলল, ওকে অনেক বুঝিয়েছি যে আমি চাইনা কোনো সম্পর্ক, বিশ্বাস করতে চাইনা কাউকে। তাও ও অবুঝের মতো জেদ করল, বলল আমি যেন একটিবার তোমার সাথে কথা বলি। তাহলে নাকি আমার মতামত বদলে যাবে"। আড়াই মিনিট কথা বলার পর ইন্দ্রিকার সাথে দেখা করার দিন, সময় সবটা ঠিক করে ফোনটা রেখেই ওর চোখ গেল ওর ঠাম্মার দিকে। তাঁর চোখ দুটো যেন প্রায় কৌতুহলী দৃষ্টি দিয়ে গিলে খেতে এল ওকে। লেকের ধারে বসে ইচ্ছের জন্য অপেক্ষা করতে করতে লেকে আবহমান বাতাস ও জলস্রোতের সাথে সবেই ভেসে যাচ্ছিল ইন্দ্রিকা, হঠাৎ ওর চোখ গেল অদূরে ক্ষনিকের জন্য তৈরি হওয়া একটা জটলায়। একজন মাঝ বয়সী ভদ্রলোক গম্ভীর মুখে ওর খানিক দূরে বসে থাকা জুটির সামনে এসে দাঁড়ালেন, মেয়েটির হাত ধরে টেনে তুললেন আর ছেলেটির উদ্দেশ্যে বললেন," প্রয়োজন ও সাহস থাকলে পরের বার থেকে ঘরে এসে ওর সাথে দেখা করে যাবে!" এই বলে সে মেয়েটিকে নিয়ে চলে গেলেন। দৃশ্যটা দেখে ইন্দ্রিকার গত পড়শু রাতের কথাটা মনে পড়ল। তখন রাত ৯'টা, বাইরের প্রবল ঝড়বৃষ্টির জন্য বাড়ি ফিরতে না পেরে যখন ও বাবাকে ফোন করল, ফোনটা দুবার বেজে গেল ওপার থেকে কোনো উত্তর এল না। রাত এগারোটায় বাড়ি ফিরে দেখেছিল বাবা খেয়ে দেয়ে ঘুমাচ্ছে আর পিসি রুটি বানাতে বানাতে কেনো দেরি হয়েছে সেটাই জানতে চাইছে করুন সুরে। ওর বাবাকে দেখেই রক্ত চড়ে গেল ওর মাথায় আর সেই রাগ গিয়ে পড়ল পিসির ওপর। মাথা ঠান্ডা হতে পিসিকে সব ব্যাখ্যা করে বলতে গিয়ে ওর দম বেরিয়ে গেছিল সেদিন। ঘটনাটা মনে পড়তেই 'বাবা' শব্দটায় হাসি পেল ওর। নিজের জীবনের এই অসাধারণ স্রোতের কথাই ভাবছিল বসে বসে, হঠাৎই কেউ পিছন থেকে ডাকল ওকে। ডাকটা শুনেই ওর মনে হল কতকাল কেউ ওকে এত আদর আর যত্ন ভরা সুরে ডাকেনি। তবে হ্যাঁ, উচ্ছাসের ডাকেও এই হৃদ্যতা থাকে। কিন্তু ইন্দ্রিকার মন কিছুতেই তা বিশ্বাস করার সাহস দেখায় না। ওর মন জানে যে সময়ের সাথে সাথে উচ্ছাসও একদিন ওর বাবার মতো ঔদাসিন্য দেখাবে। ভাবতে ভাবতে ঘাড় ঘুরিয়ে দেখল ওরই বয়সী একটা মেয়ে। স্বাস্থ্য দেখে সম্ভ্রান্ত পরিবারের মেয়ে মনে হলেও চোখে যেন সুখ নেই বলে মনে হল। কিন্তু হাসিটা বড্ডো মিষ্টি, যেন কতদিনের চেনা। ইন্দ্রিকা ঘাড় ঘোরানো মাত্রই ইচ্ছের হৃদকম্পনটা কেমন যেন বেড়ে গেল। পরবর্তী দেড় মিনিটে যখন ইন্দ্রিকা নিজের পরিচয় দিয়ে ওর বিষয়ে জানতে চাইছিল তখন ও একটা ঘোরের মধ্যে হারিয়ে গেল ইন্দ্রিকার চোখের গভীরতায়। ফোনে যে গভীরতার আঁচ ও পেয়েছিল সামনাসামনি তা আরও প্রবল। চোখগুলো বড়ো নয়, কিন্তু কি যেন একটা মায়া তাতে, ও বুঝল না। কোমর ছাড়িয়ে লম্বা লম্বা চুল গুলো হাওয়ার সাথে তাল মিলিয়ে এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে,তার সাথে ইচ্ছের সব কষে আসা হিসাবও।
ইন্দ্রিকার ঝাঁকুনিতে ইচ্ছে আবার ফিরে এলো বাস্তবে,আর নিজের পরিচয় দিতে গিয়ে হু হু করে বলে ফেলল নিজের অতীত,বর্তমান সব,কিভাবে ওর বাবার অতিরিক্ত শাসন ওর দম বন্ধ করে দেয়,কিভাবে ওর মা পরোক্ষ ভাবে ওর উপর সব বিষয় চাপ সৃষ্টি করে,কিভাবে ৫বছর আগে ওর বনির চলে যাওয়ার পর থেকে ও একা......... সব সব সব......ও বলা শেষ করে ইন্দ্রিকার দিকে তাকাতেই খেয়াল করল ইন্দ্রিকার ঠোঁটের কোণে হাল্কা হাসি আর চোখের কোণে জল। এই কান্না মেশানো হাসি হয়তো এটাই ভেবে, যে দুজনের পরিস্থিতি কত আলাদা তাও ওদের মানসিক অবস্থার কি অপরিসীম মিল।
পরশু রাতের কথা টা ইন্দ্রিকার আবার মনে পড়ে গেল,ও কিছু বলতে যাবে এমন সময় ইন্দ্রিকা ওকে জড়িয়ে ধরে ভেঙে পড়ল।গত তিন বছরে শক্ত করে জমিয়ে রাখা সব ক্ষতের ঠিকানা খুঁজে পেল হয়তো ওর একা হৃদয়টা।
পাক্কা পৌনে তিন ঘণ্টা গল্প করার পর যখন সবেই দুজনে একসাথে উচ্ছাসের নাম উচ্চারণ করল,ঠিক সেই সময়েই ইচ্ছের ফোনে ওর নাম টা উজ্জ্বল হয়ে উঠল....ফোন বাজল....আর দুজনেই একসাথে হো হো করে হেসে উঠল।
ফোন তোলা মাত্রই উচ্ছাসের হম্বিতম্বি শুরু, ''কি রে? কোথায় তুই?কটা বাজে? ইন্দ্রিকা কই?তুই জানিস না এই সময় তুই আমার সাথে থাকিস?ইন্দ্রিকা কে পেয়ে আমায় ভুললি? বাঃ রে বাঃ''....ইন্দ্রিকা ওর হাত থেকে ফোন টা নিয়ে হাসতে হাসতে ব্যঙ্গ করে বলল, "ইচ্ছে আমায় তোর থেকে অনেক বেশি ভালোবাসে" বলেই মুখ ভেঙিয়ে ফোন টা কেটে দিল।
আর দুজনেই হাত ধরাধরি করে হেসে লুটোপুটি খেল। এত প্রাণ খোলা হাসি ওরা কত বছর হাসেনি, একে অন্যের হাত ধরে এইভাবে হাসতে হাসতে ওরা ভুলেই গেছিলো যে এই মুহূর্তে ওদের দুজন কে দুটো আলাদা রাস্তায় হাটতে হবে, এখন সত্যি একটাই, ইচ্ছের হাতের মুঠোয় ইন্দ্রিকার হাত, একটা শক্ত বাঁধন-পলকা ডোর।
বাড়ি ফিরতেই উচ্ছাস হাজারো প্রশ্ন নিয়ে চড়াও হল ইচ্ছের উপর,"এতক্ষণ কিসের গল্প? খালি আমার নামে নিন্দে করলি? যে কাজে পাঠিয়েছিলাম তা তো কিছুই করিস নি!!!! ", তারপর একটু হেসে অন্যমনস্ক হয়ে বলল, "কিন্তু জানিস এই দেড় বছরে এই প্রথমবার ওকে আমি এত হাসিখুশি দেখলাম, কি করলি রে তুই?যে ও হঠাৎ এত বদলে গেল? এতদিনে কোনোদিন ও আমার সাথে এইভাবে হেসে কথা বলেনি", তারপর ইচ্ছের হাত ধরে বলল," তুই পারবি ওকে বোঝাতে,তুই ওকে বোঝানা যে আমি ওর বাবার মত করব না! আমি ওকে খুব ভালোবাসি"
কথা টা শুনে ওর মনে পড়ে গেল সেই মুহূর্তটা, যখন ইন্দ্রিকা ওর ছায়ায় মুখ লুকিয়ে কাঁদছিল, যখন ওরা একে অন্যের হাত ধরে হাসছিল অন্তর থেকে, তারপর জোরে জোরে মাথা নাড়ল দুবার, যেন ঝাড়া দিয়ে ফেলে দিল ওর ভাবনাগুলোকে। তারপর উচ্ছাসকে বলল,"শোন, দায়িত্ব যখন দিয়েছিস ভরসা রাখ,ছটফট করে আমার মাথা চিবিয়ে খাস না। ভালো কিছু করবি তবে না বলব, হুঁ.... এখন যা.....দূর হ....."
এরপর কেটে গেল চারমাস, এই চারমাসের প্রায় একশো বাইশ দিনে ইচ্ছে আর ইন্দ্রিকা প্রায় পঞ্চাশ দিন ঘুরে বেড়িয়েছে কলকাতার অলিতে গলিতে, কখনও অফিসের পর,কখনও কোচিনের পর,ইন্দ্রিকা ইচ্ছেকে ছাড়া এক মুহূর্তও কল্পনাও করতে পারে না আর এই চার মাসেই ইচ্ছের দৌলতে উচ্ছাস আর ইন্দ্রিকা কাছে এসেছে অনেকটা, ইন্দ্রিকার মনের ভয়টা আর নেই, সেও এখন একটু একটু করে ভালোবাসছে উচ্ছাসকে। কিছুদিন পর ইচ্ছে জানলার বাইরে চেয়ে বসেছিল। হঠাৎই উচ্ছাস ছুটে এলো, ওর মুখে আজ অন্যরকম হাসি।
দৌড়ে এসে প্রথমে ইচ্ছে কে জড়িয়ে ধরল তারপর ওর কপালে একটা চুমু খেয়ে বলল,"ইন্দ্রিকা আজ আমায় হ্যাঁ বলেছে"। কথাটা বাজের মত গিয়ে পড়ল ইচ্ছের কানে,ওর মনে পড়ে গেল প্রথম দিনের 'ইচ্ছে আমি ইন্দ্রিকা' থেকে কিছুক্ষণ আগে পর্যন্ত ওর হাতের মুঠোয় ইন্দ্রিকার হাতের স্পর্শের কথা...... তখন আর ওর হৃদস্পন্দন চলছে না ঠিক করে। সবটাই যেন নিস্তব্ধ।
কোথা থেকে আসছিল কষ্টগুলো?
চোখের জল লুকাতে পিছন ফিরল ও আর হাসতে হাসতে বলল,"দেখ রে দেখ কি ক্ষমতা আমার.....দেখ শুধু...এবার অন্তত একটা ট্রিট দে ভাই"।
উচ্ছাস আজ গম্ভীর, বলল,"তুই সত্যিই এটা করতে পারলি?! যে মেয়েটা আমাকে বিশ্বাস করতে ভয় পাচ্ছিল তাকে তুই....!!কি করে পারলি ইচ্ছে?" ইচ্ছে একটা উদ্ধত দৃষ্টি দিয়ে বলল,"যদি ওর প্রতি তোর ভালোবাসাটা মিথ্যে হত, তাহলে আজ ইন্দ্রিকাকে তোর থেকে ছিনিয়ে নিতাম"
উচ্ছাস একটু অপ্রস্তুত হয়ে কথাটা হেসে উড়িয়ে দিয়ে বলল,"যাহ.... আমি আজই সিরিয়াস,আর তুই আজই এরকম মজা করছিস....তুই ওইরকম নাকি?" ইচ্ছে অম্লান নিশ্চল চোখে বলল, "যদি হইও সেটা কি দোষের হবে?" কিছুক্ষণ সময় থমকে গেল... ইচ্ছে অট্টহাস্য হেসে বলল, "চল ভাগ এখান থেকে... যত আলফাল বকছিস... যা প্রেম কর গিয়ে" বলেই দরজাটা উচ্ছ্বাসের মুখের ওপর বন্ধ করে হাসতে হাসতে বিছানায় এসে বসল। উচ্ছ্বাসের বলা কথাগুলো মনে পড়ে উন্মাদের মতো হাসছে ও... তারপরই চিৎ হয়ে শুয়ে পড়ল, নিস্তব্ধ - নিশ্চল। আর দু'চোখের কোল বেয়ে ঝরে পড়ল ওর স্বপ্নের রুপোলী স্রোত। দশদিন পর রেল স্টেশনে সেই পুরনো দৃশ্য! ইচ্ছের হাতের মুঠোয় ইন্দ্রিকার হাত, রাত ন'টা, ইচ্ছে একটা চাকরি পেয়েছে সিমলার চা বাগানের মালিকের পি. এ.। উচ্ছ্বাস কান্না চেপে বলল, "জানোয়ার, বেইমান... পরশু আমাদের বিয়ে আর তুই চললি" বলেই কান্না লোকাতে পাশ কাটিয়ে বেরিয়ে গেল। ইন্দ্রিকা পাগলের মত কাঁদছে ওকে জড়িয়ে ধরে, ট্রেন হুইসেল দিতেই ওদের সেই শক্ত বাঁধন ছিঁড়ে গেল এক নিমেষে, ইচ্ছে চলে গেল। ইন্দ্রিকা মাঝ স্টেশনে বসে পড়ে কাঁদল আরও খানিকক্ষণ।
প্রায় তিন মাস কেটে গেছে, ইচ্ছে কাজ থেকে বাড়ি ফিরল, ওর স্বপ্নের সেই দৃশ্য আজ পূর্ণতা পেল। সেই কাঠের দরজা ঠেলে দু'পাশের বাগানের চৌহদ্দিতে ওর পা পড়তেই বাগানের ফুলের গন্ধে ও অনুভব করল ইন্দ্রিকার গন্ধ, ওর মনে পড়লো সেই কাটানো মুহূর্তগুলো... আজ ওর ঘরের ছ' ফুটের দক্ষিণের জানলার বাইরে দেখা যায় বরফে ঢাকা পাহাড় আর ওর স্বপ্নের সেই রুপোলী স্রোত... ইন্দ্রিকা আর উচ্ছাসের সাথে প্রায় রোজই কথা হয়। খুব ভালো আছে ওরা... ছোটখাটো খুনসুটি, ঝগড়াঝাটি নিয়ে। আজও ফোন করে দুজন দুজনের নামে নালিশ করল তারপর একসাথে হেসে উঠলো। আর ও ওদের জানালো যে মেঘার্ঘ ওকে জানিয়ে দিয়েছে যে ও যদি বিয়ে করতে না চায় তবে মেঘার্ঘ ওর সাথে এই ভাবেই থাকবে বাকি জীবনটা... কারণ ও ছাড়া নাকি পৃথিবীর কোন মেয়েই মেঘার্ঘের জন্য নয়...
সমাপ্তি.....
শরতিনী রায় ©
Khun sundar
ReplyDelete