একুশ
আমাদের নতুন গল্প এসে গেছে । সবাইকে দেখার অনুরোধ থাকলো। ভালো লাগলে অবশ্যই লাইক শেয়ার আর সাবস্ক্রাইব করবেন
নমস্কার, বসুধা প্রকাশনী তে আপনাদের সকলকে বর্ণমালার মাধ্যমে স্বাগত । নবাগত ও নবাগতা কলমের কালির অক্ষর দিয়ে সাজানো আমাদের এই যান্ত্রিক মাধ্যম ।
একুশ
আমাদের নতুন গল্প এসে গেছে । সবাইকে দেখার অনুরোধ থাকলো। ভালো লাগলে অবশ্যই লাইক শেয়ার আর সাবস্ক্রাইব করবেন
মেলাটোনিন পশম বোনা পরিত্যক্ত চাদর.. অদৃষ্ট আফিম-ঘৰ্ম; উহ্য নিস্তেজের মধুমেহ চপল বিহ্বলতাহীন,ফেভী-স্ক্রীনের মাদকতা বন্ধ দুয়ার..আলগা দু-কপাট.. হাবিষ উজ্জীবনী পরকলার উত্তল তীর... পরিত্যক্ত পিনিয়াল-উপধান এক মুঠোয় তিষ্ঠিত সকল অপ্রকৃতিস্থ বাসনা অনুসন্ধিৎসার ধাওয়া.. আঙ্গুল ঠেকলেই কেল্লা ফতে চিত্ত বন্ধনীর ঐ প্রাগৈতহাসিক পন্থায় যেনো কত জীর্ণতা.. কদর্যভা গুঁড়ো নীল- চান্দয়াল, ফড়িং প্রবৃত্তি নবীন জতু প্রকল্পে আটক নিরুদ্দেশ রাত অতিথি.. যার গল্পগুচ্ছ-এ দেনা পাওনার নিত্যনৈমিত্তিক কাহিনী নিক্তি-ওষ্ঠ, “একুলই কীরিট-এর দাবিদার..”
তবু যদি ধু-ধু শৃঙ্গ.. তবে নির্বাসন যাক পরম নাহ..আর কথন পায়না দুরপ্রবাসি আকুলির তরে; সব উপচার মান্যতালীন..তাও গল্পের ভীরে একটা রুগ্ন কপর্দক-হীন বুক থিত স্ব-এ দু-পৃথিবী জুড়ে সর্বকালীন আঁধারই রোগ.. লাগামহীন বোকা ইতিহাস….!
নির্বাসনের সৎকারেই স্ব-এর আতিথেয়তা পূর্ণ.. পুনশ্চ এক ভালু যন্ত্রের বুকে ফেরা স্পন্দন খোঁজা যন্ত্রমানৰ.... এক আকাশ আবছা ঘুরোন চাকতিতে নিবদ্ধ স্ব.. আর ছিন্ন আত্ম-এর পঞ্চ ভূতিয় প্রত্যাগমন..!
লেখনী ©
দেড় সের চাল আলু গোটা হয়, জানিনা তাতে মায়ের কাছে মেয়ের কতটা ঋন শোধ হয়।
জন্ম থেকে কোলে পিঠে করে, বিবাহযোগ্যা হলে পরাণ ছিড়ে পেছন ফিরিয়ে পাঠাও পরের ঘরে।
পরকে আপন করতে গিয়ে মেয়ের বেড়ে যায় আরও কতো ঋণ, মানিয়ে বা মেনে নিতে হয় নিত্যদিন।
পরের ঘর নিজের করে নিয়ে গৃহিণী সে সংসার তো ওই বন্ধুর কাছে ঋণী, সে ঋণের দায় আমরা ক'জন ই বা মানি!
-Tarak Mondal ©
রক্তিম শুভ্রের বিশ্বস্ত দরবারে এক সরণি...
উদিত সৌজিক লালীমায় তার অস্তাবধি সেলাম, এক যৌবনের রাজ্যপাটে এক যৌবনের উত্তরণ...
বীজ শ্রাবণে নিষ্কপর্দক ধূলিকণার শৃঙ্গে 'ধরণী' শেখর! কত সহস্র ঋতুর সীমান্তে এক ঋতুর পূর্ণ কায়া...! দুই জোড়া কর.. আর একতাল গঙ্গা-মাটি; সে কুমুদের দামিনী-ঝলক.. মৃৎশিল্পের আর্জি সহস্র বৈশাখী কুলুপ.. তরল গৃহীর ঝিমন্ত গৈরিক কাষ্ঠল দল স্খলিত সোর্য্যের অবগুণ্ঠন.. ছত্রাধিপতির বাড়ন্ত প্রস্ফুটন তন্তুর ভাজে বুনিয়াদী রেশমী বুনট... লালিমার পরতে সুপ্ত অদৃষ্ট গগনচুম্বী দেনা..... অকস্মাৎ ঝঞ্ঝা- ক্ষুব্ধ ছন্দে তর্কবাগীশ লুটেরা.. একাকী বৃন্ত-বঁাঁট... উহ্য ছাউনির শীয়রে চকমকি. সিক্ত তমস.. মণি-কাচ..অস্পৃশ্য অনাদুরে প্রতিফলিত ঋণের ফিরতি মকুব...! সুতলি ছেঁড়া কপর্দকহীন উদয় আজ ভরাটিয়া কপর্দকের মধ্যাহ্ন..... ঔরসের খড়ম-এ স্থিত ঋতুর নতি...
নবাহ্নের ঝুলি উপচনো ঐ দ্বিত্ব ঋণ...... ডুবন্ত পৃথিবী গুলোই গচ্ছিত করে একবুক ঋণের বেগানুভূতি!
লেখনী ©
এই বিকেলবেলায় রাজর্ষিকে আসতে দেখে অবাক হয়ে গেলো তিয়া মিমি। রাজর্ষি বণিক হলো তিয়াদের বন্ধু। ওরা একসঙ্গে টিউশনিতে পড়ে। তিয়াদের স্কুলের পাশে একটা বয়েজ স্কুল আছে। রাজর্ষি সেখানেই পড়ে। তিয়ার মা বাড়ির দরজা খুলে দিতেই রাজর্ষি সোজা তিয়ার ঘরে চলে আসলো।
এই বিকেলবেলার সময়টাতে তিয়ার বাড়িতে মিমি চলে আসে। তারপর ওরা একসাথে পড়ে,গল্প করে। মাঝে মাঝে তিয়াও মিমির বাড়ি চলে যায়।
রাজর্ষিকে দেখে তিয়া বললো,"কিরে তুই এই সময়? এই সময় তো তোর স্কুল থেকে ফিরে খেলতে যাওয়ার কথা।"
রাজর্ষি বললো,"অত কথা না বলে তাড়াতাড়ি কাকিমার কাছ থেকে কিছু খাবারদাবার নিয়ে আয়। যা তাড়াতাড়ি যা। খুব খিদে পেয়েছে।"
মিমি মুখ ভেংচে বললো,"মামারবাড়ির আবদার! ওনার হুকুম আমাদের তামিল করতে হবে। তা কোথা থেকে চষে আসা হচ্ছে শুনি,যে খিদে পেয়ে যাচ্ছে তোমার। তাও এই অবেলায়?"
তিয়ার মা ঠিক তখনই ঘরে ঢুকলেন। হাতে একপ্লেট মিষ্টি। বললেন,"ওভাবে কেনো বলছিস মিমি? ছেলেটা এতোদিন বাদে আসলো। নে রাজ, তুই মিষ্টিগুলো খা।"
তিয়া বললো,"মা তুমি না সবসময় রাজর্ষিকে লাই দাও।"
"হ্যাঁ দিই। ওকে আমার খুব ভালো লাগে। আমি যাই, আমার হাজারটা কাজ পড়ে আছে।" এই বলে তিয়ার মা বেরিয়ে গেলেন।
"তা রাজ, কি জন্য এসেছিস বল?"
রাজর্ষি একটা মিষ্টি মুখে পুরে বললো,"যে কথাটা বলার জন্য এসেছিলাম। তোরা নিশ্চয়ই অনিকেতকে চিনিস?"
"চিনবো না কেনো? তারপর বল।"
"অনিকেতদের বাড়ি খুব বড়ো করে জগদ্ধাত্রী পুজো হয়। পুজোর দিন বাইরের লোকদের ভোগ প্রসাদ দেওয়া হয়। সবথেকে আকর্ষণীয় জিনিস কি জানিস? জগদ্ধাত্রী মায়ের একটি সোনার মুকুট আছে। যেটা পুজোর কয়েকদিন আগে বের করা হয় পালিশ করার জন্য। বাকি সময়টা বাড়ির সিন্দুকেই থাকে। কিন্তু এখানেই একটা গন্ডোগোল পাকিয়ে গেছে। মুকুটটা গেছে চুরি হয়ে। অনিকেতের বাবা মুকুট চুরির কেসটার ভার তোদের উপর দিতে চান। আমায় তোদের সবকিছু খুলে বলতে পাঠিয়েছেন। তোরা একবার ওবাড়িতে যা। আমিও থাকবো।"
আজকাল ওদের কথা এলাকার প্রায় অনেকেই জানে। একবার একটা অনুষ্ঠানে তিয়া মিমি খোদ পুলিশ কমিশনারের থেকে পুরস্কার পেয়েছিলো। দু-একটা কেস সলভ করেই তিয়াদের নামডাক হয়ে গেছে।
তিয়া বললো,"ঠিক আছে,তাহলে আমরা কাল সকাল আটটার দিকে যাবো। একদিন না হয় স্কুল ডুবই মেরে দেবো।"
পরের দিন সকাল।
রাজর্ষিটা কোনোদিন টাইমে এসে পৌঁছয় না। সবসময় লেট। মিমি তো রেগেই আগুন। বললো,"কোনো মানে হয় এসবের? দুনিয়াসুদ্ধ সব লোকের টাইমের বারোটা বাজিয়ে ছাড়বে। কালকে পই পই করে বলে দেওয়া হলো তাও আসলো না। আর ভালো লাগে না!"
ঠিক তখনই হাঁফাতে হাঁফাতে রাজর্ষি এলো।
বললো,"সরি,সরি। লেট হয়ে গেলো।"
মিমি বললো,"সে লেট তো তুই করেই থাকিস, এ আর নতুন কি!"
"উফ! তুই তো আরো দেরি করিস রে।"
তিয়া বললো,"আচ্ছা তোরা এবার বকবকানিটা থামা। তাড়াতাড়ি চল।"
ওরা বাড়ি থেকে বেরিয়ে হেঁটে অনিকেতদের বাড়ি গেলো।
পুরোনো আমলের বাড়ি। তিয়ারা বাড়িতে ঢুকতেই অনিকেত বেরিয়ে এলো। অনিকেত মজুমদার তিয়াদের বয়সী। রাজর্ষির সাথে পড়ে। সেখান থেকেই তিয়াদের সাথে আলাপ।
অনিকেত বললো,"এসে গেছিস! চল ভেতরে চল।"
ভেতরে যেতে যেতে তিয়া বললো,"আচ্ছা অনিকেত, তোদের বাড়িতে কে কে আছেন?"
"আমাদের বাড়িতে আমি আমার মা-বাবা,জেঠু জেঠিমা আর ঠাম্মা আছে। ঠাম্মাকে কিন্তু এসব বলতে যাস না। ঠাম্মার নব্বই বছর বয়স। এইসব শুনলে একটা বড়ো শক পেতে পারেন। আর তাছাড়া আমার জেঠুর ছেলে আছে। সে এখন হায়ার স্টাডির জন্য আমেরিকাতে। এখন চল,বাবা তোদের সঙ্গে দেখা করতে চান।"
মিমি বললো,"হ্যাঁ চল।"
বাড়ির ভিতরে ওরা ঢুকে ঠাকুর দালানের ডানপাশের ঘরে গেলো। ওখানে তখন অনিকেতের বাবা বসে আছেন। অনিকেতের বাবার নাম অরুণ মজুমদার। হ্যান্ডিক্র্যাফ্টসের একটা ব্যবসা আছে।
অনিকেতের বাবা বললেন,"তোমাদের কথা অনেক শুনেছি। তাই রাজর্ষিকে দিয়ে বলে পাঠিয়েছিলাম। তোমাদের উপর আমি এই কেসটার ভার দিচ্ছি। যদি কোনো কিছু জানার প্রয়োজন হয় আমায় বলবে।"
তিয়া বললো,"ঠিক আছে কাকু। বেশি কিছু প্রশ্ন করবো না। আচ্ছা আপনারা কখন বুঝতে পারলেন যে মুকুটটা চুরি হয়েছে?"
"কালকে সকালবেলায় যখন মুকুটটা পালিশ করার জন্য নিয়ে যাবো তখনই খেয়াল হোলো যে মুকুটটা নেই।"
রাজর্ষি ফস করে বলে উঠলো,"মুকুটটা তো সিন্দুকে থাকতো!"
"হ্যাঁ, মুকুটটা সিন্দুকেই থাকতো। আর সেই সিন্দুকটাও আমার ঘরে আছে।"
মিমি বললো,"আচ্ছা কাকু,আপনার সিন্দুকটা কি চাবি দেওয়া নাকি নাম্বার কম্বিনেশন?"
"না না,চাবি দেওয়াই। চাবিটা আমার বালিশের তলায় থাকতো।"
তিয়া বললো,"মুকুটটা ব্যাঙ্কের লকারে রেখে দেননি কেনো?"
"আসলে এই জগদ্ধাত্রী পুজোর পরেই রেখে আসার কথা ভাবছিলাম। কিন্তু তার আগেই এমন হয়ে গেলো।"
"ঠিক আছে কাকু,আমাদের আর কিছু জানার নেই। দরকার হলে আবার আসবো।"
"ঠিক আছে। আর একটা কথা কেসটা যদি একটু তাড়াতাড়ি সলভ করতে পারো তাহলে খুব উপকার হয়। আসলে সামনেই জগদ্ধাত্রী পুজো তো,বুঝতেই পারছো। মাকে কি পরাবো বলো? আর ফ্যামিলি প্রেস্টিজের কথা ভেবে কারুর সামনে কথাটা ডিসক্লোজ করিনি। পুলিশকেও জানায়নি। প্রথমে তোমাদের ডাকলাম।"
"আচ্ছা চেষ্টা করবো। আর একটা কথা মুকুটটার কোনো ছবি পাওয়া যাবে?"
"হ্যাঁ অবশ্যই পাওয়া যাবে। আমি বরং পরে অনিকেত বা রাজর্ষির হাত দিয়ে তোমাদের কাছে পাঠিয়ে দেবো।"
বাইরে এসে অনিকেত বললো,"এবার কার সাথে কথা বলতে চাস?"
মিমি বললো,"এবার তোর মায়ের কাছে যাওয়া যাক।"
এবার ঠাকুর দালানটা পেরিয়ে বাঁদিকে এসে একটা করিডরের সামনে দাঁড়ালো। সেই করিডরে সারি দিয়ে চারটে ঘর আছে। করিডরের সামনে এসে দাঁড়াতেই তিয়া বললো," অনিকেত তুই একটু রাজর্ষিকে নিয়ে তোর ঘরে যা। আমাদের একটু একা কথা বলা দরকার।"
রাজর্ষি বললো,"কেনো,আমি থাকি না!"
"না রে রাজর্ষি! আমি তোকে পরে সব বলবো।তুই এখন ওর সাথে একটু যা। আর অনিকেত তোর মা-বাবা আর জেঠু-জেঠিমার ঘর কোনটা?"
অনিকেত বলো,"এক নম্বর ঘরটা মা বাবার,তিন নম্বর ঘরটা জেঠু জেঠিমার আর দু নম্বর ঘরটায় আমি থাকি।"
"আচ্ছা,ঠিক আছে যদি দরকার হয় তাহলে তোকে ডেকে নেবো।"
এই বলে ওরা প্রথম ঘরটাতে ঢুকে গেলো। সেই ঘরে অনিকেতের মা বসে খবরের কাগজ পড়ছিলেন। অনিকেতের মায়ের নাম অনিন্দিতা মজুমদার। একটা স্কুলে পড়ান।
অনিন্দিতা কাকিমা ওদের দেখে বললেন,"এসে গেছো তোমরা! দাঁড়াও তোমরা তো অনিকেতের বন্ধু,তার উপর প্রথমবার এই বাড়িতে এলে। তোমাদের একটু মিষ্টিমুখ করাই। আমাদের বাড়িতে এলে কেউ খালি মুখে যায় না।"
তিয়া বললো,"আচ্ছা কাকিমা বাথরুমটা কোনদিকে?"
"বাথরুমে যাবে? এই করিডরের একদম শেষপ্রান্তে বাথরুম। চলে যেতে পারবে তো?"
"হ্যাঁ হ্যাঁ পারবো।"
"ঠিক আছে আমি তাহলে যাই।" এই বলে অনিন্দিতা কাকিমা চলে গেলেন।
তিয়া মিমিকে বললো,"আমি একটু বাথরুমে যাচ্ছি। তুই এদিকটায় খেয়াল রাখিস।"
মিমি বললো,"ঠিক আছে, তুই যা।"
তিয়া ঘর থেকে বেরিয়ে এলো। মিমিও সবদিকটা নজর রাখতে লাগলো।
তিয়া ফিরলো পাঁচ মিনিট পরে।
মিমিকে বললো,"একটা ইন্টারেস্টিং জিনিস শুনতে পেয়েছি। পরে বলছি।"
ঠিক সেই সময়েই অনিন্দিতা কাকিমা ঘরে ঢুকলেন।
ট্রে থেকে মিষ্টির প্লেট তুলে দিয়ে বললেন,"বলো কি জানতে চাও?"
তিয়া খেতে খেতে বললো,"বেশি কিছু নয়। আচ্ছা যখন আপনারা জানতে পারলেন যে মুকুটটা চুরি গেছে তখন আপনারা কেন পুলিশকে জানালেন না?"
"তার আসল কারণ হলো মা। তাঁর নব্বই বছর বয়স। এখন যদি এসব শোনেন তাহলে একটা বড়ো শক পাবেন। পুলিশ তো কাউকে ছেড়ে কথা বলে না। আর তাছাড়া আমরা ব্যাপারটা একটু গোপন রাখতে চাইছি। যদি সবাই শোনে যে মুকুটটা চুরি গেছে তাহলে একটা বদনাম হয়ে যাবে।"
"আচ্ছা যখন জানা গেলো মুকুটটা চুরি গেছে তখন আপনি কোথায় ছিলেন?"
"আমি তো তখন বাড়িতে ছিলাম না। আসলে আমার মর্নিং স্কুল। এসে সব শুনলাম। এখন ক'দিন যাবোনা ঠিক করেছি এমনিতেই।"
"এমন কাউকে মনে হয় যে চুরি করতে পারে?"
কাকিমা মলিন হেসে বললেন,"কাকে আর সন্দেহ করবো! সবাই তো নিজেদের লোক। যদিও জনার্দন দা আছেন,কিন্তু উনি তো কুড়ি বছর ধরে বাড়িটা সামলাচ্ছেন। ওনাকে সন্দেহ করার কোনো প্রশ্নই ওঠেনা।"
"ঠিক আছে কাকিমা,আমাদের আর কিছু জানার নেই।"
"আচ্ছা।"
এরপর ওরা বরুণ জেঠু (অনিকেতের জেঠু), রনিতা জেঠিমার (অনিকেতের জেঠিমা) সাথে কথা বললো। কিন্তু খুব একটা সন্তোষজনক কিছু জানতে পারলো না। তাই ওরা বাড়ি চলে এলো।
বাড়ি ফিরে মিমি বললো,"তুই একটা তখন কি বলবি বলছিলি,বললি না তো।"
তিয়া বললো,"হ্যাঁ সব বলছি। আর তার সাথে আমার পরবর্তী প্ল্যানের কথাও তোকে বলছি।"
তিয়া মিমিকে সবকিছু বললো। নিজের পরবর্তী প্ল্যানের কথাও বললো। আর ওদের পরবর্তী প্ল্যানে এটা ঠিক হলো আজ ওরা আরেকবার ওই বাড়ি যাবে।
আজ দুপুরে যখন খাওয়াদাওয়ার পর তিয়া বই পড়ছিলো তখন রাজর্ষি এসে মুকুটের ফটোটা দিয়ে গেলো। তিয়া দেখলো, খুব ভালো করে দেখলো। দশ ইঞ্চির একটা মুকুট। পুরোটাই সোনার। তার ওপর ছোটো ছোটো চুনি,পান্না,হিরে বসানো। মিমি এলে ও মিমিকেও ছবিটা দেখালো।
মিমি বললো,"কিন্তু আমি বুঝতে পারছি না তুই ছবিগুলো কেনো চাইলি? তুই কি কিছু আন্দাজ করছিস?"
তিয়া বললো,"আন্দাজ তো অনেক কিছুই করছি। কিন্তু সেটা পরে বলছি। এখন চল,ওই বাড়িতে যেতে হবে। ওই বাড়িতেই তো আসল কাজ। তুই দাঁড়া আমি একটু চেঞ্জ করে আসছি।"
তিয়া তাড়াতাড়ি বাড়ির জামাকাপড় পাল্টে জিন্স আর কুর্তি গলিয়ে নিজের মোবাইল ফোনটা নিয়ে বেরিয়ে গেলো। কয়েকদিন আগে তিয়ার বাবা তিয়াকে একটা ফোন কিনে দিয়েছেন। মিমির বাবাও মিমিকে একটা ফোন কিনে দিয়েছেন। আসলে ওদের দুজনের মা ওদের দুজনকে নিয়ে বড্ড চিন্তা করেন। তাই এই ব্যবস্থা। যাই হোক,তিয়ারা যখন অনিকেতদের বাড়িতে গিয়ে পৌঁছোলো তখন বিকেল পাঁচটা বাজে। অরুণকাকু বাড়ি চলে এসেছেন। ওদের দেখে একটু অবাক হলেন। বললেন,"তোমরা! এই সময়ে! কিছু দরকার?"
মিমি বললো,"হ্যাঁ,আসলে আমরা ওই ছবিগুলো ফেরত দিতে এসেছিলাম।"
অরুণকাকু একটু সন্দেহের চোখে তাকিয়ে বললেন,"আচ্ছা দাও।"
তিয়া ছবিগুলো দিয়ে বললো,"আর তাছাড়া আর একটাও কাজ ছিলো। আজ সকালে জেঠিমার সাথে খুব ভালো করে কথা হয়নি। তাই একটু ওনার সাথেই কথা বলতে এসেছিলাম।"
"ঠিক আছে,যাও। বৌদি হয়তো ঘরেই আছেন।"
অনিকেতের জেঠিমার নাম রনিতা।উনি হাউজওয়াইফ।তিয়ারা যখন ওনার ঘরে গেলো,তখন উনি জামাকাপড় গুছোচ্ছিলেন।
ওদের দেখে বললেন,"কি ব্যাপার! তোমরা এখন আসলে। কিছু হয়েছে?"
তিয়া বললো,"না, তেমন কিছু না। আসলে আপনার সাথে তো তখন ভালো করে কথা হয়নি। তাই একটু কথা বলতে এসেছিলাম। আচ্ছা আপনি তো এবাড়ির বড়ো বউ,কাউকে মনে হয় যে চুরি করবে?"
"কাকে আর মনে হবে? সবাই তো নিজেদের লোক।"
"আচ্ছা আপনার কি মনে হয় মুকুট কোথায় থাকতে পারে এখন?"
"অতশত জানি না। তবে হ্যাঁ ঠাকুরের জিনিস নিশ্চয়ই নিরাপদে আছে। ঠাকুর নিজের জিনিস নিজেই নিরাপদে রেখে দেন।"
"আচ্ছা আপনার কথা ধরেই না হয় একটু নিশ্চিন্তে থাকছি। আর হ্যাঁ কালকে সবাইকে বলবেন যেনো ড্রয়িংরুমে সবাই ওয়েট করেন। বাড়ির কাজের লোক থেকে বাড়ির প্রত্যেকটা সদস্য। এক ঘন্টার কাজ,আটটায় ঢুকবো।"
তিয়ারা ঘর থেকে বেরিয়ে গেলো।
আজ রহস্য উদঘাটনের দিন। তিয়ারা ঠিক সকাল আটটায় ওই বাড়ি ঢুকে গেলো।সাথে রাজর্ষিও ছিলো। ড্রয়িংরূমে সবাই অপেক্ষা করছিলো। তিয়া এবার বিষয়টা নিয়ে বলতে শুরু করলো,"এই কেসে আমাদের আপয়েন্ট করছিলেন অরুণকাকু। আর রাজর্ষি আমাদের এই কেসের ব্যাপারে বলেছিলো। আমরা প্রথম দিন এসেই কিছু অস্বাভাবিক জিনিস লক্ষ্য করেছিলাম। যদিও অস্বাভাবিক তেমন কিছু নয়,বলতে গেলে একদম পরিষ্কার ব্যাপার। আচ্ছা জেঠু আপনি বলুন তো আমরা যেদিন এসেছিলাম সেদিন আপনি সকালে কার সাথে কথা বলছিলেন? নিশ্চয়ই মুকুটটা যাকে বিক্রি করবেন বলে ভেবেছিলেন তার সাথে?"
বরুণ জেঠু অপ্রস্তুত হয়ে বললেন,"আ-আমি! মানেটা কি? কি বলতে চাইছো?"
অরুণ কাকু,"কি বলছো কি তিয়া! দাদা এরকম কেনো করতে যাবে?"
মিমি বললো,"কারণ আছে বলেই নিশ্চয়ই কাজটা করেছেন।"
জেঠু জোরে চেঁচিয়ে বলে উঠলেন,"এসবের মানে কি? প্রুফ কই?"
তিয়া বলে উঠলো,"আপনি প্রমাণ চাইছেন না? দাঁড়ান আমি প্রমাণ দেখাচ্ছি। কালকে আমি এ বাড়ির বাথরুমে যখন গিয়েছিলাম ফেরার পথে কটা কথা আমি শুনতে পাই আর নিজের ফোনে রেকর্ড করি।"
তারপর তিয়া নিজের মোবাইলটা বের করলো। রেকর্ড টা অন করতেই শোনা গেলো বরুণজেঠুর গলা। কাউকে একটা মোবাইলে বলছেন,'আপনি আমার কথাটা শুনুন... মুকুটটা আমার হাতে এসেছিলো... কিন্তু আমি এখন সেটা পাচ্ছি না... প্লিজ আমার কথাটা শুনুন... আপনি আমাকে দু-এক দিন টাইম দিন...' এইটুকুই শোনা গেলো। তিয়া রেকর্ডটা অফ করে বললো,"এর থেকে বেশি আপনি আর কিছু প্রমাণ চান?"
বরুণ জেঠু কান্নায় ভেঙে পড়লেন।
অরুণ কাকু অধৈর্য হয়ে বললেন,"কিন্তু রহস্যটা তো এখনও পরিষ্কার হলো না।"
তিয়া বললো,"একটু ধৈর্য ধরুন। আমরা সব বলবো। এখানে আমরা শুনতে পেলাম যে জেঠুর হাতে মুকুটটা এসেছিলো তো বটে, কিন্তু শেষমুহূর্তে সেটা হাতছাড়া হয়।"
এবার মিমি বলতে শুরু করলো,"দেখুন আমরা ধরে নিতে পারি কেউ জানতে পারে এবাড়ির মুকুটটা জেঠু চুরি করেছেন। কিন্তু এ বাড়ির মঙ্গলের কথা ভেবে তিনি সেটাকে জেঠুর কাছ থেকে চুরি করলেন। কি তাইতো জেঠিমা?"
জেঠিমা নির্লিপ্ত গলায় বললেন,"তোমরাই সত্যিটা বলো। যদি কিছু ভুল হয় তাহলে আমিই ধরিয়ে দেবো।"
তিয়া বললো,"ধন্যবাদ জেঠিমা। জেঠুর এই চুরি করার একটা কারণ আছে। এক মাস আগে জেঠুর চাকরিটা চলে যায়। জেঠু একটা ব্যাঙ্কের ম্যানেজার ছিলেন। জেঠু কিন্তু খুব ভালো মানুষ,একদম সাদা মনের মানুষ। কিন্তু ওই যে লোভে পড়লে সৎ মানুষও অসৎ হয়ে যায়। সেইটাই কাল হলো। আমার মনে হয় জেঠুর নিজের ছেলের খরচ টানতে অসুবিধা হচ্ছিলো। বিদেশে থাকার অনেক খরচ তো,তাই। সেকারণে উনি ব্যাঙ্কের টাকা তছরুপ করলেন। ফলে ওনার চাকরিটা গেলো। এই সবটা আমি আমার বাবার এক বন্ধুর কাছে জেনেছি। উনি ওই ব্যাঙ্কেরই স্টাফ। যাই হোক,তার জন্য ওনাকে আবার মুকুটটা চুরি করতে হলো।"
এবার মিমি বললো,"আর সেটা জেঠিমা জেনে গেলেন। বাড়ির মঙ্গলের কথা ভেবে উনি মুকুটটা সরালেন। রেখে দিলেন একটা নিরাপদ জায়গায়। এবার সেটা কোথায় সেটা জেঠিমাই বলুন।"
জেঠিমা বলতে শুরু করলেন,"বাড়ির একটা মঙ্গল অমঙ্গলের ব্যাপার থাকে। সেটা ভেবেই মুকুটটা সরালাম। একটা নিরাপদ জায়গার কথা ভাবলাম।"
তিয়া বললো,"আচ্ছা কালকে আপনি একটা কথা বলেছিলেন আমাদের,'ঠাকুর নিজের জিনিস নিজেই নিরাপদে রেখেছেন।' বুঝিয়ে দিতে চাইলেন কোথায় থাকতে পারে। এর অর্থ কি?"
জেঠিমা হেসে বললেন,"কারণ আমি চেয়েছিলাম যে সত্যিটা সবার সামনে আসুক। আমি তো নিজে বলতে পারবো না তাই তোমাদের দিয়ে বলাতে চেয়েছিলাম। মুকুটটা ঠাকুর দালানের ঠাকুরের বেদিতে আছে।ওর নীচে একটা ড্রয়ার আছে। সেখানেই ওটা রাখা আছে,গেলে পেয়ে যাবে।"
বাড়ির প্রত্যেকটা সদস্য অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে জেঠিমার দিকে। যে মানুষটি সবসময় জেঠুর পাশে থেকেছেন, তিনি আজকে বাড়ির মঙ্গলের কথা ভেবে নিজের স্বামীকে ধরিয়ে দিতে এতটুকু দ্বিধা বোধ করেননি।
তিয়া বললো,"রহস্য তো উদঘাটন হয়েই গেলো,এবার আপনারা কি করবেন আপনারাই ঠিক করুন। চল মিমি,রাজর্ষি। আমাদের যেতে হবে।"
অরুণকাকু বললেন,"তার আগে যে তোমাদের পারিশ্রমিকটা নিতে হবে।"
তিনি নিজের পকেট থেকে একটা খাম বের করলেন, তাতে ছিলো কুড়ি হাজার টাকা। তিয়া মিমির কাজের সফলতার পারিশ্রমিক ছিলো সেটা।
পুনশ্চ:- বেদির নিচেই পাওয়া গিয়েছিলো মজুমদার বাড়ির অতি মূল্যবান সোনার মুকুট। জেঠুকেও আর পুলিশে দেওয়া হয়নি, জেঠিমার কথা ভেবে। আর বলাই বাহুল্য যে জগদ্ধাত্রী পুজোটাও খুব ধুমধাম করে হয়েছিলো। তিয়া,মিমি আর রাজর্ষির বাড়ির সকলে নিমন্ত্রিত ছিলো সেদিন। রাজর্ষির তো পোয়াবারো,পেট পুরে খেয়েছিলো। তিয়া মিমিও খুব খুশি,কেসটা তাড়াতাড়ি সলভ করে অরুণকাকুকে দেওয়া কথা রাখতে পেরেছিলো।
সৃজা ও অদৃজা সরকার ©
মনে পড়ে যায় সেই মন দেওয়ার তিথি, আজও মনে আছে সব, ভুলতে পারিনি অনেক সময় গেছে বিতি । সেদিন ছিলো পূর্ণিমা রাত যেনো জ্যোৎস্না স্নাত প্ৰহেলিক...