আর্য্যা বহুত মিনতি করি তোয়
কোন এক প্রশান্ত ভোরে শিউলির গন্ধে জাগ্রত ছোট্ট একটি মাটির দুর্গা প্রতিমা।
অপূর্ব সেই শান্ত শোভন ললিত পেলব মূর্তি।
রক্তাভ আলতায় রাঙানো যার চরণযুগল শোভিত পদ্মরাজে।
অক্লান্ত ও নিবিষ্ট মননে যে তুলিকা জেগেছিল নিদ্রাবিহীন রাতের পরে রাত্রি-
সেই তুলিটিও মন প্রাণ ও সত্ত্বা নিয়ে বেঁচে আছে, শুধু নীরবে অনুভব কর তাকে।
যুগযুগান্তের সীমানা থেকে ভেসে আসা ঢাকের মন্দ্রমধুর ধ্বনি আর,
পুজোর আবেশে ঢাকিদের বোল কথা বলে ভালোবেসে,
ঠিক তখনই বাতাসে ধূপ ধুনোর গন্ধ আর কিছু মাতাল করা সুর শুনি-
অহম রুদ্রেভীর্বসুভিশচরাম্যহমাদিতৈরুত বিশ্যদেবৈ:
অহম মিত্রাবরুনোভা বিভর্ম্যাহমিনদ্রাগনী অহমস্বীনোভা....
পবিত্রতা আজও বেঁচে আছে ওই ছোট ছোট তালিবানি শিশুগুলির চোখে
ওরা নিষ্পাপ তাই কদর্যতার কালি ওরা বোঝে না, ওরা জানে না 'ভয়ঙ্কর' কী!
ওদের চোখে আজও ভীষণ পবিত্র তুমি ভীষণ পবিত্র আমি।
ঠিক যেমনটি ছিলাম বহুযুগ আগেও, সেই আত্রাই নদীর ধারটিতে- তোমার কি মনে পড়ে সেই কথা?
কাঁসর, ঘণ্টাধ্বনি ও শঙ্খের আওয়াজে শুরু হয় মন্ত্রোচ্চারণ- "ওম দুর্গে দুর্গে রক্ষণি স্বাহা..."-
বিশ্ব চরাচর পবিত্র হয় সেই মন্ত্রে; পরমাপ্রকৃতি সৃষ্টির আদি ও উগ্ররূপে মুগ্ধ হন ধরিত্রী।
সৃজনশীল ব্রহ্মা, পালনকর্তা বিষ্ণু এবং সংহারকারী রুদ্রের ত্রিশক্তিতে মিলেমিশে যায় সর্বমন্ত্রময়ীর মান্যতা।
মাগো ফিরিয়ে দাও সেই শান্তি, অকৃত্রিম সুখ আর রূপকথাদের স্বপ্নিল ডানা।
ঠিক যেমনটি ছিল ছোট্টবেলায়; ঠিক যেমনিভাবে আপনঘরে সূর্যাস্তে ফিরত পাখী -আপন পাখা মেলে।।
অনিন্দিতা সরকার
No comments:
Post a Comment