Saturday, 11 September 2021

নিঃস্বার্থ বন্ধুত্ব

বনানি একটা  মাদক আসক্তি সহায়তা  সংস্থায় কাজ করে এক বছর ধরে।অনেক মাদক আসক্ত লোককে দেখেছে কেউ গরিব  কেউ বা ধনী ।শুধু একটা  মিল  এদের পুরো পরিবার এদেরকে ঘৃণা করে। এমনকি সমাজ ও এদের ঘৃণা করে। এই সংস্থার সঙ্গে বনানী নিজ ইচ্ছায় যুক্ত হয়।কিন্তু এত মানুষের কষ্ট দেখে এখন ওর কাছে নিজের বড় বড় কষ্টও ছোট্ট লাগে।কিন্তু ও আজ সত্যিই খুব বড় একটা কষ্ট পেল যখন ও এই নির্মম জায়গাটায় নিজের অতিপরিচিত বন্ধু দ্বীপ কে দেখতে পেল। ও দ্বীপের কাছে গেল দ্বীপের হাতে একটা কাচের প্লেট ছিল

 বনানী দ্বীপ?

বনানীকে দেখে অবাক হয় দ্বীপ।আর ওর হাতের প্লেটটি টুকরো টুকরো হয়ে ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। দ্বীপ বলে বন তুই এখানে? বনানী অবাক হয়ে যায় সে বলে তুই এখানে আমি কি বলবো দীপ? তুই তো....... 

তখনই কে জানি বনানী কে ডাকে তো বনানী ওর বসের কাছে যায় তাকে বলে যে "এখানে নতুন একটা ছেলে এসেছে আমি চাই ওকে কাউন্সেলিং করতে।" তার বস বলে "এখানে তো অনেক ছেলে আছে তুমি কেন এরকম ভাবে তাকে ঠিক করতে চাও?""আর তোমাকে আমি ছেলেদের কাউন্সেলিং করতে দিতে চাইতাম না।""আর সত্যি বলতে এক বছর আগে চাকরি হয়ত দিতাম না।"কিন্তু আমি কেন দিয়েছিলাম জানিনা।"তবে ওটা আমার লাইফের একটা সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল।" "তুমি যা করতে চাও কর।" ও আচ্ছা ওর নাম কি? "বনানী বলে "ফারজান ইসলাম দ্বীপ। "দ্বীপের কাছে যায় বনানী কেমন আছিস দ্বীপ? 

"এখানে যেমন তোরা রেখেছিস ঠিক তেমন।" বনানী বলে "কটাক্ষ করবি না  আমাদের কি স্বার্থ রয়েছে তোকে আটকে রাখার?আর আমি অবাক হয়ে গেছি তোর মতো ভালো একজন স্টুডেন্ট এখানে!"

"দেখ এসব বলে লাভ নেই।"

লাভ আছে তুই সত্যি করে বল প্লিজ বল প্লিজ।

 তো তখন দ্বীপ বলে, যে স্কুল পাশ করার পর এলাকা পাল্টানো, তোরা ছিলি না। যেখানে এত বছর ছিলাম সেই জায়গাটাও ছিল না

। একা লাগছিল তারপর একদিন বা মারা গেল।বাবা তো সেই কবে ছিল না তখন একা হয়ে গেলাম। সবার সহানুভূতি পেতে পেতে ক্লান্ত হয়ে পড়ে কয়েকজনের সাথে নেশা আর সিগারেট।তারপর আরকি ভাই এখানে ভর্তি করে দিল।দীপ বলে "আমি জানি আমার লাইফ আমি নিজে নষ্ট করেছি কিন্তু এতে কারো কি এসে যায় বন?" বনানী বলে "দেখ দ্বীপ তুই লাইফটাকে যত সহজ ভাবিস ততটা না।দুঃখ কি তোর একার?" 

"দ্বীপ আমি নেশা ছাড়তে পারবো না।"

বনানী পারবি তুই চেষ্টা করেছিস কখনো বল?

করেছি।

 না এটা চেষ্টা না। চেষ্টা আমি দেখাবো দ্বীপ 

আমার পেছনে কেন পরলি আমি এভাবেই ঠিক আছি

। বনানী" না তুই ঠিক নেই ""আজ থেকে ধরে নে যে এই জায়গাটা তোর বাড়ি।" এবং আমি সেই বন বন বনানী।"  বলে হেসে ওঠে বনানী।দ্বীপও হেসে উঠে।ছোটবেলায় দ্বীপ বনানীকে এভাবে ক্ষ্যাপাতো 

 বনানী কোনভাবে ওকে মানায় "একটা খেলা খেলি চল word বলতেই যেটা মাথায় আসবে তা বলবি_

 ফ্রেন্ড?

 তুই 

ফ্যামিলি?

মা।

 স্মৃতি

 এক সেকেন্ড ভেবে স্কুল।

 তুই স্কুল মিস করিস?

কি যে বলিস স্কুল মিস করবো কেন? এমনি 

হয়েছে সাফাই দেওয়া লাগবে না।কাল রেডি থাকিস

 ও কোনোভাবে দ্বীপকে নিয়ে  স্কুলের কাছে যায়। দ্বীপ খুশি হয়ে যায় দ্বীপ গাছটা এখনো আছে?

 বনানী হ্যাঁ আছে।  ওই দেখ চল ফুচকা খাই। ওরা ফুচকা খায়। তারপর বনানী বলে দেখেছিস লাইফটা সুন্দর। কিন্তু তোর দেখা লাগবে। লাইফটা তো তোর তুই নিজের  ক্ষতি নিজে করবি কেন?  ভালো কাজ করবি বুঝলি। দ্বীপ বলে বন তুই এত ফিলোসফিক্যাল কথা কই শিখলি?আগে তো বন বললে ক্ষেপে যেতি।বলতি আমার নাম বন না বনানী। স

ময়ের সাথে সাথে অনেক কিছু বদলায়। চল ফিরে যাই।

ফিরে গিয়ে জানি বন্দি কারাগারে যেতে তোর ভালো লাগছে না কিন্তু  আমি কি করি বল?   

সব বুঝি আমি। প্রত্যেকদিন আসবি তাহলেই হবে। শোন একটা কথা বলি?

হ্যাঁ বল

 তুই কি সবার মত আমার হেট করিস?

 হেট তোকে? জিবনেও না।শোন খারাপ কাজকে ঘৃণা করব কিন্তু যে ভুল করেছে তাকে না।


এরপর  চেষ্টা করে অনেক কষ্ট করে বনানী।  এবং সুস্থ হয়ে  উঠে  দ্বীপ। তো সুস্থ  এর অনেকদিন পর একটা সভায় দ্বীপের সুস্থ হওয়ার পর :

নিঃস্বার্থ বন্ধু পাওয়া খুব কঠিন ব্যাপার। যে সেটা পায় সে ভাগ্যবা।ন এরকম বন্ধুকে হারানো উচিত নয় আর hurt করা উচিত না।আমি আজ এখানে একজনের নাম নিবো বনানী। থ্যাংকস বন বনানী।

সে বলে বন্ধুত্ব থ্যাংক ইউ নেই। 

আজ তাকে আবার সেই প্রশ্ন করে বনানী 

 ফ্রেন্ড?

 তুই।

ফ্যামিলি? 

মা

 স্মৃতি? 

স্কুল।

স্বপ্ন?

কিছু জায়গায় ঘোরা। 

ভালোবাসা?

 স্বাধীনতা।

 নেশা?

ছেড়ে দিয়েছি। 

 প্রিয় মানুষ?

বন বন বনানী।

 বনানী  খুব খুন্ধ তার বন্ধুর জন্য নিঃস্বার্থভাবে কাজ করেছে সে আজ।


বিদৌরা প্রিয়দর্শিনী বারহান


No comments:

Post a Comment

মনে পড়ে যায় সেই হৃদয় দেবার তিথি দুজনার দুটি পথ মিশে গেল এক হয়ে নতুন পথের বাঁকে।

 মনে পড়ে যায় সেই মন দেওয়ার তিথি, আজও মনে আছে সব, ভুলতে পারিনি অনেক সময় গেছে বিতি । সেদিন ছিলো পূর্ণিমা রাত যেনো জ্যোৎস্না স্নাত প্ৰহেলিক...