সেদিন সন্ধ্যা বেলায় তিয়ার মা তখন সন্ধে দিচ্ছিলেন। এমন সময় কৃষ্ণনগর থেকে তিয়ার বড়ো মামা ফোন করলেন। তিয়া সে সময়ে পড়ছিলো। মা তিয়াকে বললেন ফোনটা ধরতে।
ফোনটা ধরার সঙ্গে সঙ্গে তিয়ার মামা খুশি গলায় বললেন,“কে? তিয়া বলছিস? ভালো আছিস তো? বাবা কোথায়? মা কি করছে?”
তিয়া প্রশ্নবাণে জর্জরিত হয়ে শেষের প্রশ্নটারই উত্তর দিলো,“মা ঠাকুরকে সন্ধে দিচ্ছে।”
“আচ্ছা বেশ। তা তোরা তো টাকিতে গিয়ে বুলির (তিয়ার মাসির) বাড়িতে খুব অ্যাডভেঞ্চার করলি। তাই এই কৃষ্ণনগর আর মামার বাড়িটাকে নিশ্চয়ই ভুলে খেয়েছিস।”
তিয়া বললো,“না, না তা নয় বড়ো মামা। আসলে আমার এই কদিন পরীক্ষার চাপ ছিলো একটু। তাই ফোন করে ওঠা হয়নি।”
“থাক আর অতো বাহানা দিতে হবে না। শোন, কালকে আমি একটা কাজে কলকাতায় যাবো। ভাবছিলাম তোদের বাড়িতেও যাবো। তোর দাদু দিদা অনেকদিন তোকে দেখেনি। তাই ওরা বলছিলো তোকে নিয়ে আসতে। আর তোর ওই যে বন্ধু আছে মিমি, তাকেও দেখতে চায়। সেইজন্য আমি তোদেরকে নিয়ে কিছুদিনের জন্য কৃষ্ণনগরে নিয়ে আসবো। তার জন্য কিন্তু কাল ব্যাগপত্র গুছিয়ে রাখিস। কদিন তোরা এখানে এসে থাকবি, ঘুরবি, খাবি আর মজা করবি। ঠিক আছে?”
“হ্যাঁ, আমাদের তো কোনো অসুবিধা নেই। কিন্তু বাবা...”
বড়োমামা তিয়াকে কথা শেষ করতে দিলেন না। বললেন,“তোর বাবার সাথে আমি কথা বলে নেবো। তোকে অতো পাকামি করতে হবে না। রাখলাম।”
তিয়ার মনে আনন্দ আর ধরে না। কিছুদিন ধরেই মামারবাড়ি যেতে খুব ইচ্ছা করছিলো। সেই ইচ্ছা যে নিজে থেকেই এভাবে পূরণ হয়ে যাবে সেটা ভাবেনি।
তিয়ার মামারবাড়ি আসলে একটা বনেদি বাড়ি, যৌথ পরিবার। বাড়িতে আছে দাদু, দিদা, বড়োমামা, বড়োমামি, পিকলু দা (বড়োমামার ছেলে), পিসিদিদা আর ছোটোমামি। ছোটোমামার এই কদিন আগেই বিয়ে হলো। ছোটোমামা কাজের সূত্রে বাইরে থাকে। কিন্তু ছোটোমামির কাজ এখানে বলে ছোটোমামি এখানেই থাকে। বলতে গেলে একেবারে ভরা সংসার।
দাদুর একমাত্র বোন হচ্ছে পিসিদিদা। দাদুদের সাথেই থাকে। স্বামী মারা যাবার পর ছেলেকে নিয়ে দাদুর বাড়িতেই ওঠেন। শানু মামা এখানে থাকে নি। মুম্বাইয়ে কোথায় একটা প্রাইভেট ফার্মে চাকরি করে।
তিয়ারা বাড়িতে ঢুকতেই দেখলো সবাই কেমন মনমরা হয়ে আছে।
বড়োমামা বললেন,“কিগো? মেয়েদুটো বাড়ি এলো, আর তোমরা এরকম মুখ শুকনো করে রয়েছো! হয়েছেটা কি?”
বড়োমামি বললেন,“আরে বাবা, হয়েছে তো অনেক কিছুই। আসলে আজকে বাবা সকালে আলমারিটা খুলে দেখছিলেন,বুদ্ধমূর্তিটি ঠিক আছে কিনা, যেটা প্রত্যেকদিনই খুলে দেখেন। আজকে মূর্তিটা আলমারিতে নেই।”
“সেকি কথা! ভালো করে আলমারিটা খুঁজে দেখেছো তো?”
এবার দাদু বললেন,“সবই খুঁজে দেখা হয়েছে, কিন্তু কোথাও নেই।”
তিয়া এবার সোফায় বসে বললো,“আচ্ছা দাদু তোমার পূর্বপুরুষ যে বুদ্ধমূর্তি টা এনেছিলেন, সেটার কথা বলছো?”
“হ্যাঁ, ঠিক তাই।”
দিদা বললেন,“তিয়া মিমি, তোরা ঘরে গিয়ে হাত মুখ ধুয়ে নে। তারপর খেতে বসবি। পিকলু, যা গিয়ে ওদের ঘরটা দেখিয়ে দে।”
পিকলু দা ওদের ওপরে নিয়ে যেতে যেতে বললো,“জানিস, এই মূর্তিটা না খুব দামি। দাদুর দাদু নাকি চল্লিশ বছর বয়সে সন্ন্যাসী হয়ে যান। তখন তার ছেলেও হয়ে গেছে। বলতে পারিস, অনেকটা সেই বুদ্ধের মতো। তারপর আবার দশ বছর বাদে ফিরে আসেন। এসেছিলেন এক মাসের জন্য। সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন ওই বুদ্ধ মূর্তিটা। দাদুর মুখে শুনেছি ওটা নাকি উনি কোন তিব্বতি লামার কাছ থেকে পেয়েছিলেন। মূর্তিটার উপরে ছোট ছোট হিরে বসানো রয়েছে। আরো কিসব মণি মুক্তো বসানো রয়েছে, যার দামও নাকি অনেকটা। নে, তোরা এবার ঘরে চল।”
মিমি বললো,“আচ্ছা, ওই মূর্তিটার সাথে কি কোনো ঐতিহাসিক গল্প জড়িয়ে আছে গো?”
“সেটা ঠিক জানি না,তবে দাদু হয়তো জানতে পারেন। নে এই হল তোদের ঘর, আমার আবার প্রজেক্ট পড়ে আছে।ওগুলো করতে হবে।তোরা বরং একটু ফ্রেশ হয়ে নীচে চলে আয়।"
পিকলু দা নীচে চলে গেলো।মিমি বিছানায় গা এলিয়ে দিয়ে বললো,“আচ্ছা তিয়া,তোর কেমন কেমন লাগছে না?
তিয়া সুটকেস থেকে তোয়ালে বের করতে করতে বললো,“তুই বরং যা গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নে।”
“তুই কিন্তু আমার কথার উত্তর দিলি না।”
“আর কেমন কেমন লাগবে বল? তবে আমার মনে হচ্ছে আমাদের থেকে কিছু লুকোনো হচ্ছে। আর তাছাড়া বড়মামির এক্সপ্রেশন গুলো কেমন যেন কৃত্রিম কৃত্রিম লাগছে।”
মিমি বললো,“হ্যাঁ, ঠিক তাই। যাইহোক, আমি এবার গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নিই।”
পিকলু দা বললো,“আচ্ছা, তোরা এই কেসটা সলভ করতে পারবি? আমি তোদের এই কেসটার তদন্তের ভার দিচ্ছি।”
দুপুর বেলা খাওয়া দাওয়া করবার পর এখন ওরা তিনজন মিলে গল্প করছে। আর এই চুরির ব্যাপারটা নিয়েও একটা জোর আলোচনাও চলছে।
তিয়া হেসে বললো,“দেখা যাক, কি হয়। আমরা আপাতত একটু দাদুর ঘরে যাবো। যে জায়গা থেকে মূর্তিটা চুরি হয়েছে, সেই জায়গাটা একবার দেখতে চাই।”
“হ্যাঁ, চল। দাদু ঘরেই আছে।”
ওরা তিনজনে মিলে দাদুর ঘরে গেলো। দাদু একটা বই পড়ছিলেন। আর দিদা পান সাজছিলেন।
তিয়া ঘরে ঢুকে বললো,“দাদু, তোমার সাথে একটু কথা ছিলো।”
দাদু বললেন,“হ্যাঁ, বলো।”
দিদা বলে উঠলেন,“তিয়া মিমি, তোরা পান খাস? খয়ের দেবো না।”
মিমি বললো,“হ্যাঁ, দাও তো। আমার খেতে খুব ভালো লাগে।”
ওরা তিনজনে তিনটে পান খেলো।
তিয়া তারপর বললো,“দাদু, ওই মূর্তিটা কোথায় থাকে?”
দাদু বললেন,“ওই তো, সিন্দুকটায় থাকে।”
“সিন্দুকটা কি নাম্বার সিস্টেম?”
“হ্যাঁ, ওর চাবিটা আমার বালিশের তলায় থাকে।”
মিমি বললো,“আচ্ছা এর নাম্বারটা আর কেউ জানতো?”
“না, তোমাদের দিদাকেও আমি কোনোদিন জানাইনি।”
তিয়া বললো,“আচ্ছা এটা কোথা থেকে এসেছে। মানে ইতিহাসে এর গুরুত্বটা কী?”
“তোমরা মনে হয় ইতিহাসে দেবকূলের কথা পড়েছো। কুষাণ সাম্রাজ্যের শাসকরা নিজেদের দেবতাদের আসনে বসানোর জন্য অনেকরকম কাজ তারা করতো। আমরা যেমন মন্দিরে দেবতাদের পুজো করি, দেবকূলে তেমনই কুষাণ সাম্রাজ্যের শাসকদের পুজো করা হতো। সেইরকমই কাশ্মীরের এক দেবকূল থেকে আমার দাদু এই বুদ্ধমূর্তি পেয়েছিলেন।”
মিমি বললো,“আচ্ছা, আমরা অন্য ঘরগুলো সার্চ করে দেখতে পারি?”
“হ্যাঁ হ্যাঁ, আমি বাড়ির সবাইকে বলে দিচ্ছি। তোমরা দেখতে পারো।”
সবারই ঘর খুব ভালো ভাবে সার্চ করা হয়েছে। এমনকি ঠাকুরঘর আর রান্নাঘরও ভালো করে দেখা হয়েছে। কিন্তু কোথাও তেমন করে কিছু পাওয়া যায়নি। সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছিলো। কিন্তু সন্তোষজনক উত্তর কারুর কাছ থেকেই পাওয়া যায়নি।
তিয়া ঘরে এসে বললো,“ব্যাপারটা একটু গোলমেলে টাইপের।”
মিমি বললো,“কেনো?”
“না মানে তুই ভেবে দেখ, দাদু বললেন সিন্দুকের নাম্বারটা কেউ জানে না। কিন্তু ছোটোমামি আর বড়োমামি বললেন যে নাম্বারটা নাকি সবাই জানে। আমরা কোনটা সত্যি বলে ধরবো বল তো?”
“আচ্ছা, তোর মনে হয় না বড়োমামি আর ছোটোমামি যোগসাজশ করে ওই মূর্তিটাকে চুরি করেছেন? আর মূর্তিটা বিক্রি করলে তো অনেক টাকা পাওয়া যাবে। দুজনে অর্ধেক করে নিয়ে নিলে তো ল্যাটা চুকে যায়।”
“না রে মিমি, আমার তা মনে হয় না। বড়োমামি খুব ভালো মানুষ, উনি এরকম করতেই পারেন না। যদি করারই হতো তাহলে অনেক আগেই করে নিতে পারতেন। আর ছোটোমামি বিয়ের অনেক আগে থেকেই এই বাড়িতে আসতো। আর দাদুর ঘরে ছোটোমামির ছিলো অবাধ যাতায়াত। তাই ছোটোমামিরও চুরি করার থাকলে অনেক আগেই করতে পারতো। যাই হোক, এখন চল বাইরে গিয়ে একটু হাওয়া খেয়ে আসি।”
তিয়ারা ঘর থেকে বেরিয়ে যখন নীচে যাবে তখন পিসিদিদার ঘর থেকে শুনতে পায় কিছু কথা।
পিসিদিদা কাউকে ফোনে বলছে,“আমি তোকে ওই জিনিসটা দিয়ে দেব.... আমাকে একটু সময় দে.... তুই এখানে চলে আয় না....।”
তিয়া মিমির দিকে তাকালো। মিমি তখনই ঘরের দরজায় টোকা দিল।
পিসিদিদা দরজা খুলে বললেন,“কিরে তোরা এখানে? কিছু দরকার?”
মিমি বললো,“হ্যাঁ, আসলে আমার মাথাটা একটু ধরেছে। একটু বাম হবে?”
“হ্যাঁ হ্যাঁ, দাঁড়া দিচ্ছি।”
পিসিদিদা বাম দিতেই তিয়ারা সেটা নিয়ে ঘরে চলে এলো।
তিয়া বললো,“অনেককিছু মনের মধ্যে ঘুরছে জানিস। বুঝতে পারছিনা কি ঘটছে?”
মিমি বললো,“মাথাটাকে একটু ঠান্ডা করার জন্য আমাদের বাইরে যাওয়া উচিত। চল।”
পরের দিন সকালে বাড়িতে তেমন কেউ ছিল না। বড়োমামা, বড়োমামি আর ছোটোমামি নিজেদের কাজে বেরিয়ে গেছিলেন। দাদু আর দিদাকে নিয়ে পিসিদিদা গেছিলেন ডাক্তারের কাছে। বাড়িতে যে মাসি কাপড়জামা, বাসনপত্র ধুয়ে দেয়, সেও কাজ সেরে চলে গেছে। বাড়িতে শুধু তিয়া, মিমি আর পিকলু দা আছে। সকাল থেকে তিনজনে মিলে গল্পই করে যাচ্ছিলো। কিন্তু একটু পরে খিদে মালুম হতেই তিনজনে রান্নাঘরের দিকে ছুটলো।
রান্নাবান্না পুরোটাই পিসিদিদার দায়িত্ব। এ বাড়ির আর কেউ তেমন রান্নাঘরে যায় না। বড়োমামি আর ছোটোমামি নিজেদের কাজে বেরিয়ে যান। আর দিদারও বয়স হওয়ার কারণে এখন আর তেমন কিছুই করতে পারেন না।
তিয়া রান্নাঘরে খাবার খুঁজতে খুঁজতে একটা জিনিস দেখতে পেলো। এক জায়গায় অনেকটা মশলা পড়ে আছে। তিয়ার মনে পড়লো ওরা এই জায়গাটা রান্নাঘরে আগে দেখেনি। ওই জায়গাটা আগের দিন শিল দিয়ে আড়াল করা ছিলো। আস্তে আস্তে ওই জায়গাটার কাছে তিয়া এগিয়ে গেলো। হঠাৎ করে মিমি এসে বললো,“কিরে, এখানে কি করছিস?”
তিয়া বললো,“তুই যা, আমি আসছি। ”
মিমি চলে যাওয়ার পর তিয়া সেখানে গিয়ে একটা মশলার বয়াম দেখতে পেলো। তিয়া সেটা দেখতে পাওয়ার পর বয়ামটা হাতে নিয়ে খুললো। খোলার পর মশলার ভেতরের জিনিসটা দেখতে পেয়ে তিয়া চমকে উঠলো। তিয়া জিনিসটা নিজের জামার সাথে লুকিয়ে নিলো।
বিকেলবেলায় সবাই একসঙ্গে বসে চা খাচ্ছিলো। তিয়া, মিমি আর পিকলু দাও ছিলো।
বড়মামা বললেন,“কিরে তিয়া মিমি, তোদের রহস্য উদঘাটন হলো?”
মিমির মনে হলো কথাটার সাথে যেনো একটু ব্যঙ্গ মেশানো আছে।
তিয়া হেসে বললো,“হ্যাঁ, রহস্য উদঘাটন হয়ে গেছেই। কিন্তু তার আগে তোমরা বলোতো এই মূর্তি চুরির যে ব্যাপারটা এই সবটাই নাটক ছিলো, তাই না? তোমরা তো আমাদের পরীক্ষা করতে চেয়েছিলে।”
তিয়ার এই বিস্ফোরক কথায় সবাই চমকে উঠে একে অপরের দিকে তাকাতে থাকে।
মিমি বললো,“আমাদের প্রথম দিন এসেই কেমন যেন ব্যাপারটা অদ্ভুত লাগছিলো। আমাদের সিক্সথ সেন্স বলছিলো কিছু গন্ডগোল আছে। সেই সন্দেহটাকে মেটানোর জন্য কখন কি ঘটছে সবটা নোটিশ করতে থাকি।”
তিয়া বললো,“আর তখনই আর একটা জিনিস আমাদের মনে আরো খটকা জাগায়। দাদু বলেছিলেন তাঁর সিন্দুকের নাম্বার কেউ জানে না, এমনকি দিদাও না। কিন্তু বড়োমামি আর ছোটোমামি দুজনেই বললেন নাম্বারটা নাকি সবাই জানে। তো এখানে সন্দেহ হওয়াটাই স্বাভাবিক। তারপরে একদিন বাড়ির পিছনে ঘুরতে ঘুরতে একটা জিনিস পাই। সেটা হলো স্ক্রিপ্টের কাগজ। মানে তোমরা যে এই পুরো নাটকটা করেছো তার ডায়লগগুলো সেখানে লেখা আছে।”
দাদু হেসে বললেন,“তোমরা তো জানো তোমাদের বড়মামার এককালে থিয়েটারের শখ ছিলো। সেই এসব করেছে।”
ছোটোমামি বললো,“সে সবই তো ঠিক আছে, কিন্তু সেই মূর্তিটাই তো নেই। সেটা তো চুরি হয়ে গেছে।”
মিমি বললো,“সেটাও আমরা জানি। তার রহস্য উদঘাটনও হবে।”
তিয়া বললো,“হুম। জানিস তো মিমি ছোটোমামি এই চুরির ব্যাপারে অনেককিছু জানে। তাই না ছোটোমামি?”
ছোটোমামি অবাক হয়ে বললো,“মানে?”
মিমি আর তিয়া একসঙ্গে বলে উঠলো,“আরে তুমিই তো জানো, যে পিসিদিদা চুরিটা করেছে।”
পিসিদিদা বললেন,“মানেটা কি? তোরা আমার ওপর এমন অভিযোগ কেনো আনছিস?”
তিয়া বললো,“আচ্ছা দাদু, তোমরা তো ওই মূর্তিটা ঠাকুর ঘরে রেখেছিলে না?”
দাদু বললেন,“হ্যাঁ, মানে...”
“হ্যাঁ, আমাদের পিকলু দা বলেছে। আর চুরি করাটা যে ছোটোমামি দেখেছে সেটাও আমাদের কাছে স্বীকার করে নিয়েছে।”
পিসিদিদা চেঁচিয়ে বললেন,“আমার নামে এই মিথ্যেটা তোরা কোন সাহসে বলছিস?”
“কোন সাহসে মানে? আমরা জানি তাই বললাম।”
“অসম্ভব!”
“কেন অসম্ভব?”
“এটা হতেই পারে না।”
“কেন হতে পারে না?”
“কারণ, চুরির সময় আমি ছাড়া আর কেউ ওই ঘরে ছিল না।”
পিসিদিদা হঠাৎ করে থেমে গিয়ে হাত দিয়ে মুখ ঢেকে নীচে বসে পড়লেন।
মিমি বললো,“আমরা সবটাই বুঝতে পেরেছিলাম। যেদিন তোমার কাছে বাম চাইতে গেছিলাম সেদিনই তোমার কথাগুলো শুনতে পেয়েছিলাম। তুমি শানু মামাকে কিছু একটা দেওয়ার কথা বলছিলে, সেদিনই খটকাটা লাগে।”
এবার তিয়া বললো,“আজ সকালে আমরা যখন খাবার নেওয়ার জন্য রান্নাঘরে ঢুকেছিলাম, তখন এক জায়গায় চোখ যায় আমার। সেখানে দেখলাম অনেকটা মশলা পড়ে আছে। যেদিন রান্নাঘরে সার্চ করতে যাই ওই জায়গাটা শিল দিয়ে আড়াল করা ছিলো। ওইদিকটাতে যেতেই দেখি একটা মশলার বয়াম পড়ে আছে। বয়ামটা খুলতেই সেখান থেকে বেরিয়ে পড়লো বুদ্ধমূর্তিটা। ওই বয়ামটার ভিতরে পিসিদিদার আংটিটা পড়ে আছে। কালকেই ওই আংটিটা দেখেছিলাম। আজ সকালে হয়তো আরেকবার ভালোভাবে দেখতে গিয়ে খুলে পড়ে গেছে।”
দাদু বললেন,“কিন্তু ও চুরিটা করলো কেন?”
মিমি বললো,“সেটা হয়তো প্রতিহিংসার কারণে। তিয়ার মুখে শুনেছি শানু মামা নাকি মুম্বাইতে সিনেমা বানাতে চান। কিন্তু এ বাড়ি থেকে নাকি উনি কোনো সাহায্যই পাননি।”
পিসিদিদা চিৎকার করে বলে উঠলেন,“আমার ছেলেকে তো এই বাড়িতে কেউ পাত্তাই দেয়না। তাই আমি এই কাজটা করতে বাধ্য হয়েছি।”
বড়োমামা বললেন,“সত্যিই! তোদের যতোটা ছোটো ভেবেছিলাম তোরা ততটা ছোটো নোস। তোদের বুদ্ধির তারিফ করা উচিত।”
পিকলু দা বলে উঠলো,“থ্রি চিয়ার্স ফর তিয়া মিমি, হিপ হিপ হুররে!”
পিসিদিদা ছাড়া সবাই বলে উঠলো,“হিপ হিপ হুররে!”
পুনশ্চ- এর মধ্যে বলার মতো দুটো ঘটনা আছে।
১) তিয়া মিমি দুজনে মিলে অনুরোধ করায় পিসিদিদাকে আর পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়নি।
২) রহস্য উদঘাটনের পর তিয়া নিজেদের ঘর থেকে মূর্তিটা এনে দিয়েছিলো। দু ফুট উচ্চতার মূর্তিটার উজ্জ্বলতা ঠিকরে বেরোচ্ছিলো।
সমাপ্ত
-----------------
কলমে - সৃজা সরকার ও অদৃজা সরকার ©