Friday, 10 September 2021

এক মিনিটের রাস্তা

 "বাবা, সদর হাসপাতালটা কোথায় বলতে পারবে?"


"হ্যাঁ।এই তো,এক মিনিটের রাস্তা ।এখান থেকে সোজা গিয়ে ডানদিকে যাবেন ।ওখানে বড় রাস্তা পাবেন ।রাস্তা পেরোলেই সদর হাসপাতাল ।"


"আচ্ছা বাবা ।আমার মেয়েটার বাচ্চা হয়েছে গতকাল ।বয়স হয়েছে বলে হাসপাতালের  রাস্তা ভুলে যাই বারবার ।"


"সমস্যা নেই নানু।আপনাকে কি পৌঁছে দেবো?"


"না থাক বাবা ।যেতে পারবো ।মেয়েটা একা আছে ।তাড়াতাড়ি যেতে হবে।"


এক মুহূর্ত দেরি না করে বয়স্ক মহিলা চলে গেলেন ।বয়সের ভারে ভারাক্রান্ত বোঝাই যাচ্ছে ।কিন্তু তারপরও দায়িত্বগুলো তো  বয়স মানে না।ধীরে তবে যথাসম্ভব দ্রুতগতিতে হেঁটে চলে গেলেন মহিলা।হয়তো বয়সের কারণে স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে গেছে বলে তিনি রাস্তা হারিয়ে ফেলেছিলেন এবং হয়তো আবারও হারাবেন ।তাই শিহাবের কাছে জেলা সদর হাসপাতালের রাস্তা জিজ্ঞাসা করেছেন ।


উনি যাওয়ার পর কিছুক্ষণ ওনার যাত্রাপথের দিকে তাকিয়ে থাকে শিহাব ।পুরনো স্যান্ডেল আর জোড়াতালির বোরকা,ধীর পায়ে এগিয়ে যাওয়া এক বাহন যেন।যেন অনেক ভারী কোনো বোঝা বয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।


"বৃদ্ধ হলে দায়িত্ব কি আরও বেড়ে যায়? বয়সের ভারে মানুষ বৃদ্ধ হয় না;দায়িত্বের ভারেই বৃদ্ধ হয় ।ওনার পরিবারে কি কেউই নেই যিনি ওনার সদ্য মা হওয়া মেয়ের কাছে থাকতে পারতেন ।কেমন পরিবার যে এমন বয়স্ক মানুষকে খাটায়? অবশ্য মা তো ।হয়তো পরিবারের সবার বারণ উপেক্ষা করে তিনিই মেয়ের কাছে আসতে চেয়েছেন ।

যাই হোক,পরিবারের তো ওনার প্রতি একটা দায়িত্ব থাকে।"


এসব চিন্তা করতে করতেই হঠাৎ শিহাব দেখে রাস্তার সবাই দৌঁড়ে দৌঁড়ে বড় রাস্তার দিকে যাচ্ছে।ও একজনকে ধরে জিজ্ঞেস করে,


" সবাই বড় রাস্তার দিকে যাচ্ছে কেন?"


" আরে বড় রাস্তায় নাকি অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছে!!কাকে নাকি একটা ট্রাক পুরো পিষে দিয়ে গেছে!!!"


ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে শিহাব ।

"ওদিকেই তো গেলেন ঐ নানু।ওনার আবার কিছু........."

দৌঁড়ে বড় রাস্তার দিকে যায় ও ।একটা বড়সড় ভিড় জমে গেছে ।ট্রাক ড্রাইভার ট্রাক ছেড়েই পালিয়েছেন।


"আল্লাহ্ ঐ নানুর যেন কিছু না হয় ।"


এক মিনিটের আলাপ তারপরও ওনার জন্য দোয়া করছে শিহাব ।এক মিনিটের জন্যও যার সাথে পরিচয় হয় তাকে মানুষ হারাতে চায় না ।ভিড় ঠেলে কোনোমতে এগিয়ে যায় শিহাব ।কিন্তু...এটা যে সেই নানুই.......একদম পিষে দিয়েছে পুরো শরীর!!শুধু মলিন চেহারা মলিনভাবেই পড়ে আছে ।


"এক মিনিট আগেও যার সাথে কথা বললাম,যার সাথে প্রথম পরিচয় হলো তিনি এখন এই পৃথিবীতে নেই?কেন আমি ওনাকে জোর করে পৌঁছে দিলাম না!!হয়তো তাহলে আজ একটা প্রাণ বেঁচে যেতো!!"


লেখক-মাইনুল ইসলাম তানিম 

No comments:

Post a Comment

মনে পড়ে যায় সেই হৃদয় দেবার তিথি দুজনার দুটি পথ মিশে গেল এক হয়ে নতুন পথের বাঁকে।

 মনে পড়ে যায় সেই মন দেওয়ার তিথি, আজও মনে আছে সব, ভুলতে পারিনি অনেক সময় গেছে বিতি । সেদিন ছিলো পূর্ণিমা রাত যেনো জ্যোৎস্না স্নাত প্ৰহেলিক...