Monday, 13 September 2021

সাহিত্যিক উপাখ্যান

নাকে জম্পেস করে সরষের তেল দিয়ে খাতাটাকে বাগিয়ে ধরেই লেখার ঘোড়া ছোটালেন মলয় বাবু । বউ দু-তিনবার , “ ওগো ভাত যে পান্ত হয়ে যাবে ” বলতেই বেজায় ধমক খেয়ে যে পথে এসেছিলেন সেই পথেই পা বাড়ালেন । ধমক খেয়েও লজ্জা নেই । স্বামী তার  লেখক মানুষ । এমনই মেজাজ হবে না তো খাটালের পঞ্চার হবে ! 

সত্যি চাল বাড়ন্ত কিন্তু বলবার উপায় নেই যে ,বাজার থেকে নিয়ে এস । মলয় বাবু খুশী থাকলে বউকে হাঁক পারেন , “ এই যে শুনছো ! আঃ , রাখ তো তোমার রান্না । দেখো , আমার মদনার বদনা চুরি হয়েছে , কে খুঁজে বার করবে জানো ?”

বউ ঘমটার আড়াল থেকে ফিক করে হেসে বলেন “ শেষে বদনার জন্য গোয়েন্দা , মরণ দশা ।”

আর যায় কোথায় ! মলয় বাবু লুঙ্গিতে গিট দিতে দিতে বললেন , “ দ্যাখো, এ কি তোমার শাক ভাত তৈরী ! সাহিত্য হল রীতিমত সাধনা ।”

-   “ কে পড়বে তোমার এ গপ্প ?,” মাথায় চোখ তুলে বলে বসেন বউ ।

-   “ পড়বে গো গিন্নি পড়বে , সাহিত্য জগতের আমি এক লুকানো নক্ষত্র , এক নাম করা পাবলিশার্স বলেছেন বই বার করবেন ।”

এক দু’মাস অতিক্রম । ‘ বদনা চোরের কী হল? ’ তা জানার জন্য বিপুল বিজ্ঞাপনের আয়োজন । সবই সুহৃদ পাবলিশার্স , তারই কৃপা । আগামী বইমেলার মধ্যেই আত্ম প্রকাশ হবে সাহিত্য জগত এক বিরল সাহিত্যিকের , যিনি গোয়েন্দা গল্পের চূড়ামণি ।

পাড়ায় বিকালের আড্ডায় বউকে যারাই জিজ্ঞাসা করেন , “ কী ব্যাপার ! আজকাল মলয় বাবুর টিকিটিও দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না আজকাল ।”

বুক আরও চওড়া করে বউ বলেন, “ দাদা, বুঝতেই পারছেন, লেখক মানুষ !”

                                      "মলয়’দা সব রেডি , কবে তাহলে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন বলুন? আর হ্যাঁ , এক বার আসুন কথা আছে” , ফোনের অপর প্রান্ত থেকে ভেসে আসে ।

রাতে বউয়ের দিকে পিছন ফিরে কি যে আজকাল হিসাব করে ভগবানই জানেন ! জিজ্ঞাসা করলেই উত্তর পাওয়া যায় না ।

মাহেন্দ্রক্ষণ হাজির । বেশ ক’টি মিডিয়াও উপস্থিত । সভাগৃহ বেশ পরিপাটী করেই সাজানো । সামনের টেবিলে বইগুলো সাপের মত সর্পিল ভাবে থরে থরে রাখা । পিছনেই ব্যানারে উঁকি দিচ্ছে জলজ্বলে ইংরাজিতে মলয় বাবুর নাম ।

-   “ আরে আপনি এসে পড়েছেন , এখানে কেন ? বউ’দিকে নিয়ে সামনে বসুন, আজ আপনারই দিন !” হাসতে হাসতে বললেন পাবলিশার ।

শুরু হল নানা অলঙ্কারে বক্তৃতা । বউ মনে মনে ভাবে, ‘ এত বছর বিয়ে হল এত গুণ যে তার স্বামীর আছে জানাই ছিল না !’

ভর্তি সভাগৃহে করতালির বন্যা । বাইরে থেকে মাঝে মধ্যে উঁকি দিয়ে যাচ্ছে প্যাকেট বন্ধী বিরিয়ানির দল । গন্ধটা বেশ ভালোই উঠেছে ।

মলয় বাবু রাস্তায় দাঁড়িয়ে বউকে বলল , “ কি গো কেমন !”

লাজুক লাজুক হেসে বউ বলে , “ এত বড় লেখক তুমি জানতাম না গো ! আজ কিন্তু আমাকে বড় রেস্টুরেন্টে খাওয়াতেই হবে ।”

বউয়ের গলায় আবদার শুনেই বিষম খেল মলয় বাবু । সামাল দিয়ে বললে , “ লেখক মানেই ভবঘুরে । সামনেই দেখো না কেমন তিরিশ টাকায় মাছ – ভাত ।”


কী করে মলয় বাবু বউকে বলে বলুন তো যে ,পাবলিশার মিষ্টি কথায় পকেট কেটে দিয়েছে ! থুড়ি, মলয় বাবু যেচেই নাম কেনার তাগিদে বাঁশকে জঙ্গল ছাড়তে বলেছিল । বাঁশও মহাননদে মলয় বাবুর মত অ- সাহিত্যকুলকে বেশী পছন্দও করে ।।


লেখক – পবিত্র চক্রবর্তী

No comments:

Post a Comment

মনে পড়ে যায় সেই হৃদয় দেবার তিথি দুজনার দুটি পথ মিশে গেল এক হয়ে নতুন পথের বাঁকে।

 মনে পড়ে যায় সেই মন দেওয়ার তিথি, আজও মনে আছে সব, ভুলতে পারিনি অনেক সময় গেছে বিতি । সেদিন ছিলো পূর্ণিমা রাত যেনো জ্যোৎস্না স্নাত প্ৰহেলিক...