আঁধারের গা বেয়ে আর 'একটা' রাত নামে,
স্লিপিং পিলের হুমকি এড়িয়ে নিরাশ বলিরেখাগুলো,
সারা মুখে কাটাকুটি খেলে, চোখের কোলে তুলে দেয়,
জ্বলন্ত স্বপ্ন-চিতার নিভে যাওয়া নরম ছাই।
তবুও চিড় ধরা ফ্রেমের ফাঁক দিয়ে স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি,
পঁচিশটা মায়াবী বিকেল আজও কোমর বেঁধে কুমিরডাঙ্গা খেলছে হিজলতলে,
ছেলেমানুষী করা গাঙচিলটা দু-টাকার বৃষ্টি এনে মাখিয়ে দিচ্ছে গায়ে,
ঐ তো ধূপকাঠি পুড়ছে, ভেসে আসছে মুড়ি-বাতাসা চেবানোর খসখসে শব্দ!
তুলসিতলার সন্ধ্যে-প্রদীপটা চুপটি করে সাক্ষী দিচ্ছে এখনো।
আর মায়ের হাতে রাঁধা সুক্তোর, গরম তেলে ভাজা পাঁচফোড়নের গন্ধটা..
হঠাৎ সব রঙিন অতীতগুলো চুপ করে স্মৃতির ঝুলিতে ঢুকে পড়ে,
পাঁজর ভাঙ্গা হুইলচেয়ারের পাশ দিয়ে একটা শীতল স্রোত বয়ে যায়,
নাকের ভেতরে গুঁজে দেয় মৃত্যুফুলের সুবাস।
কোটরগত অর্ধমৃত স্বপ্ন ঠেলে, আধবোজা চোখে,
হসপিটালের কলমটাকেই ধরেছি অসাড় হাতে,
শুধুই নিজের অবয়ব বাঁচানোর লড়াই, ছায়াটার আয়ু বাড়ানোর আপ্রাণ চেষ্টা!
না, তা আর হবেনা, সময় যে আমাকে জন্মদিন আর দেবেনা!
মোমবাতিরা বুঝি নিজে নিজেই নিভতে শিখে গেছে?
এবার আলতো শরীরে পালকের মতো উড়িয়ে দিতে হবে শেষ নিঃশ্বাসটাকে।।
শ্রীতমা মন্ডল
No comments:
Post a Comment