Thursday, 2 September 2021

স্তন্যদায়িনী

 স্তন্যদায়িনী

সোমনাথ সাহা


অসংখ্য উষ্ণতা গায়ে মেখে শুয়ে আছি তোমার কোলে মুখ ডুবিয়ে।

আমার মৃত্যুমুখী ব্যর্থ রক্তপাত বর্ধিত প্রলয়ের আভাস দিয়ে গেলো সবে।

সনাতনী দীর্ঘশ্বাস দুঃখের মত বুক চিতিয়ে ওঠে,

আর কণ্ঠ শুকিয়ে আসে শূন্য হওয়ার আগে।

ঠিক তখনই মায়ের শীতলতা আমি বুঝতে পারি,

যখন জ্বলন্ত কপালে তোমার স্পর্শ পাই।

তারপর ঘাম দিয়ে জ্বর চলে যায় নিরন্ন মানুষের পথ- মিছিলে।

আমি ঘুমিয়ে পড়ি ঘুমের ভিতরে আর স্বপ্ন দেখি,

রাস্তায় রাস্তায় কবর দেওয়া হচ্ছে মানুষের মনোবল।

আমি বুঝতে পারি বিপন্ন বাতাস এখানে পাথরের চেয়ে ভারী।

মা তখন হাত বুলিয়ে বাস্তবতার জানান দেয়,

আর বলে সভ্যতার পথ গুলো এইভাবেই মায়া কাটিয়ে কঙ্কাল হয়ে ওঠে। ভয় কোরোনা!

পদ্মের কোমলতাকে ভেদ করে যে মৃত্যু জন্মের ঠোঁট ছুঁয়ে এসেছিল, সূর্যাস্তের অনন্ত গোধূলি থেকে আমার নিঃসঙ্গ মা উঠে এসে তাদের তাড়িয়ে দিয়েছে জননী সত্ত্বা দিয়ে।

ঠিক যতটা দুর্বল হলে মেরুদন্ড থাকেনা, ততটাই দুর্বল হয়ে মায়ের কোলে শুয়ে আকাশের সুখতারা গুনছি।

দেখবে তুমি ক্লান্তির চাদরে শুয়ে স্নেহের চুম্বনও কেমন স্বাদহীন লাগে।

অশ্রুস্নাত চোখে দেখতে পাই চারিদিকে সামাজিক জঞ্জাল; উঠে দাঁড়াতে পারছিনা।

তাই, মায়ের হাত ধরে শুয়ে আছি শান্তির বিশ্রামে।

 একদিন উঠে দাঁড়াবো ঠিক !

স্তন‍্যদায়িনীর ঋণ শোধ করে মৃত্যুর কাছে গিয়ে আজীবন চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকবো মেরুদন্ডহীন হয়ে।

                              সমাপ্ত

1 comment:

মনে পড়ে যায় সেই হৃদয় দেবার তিথি দুজনার দুটি পথ মিশে গেল এক হয়ে নতুন পথের বাঁকে।

 মনে পড়ে যায় সেই মন দেওয়ার তিথি, আজও মনে আছে সব, ভুলতে পারিনি অনেক সময় গেছে বিতি । সেদিন ছিলো পূর্ণিমা রাত যেনো জ্যোৎস্না স্নাত প্ৰহেলিক...