কালীমন্দিরে পূজা দিতে আসা এক নারীর কাপড়ে রক্তের দাগ। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ওই মহিলাকে মন্দিরের পুরোহিত বললেন, “আপনার পূজা দেয়া হবেনা”
যুবতী বললেন, “কেন ? বাকিরা দেবে আমি কী অপরাধ করেছি?”
পুরোহিত বললেন, “ওই যে আপনার কাপড়ে রক্তের দাগ। ওই জন্য”
“আমি খেয়াল করিনি ঠাকুরমশাই। কিন্তু এটা তো আমার নারীত্বের প্রতীক। আমি তো বাকিদের মতই উপবাস করে আছি”,
“সে যাই হোক। আপনি এখন অশুচি। আমি আপনাকে এই সময় মন্দিরের ভিতরে ঢুকতে দিতে পারিনা”
এরপর বলিদানের বলি হওয়া পশুর মুন্ডু গুলো মন্দিরে আনা হল রক্ত পড়তে পড়তে গেল।
মেয়েটি বলল, “এই যে পশুর রক্তে মন্দির ভেসে যাচ্ছে এতে অশুচি হয়না ?”
“এটা বলির রক্ত। আপনি বলি হয়ে আসুন আপনার মুন্ডুটাও রাখব তখন আপনার রক্ত পড়লেও ক্ষতি নেই”, পুরোহিত জবাব দিলেন।
“তাহলে যার পূজা আপনি করছেন। সেই মা ও তো রক্তে মাখামাখি, হাতগুলো লাল রক্তে মাখা তিনিও তো অশুচি?”
“ওটা অসুরদের মুন্ডু আর হাত কাটার রক্ত, নারীর নয়”,
“আচ্ছা তাহলে পশুর রক্ত অসুরের রক্ত অশুচি নয়। শুধু নারীর রক্ত অশুচি ?”
পুরোহিত রেগে গিয়ে উগ্রভাবে বললেন, “ওই রক্ত হাত মাথা অঙ্গ কাটার ফলে বেড়িয়েছে। আর আপনার রক্ত.. ছিঃ ছিঃ দয়া করে এসব ব্যাপারে মুখ খুলতে বাধ্য করবেননা”
মেয়েটি ভ্রু কুঁচকে বলল, “কেন ওটা অঙ্গ নয় ?”
“দয়া করে আপনি চুপ করুন। এবং পিছনের ব্যাক্তিকে পূজা দিতে দিন। আমি আপনার সাথে কোন কথা বলতে চাইনা, ওই রক্ত আর নারী এই দুই অশুচি ব্যাস”।
কথা শেষ হতেই মা কালীর হাতের পিতলের খাড়া পড়ল ঠাকুরমশায়ের মাথায়, মাথা ফেটে রক্তে ভেসে গেল মন্দির।
যিনি মন্দিরে আছেন তিনিও এক রক্তমাখা নারী তার কালো রূপে ঘোচায় কালিমা।
রক্তে নারীকে অশুচি বলার কোন যুক্তি নেই। তাই আর একজন নারীকে অপমান করার যথাযথ শাস্তি পেলেন পুরোহিত। রক্ত নিয়ে অপমান করার ফল তাকে রক্ত দিয়েই দিতে হল।
অনীশ ব্যানার্জী
No comments:
Post a Comment