বৃষ্টির ফোঁটা গুলো ডুমুর পাতার গা বেয়ে বেশ বয়ে যাচ্ছিলো, রোজকারের মতো আজও আমার ঘুম ভরা ঠোঁটে ছিল জ্বলন্ত সিগারেট, আর ঈষৎ কম্পমান হাতে ছিল চায়ের কাপটা| প্রথম চুমুকেই আলস্য ভাবটা বিদায় নিয়েছিল আর কাঁচের ফোকর দিয়ে আগত তীক্ষ্ণ ফলার মতো দু একবার বৃষ্টির কাতরতাপূর্ণ ঝাপটা, বাস্তবতার কঠিন চাদরে মুড়ে থাকা বিশ বছর আগের শৈশব এর কিছু পাগলামির দিকে মৃদু মন্দ ঠেলে দিচ্ছিল|
উপলব্ধি করলাম দেখতে দেখতে বিশটা বছর কাটিয়ে ফেলেছি !ব্যালকনি তে দাঁড়িয়ে, বৃষ্টির জল বয়ে যাওয়া কাঁচের ওপারের স্মৃতিচারণ করাটা নেহাতই ভাগ্যের রথচক্রের অনন্ত গতিফের ছাড়া আর কিছুই না ;
সেই বৃষ্টির ফোঁটার দাগে সুসজ্জিত কাদা জলে মোড়া ফুটবল এর দিকে ছুটে যাওয়া, একরাশ প্রানোচ্যল আনন্দে মেতে ওটা ছেলেগুলোর মধ্যে নিজেকে মনে পরে গেলো. কাদা মাখা জলে নিমজ্জিত ক্ষমতাহীন শরীরটাকে নিয়ে আনন্দের জেরে পুকুরে ঝাঁপ দেবার কথা স্পষ্ট মনে পড়ছিলো. কল্পময়ই মনটাকে কষ্ট না দিয়ে আরেকটা সিগারেট ধরিয়ে কাঁচের উপর হাত রেখে আবার মশগুল হতে থাকলাম |নিজেকে বড্ড একা লাগছিল, লাগবেনা বা কেন? সোনালী দিন শুরু হবার আগেই গোধূলি তেই শেষ হয়ে গেছে |
সেই দিনগুলোকে বড্ডো কাছে পেতে ইচ্ছেকরছিলো |কিন্তু বাস্তবতা, সেই অকুল প্রেমের নিদাগ তিয়াসার কল্পনাকে করাঘাত করো উঠেছিল, কাজেই ঘড়ি র দিকে তাকিয়ে তাড়াতাড়ি করে ঘরে আসতে গিয়ে খামোকা হোঁচট খেয়ে দেওয়াল আলমারিতে ধাক্কা দিয়ে, নিজেকে প্রায় সামলে নিলাম |আলমারি মধ্যেকার অগোছালো বই গুলো আন্দোলনের সাথে মেঝেতে আছাড় খেয়ে পড়লো |একটা বইয়ের পৃষ্টা থেকে একটা অতিপরিচিত কাগজ মেঝেতে লুটোপুটি খাচ্ছিলো |আন্দাজ করতে পারছিলাম ওটা কিসের কাগজ ;প্রবল উত্বেজনার সাথে চিঠিটা খুলতে খুলতে বুজতে পারছিলাম, চিঠিটা 20বছর আগের হলেও, তার ভিতরের আন্তরিক ভাবসমৃদ্ধ লেখাটা, বৃক্ষ্যে বিকশিত কুঁড়ি থেকেও নুতন |আর তার স্মৃতি বর্তমানের করাল অঙ্গীকার কে চূর্ণ বিচূর্ণ করে ভয়ঙ্কর উন্মাদনার সাথে অন্তরটাকে বিদীর্ণ করছিলো |সেদিন যাদের জন্য আমার প্রাণ বন্ধু কে লাঞ্ছনা সহ্য করতে হয়েছিল তাঁদের উদ্যেশে আমার বিদির্ন হিয়া থেকে ধিক্কার ছাড়া আর কিছু আসছিলো na. সে ছিল আমার কল্পনার রাজকুমারী, আর বাস্তব জীবনের জ্বলন্ত 'দিয়া'| যাকে একটি শব্দে প্রাণ বন্ধু বললে কিছু মাত্র ভুল হবে না |কাগজ টা ছিল তারি দেওয়া আমার কাছে শেষ চিঠি |
যেটা আমার অতীতের সেই বিরহ যন্ত্রনা কে মনে করিয়ে দিছিলো |
এমন সময় হটাৎ আমার ফোনটা বেজে উঠলো, আর বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা "আমি" কে বিছানায় শায়িত অনুভব করলাম |আলমারির বইগুলো আমার মাথার চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে, বালিশের পাশে থাকা ফোনটার দিকে চোখ মেলতেই দেখলাম, Sayan এর incoming call. ঘড়িতে 8.30 বেজে গেছে, এখন একটাই চিন্তা "কলেজ যেতে দেরি হয়ে যাবে আর Sayan আমাকে খিস্তি দেবে "|ফোন receive করে গালাগালি হজম করার ভুল না করে, গামছা টা খুঁজতে ব্যাস্ত হয়ে গেলাম ||
-দেবাংশু..
No comments:
Post a Comment