Saturday, 18 September 2021

লুকিয়ে রাখা পুরোনো জিনিস

 যতবার ঠিক এমন করে ভেবেছি- সূর্যের ছাই

দিয়ে ঘর বানাবাে , ততবারই ঠিক হারিয়ে গেছাে তুমি

 ফকিরের ঝােলাতে নাকি রাজপ্রাসাদ থাকে - কত কয়লায়

 চাঁদ হাসল -

 খোঁজ রাখে কোন বােত্রিশ রাখালের মা ? ! 

গােল্লাছুটে ছুটে গিয়ে একটা ডাংগুলি নিয়ে আসি , পকেট হাতড়ে বেরােয় ষােলআনা

 ইস্কুলের গেটের সূৰ্য্যঘড়িতে তখন প্রায় সূর্যগ্রহণ 

লাগিয়ে দিই

 যাতে তাড়াতাড়ি ছুটি হয়ে যায় ইস্কুলে

 কতকিছু ছিল মাথার পশ্চিমে ওই মেয়েটার 

ফিতেতে , আজ শৈশব বললে কিছুই মনে

 পড়ে না -- শুধু যেটুকু মনে পড়ে

 তার মধ্যে ওই নীল ফিতেটা এখনাে ওকে

 ফেরত দেওয়া হয়নি ।

 Sikta Anan Hoque 

আলো আঁধারে ভিক্টোরিয়া

 


Click by সায়ন তালুকদার  

Tuesday, 14 September 2021

শ্বসন

গাছের গায়ে হেলান দিয়ে বসে থাকতে থাকতে কখন যে চোখটা লেগে গিয়েছিল, তা আর মনে নেই তার।যখন সে চোখটা খোলে তখন তার চারপাশে শুধুই অন্ধকার।এত গাঢ় অন্ধকার কখনও দেখেনি সে।তাই চোখ সয়ে আসতে একটু সময় লাগছিল।আর ততক্ষণে সে হাত দুটো এদিক সেদিক নাড়িয়ে বুঝে নিতে চেষ্টা করছিল আশপাশের পরিস্থিতি।

 

প্রায় মিনিট খানেক পর পুরোপুরি স্পষ্ট না হলেও খানিকটা ঝাপসা ঝাপসা ভাবে দেখতে পায় চারিদিকটাকে।তার মনে হয় সে এতক্ষন ধরে কোন একটা বদ্ধ ঘরে বসে আছে।চিন্তাটা মাথায় আসতই খানিকটা নিশ্চিত হওয়ার জন্যই হয়তো হাতটাকে পেছনে নিয়ে ঠাহর করতে চায় তার অবস্থান।আর ঠিক তখনই তার শিরদাঁড়া বেয়ে একটা ঠান্ডা স্রোত নেমে যায়।


" একি! আমি কোথায়? "


হামাগুড়ি দিয়ে খানিকটা পিছিয়ে যায় সে।হাতটা তুলে ধরে চোখের সামনে।কিচ্ছু দেখতে পাচ্ছে না।কিন্তু হাতে লেগে থাকা গুঁড়োগুলো আর চটচটে তরলটা সে অনুভব করতে পারছে।কী মনে হতেই আঙুলের ডগাটা আলতো করে জিহ্বায় চোঁয়ায়।আর সঙ্গে সঙ্গে একটা তড়িৎ প্রবাহ গিয়ে সজোরে আঁচড়ে পড়ে করোটির ভেতর থাকা মাংস পিন্ডটার উপর।একটা উৎকট নোনতা স্বাদে মুখটা বিকৃত হয়ে যায় তার।একদলা থুতু আর বমি নিজে নিজেই যেন বেরিয়ে আসতে চায় পেটের ভেতর থেকে।


কিছুই বুঝে উঠতে পারছে না সে।কীভাবে সে এলো এ ঘরটায়?কে-ই বা আনল তাকে এখানে? কেনই বা আনল?


প্রশ্নগুলো এক এক করে জট পাঁকাতে শুরু করে তার মাথার ভেতর।আর তার সাথে তাল মিলিয়ে ধীরে ধীরে সে তলিয়ে যেতে থাকে একটা ঘোরের সাগরে।


চোখ,কান,নাক সবকিছুতেই যেন এক এক করে তালা পড়ে যেতে থাকে।বুকের উপর যেন চেপে বসতে থাকে একটা ভারি পাথর।কী এক অসহ্য যন্ত্রনা!চারিদিকে শুধু ' ঝি…ঝি… ' শব্দ ছাড়া আর কিছুই শুনতে পায় না সে।একটু আগের ঝাপসা ঝাপসা দৃশ্যগুলোও ধীরে ধীরে মিইয়ে যেতে শুরু করে,চোখের সামনে নেমে আসে অন্ধকার পর্দা।



কতক্ষণ সে ঘুমিয়ে ছিল তা তার মনে নেই।কিন্তু যখন সে চোখ খোলে তখন তার আরও একবার অবাক হওয়ার পালা।


তার চারপাশের দৃশ্যপট রাতারাতি বদলে গিয়েছে।সেই অন্ধকার বদ্ধ ঘরটা এখন আর নেই।বরং,তার জায়গা এখন দখল করে নিয়েছে ময়লা আর আবর্জনায় ঠাসা একটা উন্মুক্ত প্রান্তর আর একরাশ পচা,গলা,বাসি জিনিসের উৎকট গন্ধ।সেই গন্ধ  তাকে আষ্টেপৃষ্টে বেঁধে নিয়েছে।শত চেষ্টা করেও সে উঠে দাঁড়াতে পারে না।যতবারই সে উঠে দাঁড়াতে চায় এগুলোর মধ্যে থেকে,ততবারই আগের চেয়ে আরও বেশি শক্ত হয়ে উঠে সেই বাঁধন।আবার সে এলিয়ে পড়ে এই ময়লা আবর্জনার উপর।


একটু আগের সেই বদ্ধ ঘরের অসহ্য যন্ত্রণাটা ফের চাগাড় দিয়ে উঠে।বুকের উপর চেপে বসা পাথরটার ভারও যেন আরও একটু বেড়ে যায়।সঙ্গে আবর্জনার উৎকট গন্ধটাও এক অদৃশ্য চাপ সৃষ্টি করতে থাকে তার ঘ্রাণ ইন্দ্রিয়ের উপর।


হঠাৎ করে একটা প্রকট রকমের শ্বাসকষ্ট শুরু হয় তার।মনে হতে থাকে কিছু একটা চেপে বসছে গলার উপর।ফুসফুসটাও ফেটে যাওয়ার উপক্রম।তীব্র যন্ত্রণায় সে খামচে ধরতে চায় আবর্জনার স্তুপ।ঠিক এমন সময় আঙুলের ডগাগুলো ভিজে উঠে কোন এক অজ্ঞাত তরলের স্পর্শে।তারপর,কিছু বুঝে উঠার আগেই এক প্রকাণ্ড ফোয়ারা আবর্জনার স্তুপ ভেদ করে শূন্যে ভাসিয়ে দেয় তাকে।এর পরক্ষণেই, শুধু একটা 'ঝুপ…' শব্দ।এরপর আর কিচ্ছু মনে নেই তার।


যখন সে চোখ মেলে তাকায় নিজেকে নিজের খাটেই আবিষ্কার করে।আশেপাশে চোখ ঘোরাতেই দেখতে পায় মা-বাবা,কাকা-কাকিমা সহ পরিবারের সকলকে।সকলেই উদ্বিগ্ন দৃষ্টিতে চেয়ে আছে তার দিকে।একটু উঠে বসার চেষ্টা করতেই মাথার পাশে বসে থাকা ঠাকুমা বাঁধা দেয় তাকে।পায়ের কাছটায় যে বন্ধুটি বসে আছে সেও হাঁক পাড়ে,


''কি করছিস!উঠিস না।এখন খানিকক্ষণ বিশ্রাম কর।উফ…,যা ধকল গেল এতক্ষণ ধরে।''


''কি হয়েছে আমার? আর আমি ঘরেই বা এলাম কী করে!'' বলে অবাক আর জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে সকলের দিকে তাকায় সে।


'' অ্যাঁ..হ.., বাবুর কথা শোন।তা তুই এখানে আসবি না তো কোথায় আসবি,মর্গে?'' ছেলের প্রশ্ন শুনে খেঁকিয়ে উঠে বলে  তার বাবা।


''মর্গ!'' বেশ অবাক হয় সে।''মর্গ কেন?'''


এর উত্তর দেয় তার বন্ধু।সে বলে, ''তা, মর্গে যাওয়ার মত কাজ করলে সেখানে না গিয়ে আর উপায় কি,হ্যাঁ?অত রাতেরবেলা তোকে কে বলেছে গাছতলায় গিয়ে ঘুমাতে?ঘরে কি ঘুমানোর জায়গার অভাব পড়ছিল?''


''কেন,তাতে কী হয়েছে?'' আরও একটু অবাক হয় সে।


ফের খেঁকিয়ে উঠে তার বাবা, " ছেলের কথা শুনেছ?সে আবার প্রশ্ন করছে,'কী হয়েছে তাতে?'বলি, পড়াশোনা কি সব ভুলে মেরে দিয়েছ?উদ্ভিদবিজ্ঞানে যে 'শ্বসন' নামে একটা চ্যাপ্টার আছে তা মনে আছে তো? " 


" শ্বসন! তাহলে ঐগুলো কী… " মাথার ভেতরটা আবার জট পাকিয়ে যাচ্ছে তার।


মো. তানভীর রাশিদ


Monday, 13 September 2021

সাহিত্যিক উপাখ্যান

নাকে জম্পেস করে সরষের তেল দিয়ে খাতাটাকে বাগিয়ে ধরেই লেখার ঘোড়া ছোটালেন মলয় বাবু । বউ দু-তিনবার , “ ওগো ভাত যে পান্ত হয়ে যাবে ” বলতেই বেজায় ধমক খেয়ে যে পথে এসেছিলেন সেই পথেই পা বাড়ালেন । ধমক খেয়েও লজ্জা নেই । স্বামী তার  লেখক মানুষ । এমনই মেজাজ হবে না তো খাটালের পঞ্চার হবে ! 

সত্যি চাল বাড়ন্ত কিন্তু বলবার উপায় নেই যে ,বাজার থেকে নিয়ে এস । মলয় বাবু খুশী থাকলে বউকে হাঁক পারেন , “ এই যে শুনছো ! আঃ , রাখ তো তোমার রান্না । দেখো , আমার মদনার বদনা চুরি হয়েছে , কে খুঁজে বার করবে জানো ?”

বউ ঘমটার আড়াল থেকে ফিক করে হেসে বলেন “ শেষে বদনার জন্য গোয়েন্দা , মরণ দশা ।”

আর যায় কোথায় ! মলয় বাবু লুঙ্গিতে গিট দিতে দিতে বললেন , “ দ্যাখো, এ কি তোমার শাক ভাত তৈরী ! সাহিত্য হল রীতিমত সাধনা ।”

-   “ কে পড়বে তোমার এ গপ্প ?,” মাথায় চোখ তুলে বলে বসেন বউ ।

-   “ পড়বে গো গিন্নি পড়বে , সাহিত্য জগতের আমি এক লুকানো নক্ষত্র , এক নাম করা পাবলিশার্স বলেছেন বই বার করবেন ।”

এক দু’মাস অতিক্রম । ‘ বদনা চোরের কী হল? ’ তা জানার জন্য বিপুল বিজ্ঞাপনের আয়োজন । সবই সুহৃদ পাবলিশার্স , তারই কৃপা । আগামী বইমেলার মধ্যেই আত্ম প্রকাশ হবে সাহিত্য জগত এক বিরল সাহিত্যিকের , যিনি গোয়েন্দা গল্পের চূড়ামণি ।

পাড়ায় বিকালের আড্ডায় বউকে যারাই জিজ্ঞাসা করেন , “ কী ব্যাপার ! আজকাল মলয় বাবুর টিকিটিও দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না আজকাল ।”

বুক আরও চওড়া করে বউ বলেন, “ দাদা, বুঝতেই পারছেন, লেখক মানুষ !”

                                      "মলয়’দা সব রেডি , কবে তাহলে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন বলুন? আর হ্যাঁ , এক বার আসুন কথা আছে” , ফোনের অপর প্রান্ত থেকে ভেসে আসে ।

রাতে বউয়ের দিকে পিছন ফিরে কি যে আজকাল হিসাব করে ভগবানই জানেন ! জিজ্ঞাসা করলেই উত্তর পাওয়া যায় না ।

মাহেন্দ্রক্ষণ হাজির । বেশ ক’টি মিডিয়াও উপস্থিত । সভাগৃহ বেশ পরিপাটী করেই সাজানো । সামনের টেবিলে বইগুলো সাপের মত সর্পিল ভাবে থরে থরে রাখা । পিছনেই ব্যানারে উঁকি দিচ্ছে জলজ্বলে ইংরাজিতে মলয় বাবুর নাম ।

-   “ আরে আপনি এসে পড়েছেন , এখানে কেন ? বউ’দিকে নিয়ে সামনে বসুন, আজ আপনারই দিন !” হাসতে হাসতে বললেন পাবলিশার ।

শুরু হল নানা অলঙ্কারে বক্তৃতা । বউ মনে মনে ভাবে, ‘ এত বছর বিয়ে হল এত গুণ যে তার স্বামীর আছে জানাই ছিল না !’

ভর্তি সভাগৃহে করতালির বন্যা । বাইরে থেকে মাঝে মধ্যে উঁকি দিয়ে যাচ্ছে প্যাকেট বন্ধী বিরিয়ানির দল । গন্ধটা বেশ ভালোই উঠেছে ।

মলয় বাবু রাস্তায় দাঁড়িয়ে বউকে বলল , “ কি গো কেমন !”

লাজুক লাজুক হেসে বউ বলে , “ এত বড় লেখক তুমি জানতাম না গো ! আজ কিন্তু আমাকে বড় রেস্টুরেন্টে খাওয়াতেই হবে ।”

বউয়ের গলায় আবদার শুনেই বিষম খেল মলয় বাবু । সামাল দিয়ে বললে , “ লেখক মানেই ভবঘুরে । সামনেই দেখো না কেমন তিরিশ টাকায় মাছ – ভাত ।”


কী করে মলয় বাবু বউকে বলে বলুন তো যে ,পাবলিশার মিষ্টি কথায় পকেট কেটে দিয়েছে ! থুড়ি, মলয় বাবু যেচেই নাম কেনার তাগিদে বাঁশকে জঙ্গল ছাড়তে বলেছিল । বাঁশও মহাননদে মলয় বাবুর মত অ- সাহিত্যকুলকে বেশী পছন্দও করে ।।


লেখক – পবিত্র চক্রবর্তী

Sunday, 12 September 2021

রক্তমাখা নারী

                                                                                  কালীমন্দিরে পূজা দিতে আসা এক নারীর কাপড়ে রক্তের দাগ। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ওই মহিলাকে মন্দিরের পুরোহিত বললেন, “আপনার পূজা দেয়া হবেনা”

যুবতী বললেন, “কেন ? বাকিরা দেবে আমি কী অপরাধ করেছি?”

পুরোহিত বললেন, “ওই যে আপনার কাপড়ে রক্তের দাগ। ওই জন্য”

“আমি খেয়াল করিনি ঠাকুরমশাই। কিন্তু এটা তো আমার নারীত্বের প্রতীক।  আমি তো বাকিদের মতই উপবাস করে আছি”,

“সে যাই হোক। আপনি এখন অশুচি। আমি আপনাকে এই সময় মন্দিরের ভিতরে ঢুকতে দিতে পারিনা”

এরপর বলিদানের বলি হওয়া পশুর মুন্ডু গুলো মন্দিরে আনা হল রক্ত পড়তে পড়তে গেল।

মেয়েটি বলল, “এই যে পশুর রক্তে মন্দির ভেসে যাচ্ছে এতে অশুচি হয়না ?”

“এটা বলির রক্ত। আপনি বলি হয়ে আসুন আপনার মুন্ডুটাও রাখব তখন আপনার রক্ত পড়লেও ক্ষতি নেই”, পুরোহিত জবাব দিলেন।

“তাহলে যার পূজা আপনি করছেন। সেই মা ও তো রক্তে মাখামাখি, হাতগুলো লাল রক্তে মাখা তিনিও তো অশুচি?”

“ওটা অসুরদের মুন্ডু আর হাত কাটার রক্ত, নারীর নয়”,

“আচ্ছা তাহলে পশুর রক্ত অসুরের রক্ত অশুচি নয়। শুধু নারীর রক্ত অশুচি ?”

পুরোহিত রেগে গিয়ে উগ্রভাবে বললেন, “ওই রক্ত হাত মাথা অঙ্গ কাটার ফলে বেড়িয়েছে। আর আপনার রক্ত.. ছিঃ ছিঃ দয়া করে এসব ব্যাপারে মুখ খুলতে বাধ্য করবেননা”

মেয়েটি ভ্রু কুঁচকে বলল, “কেন ওটা অঙ্গ নয় ?”

“দয়া করে আপনি চুপ করুন। এবং পিছনের ব্যাক্তিকে পূজা দিতে দিন। আমি আপনার সাথে কোন কথা বলতে চাইনা, ওই রক্ত আর নারী এই দুই  অশুচি ব্যাস”।

কথা শেষ হতেই মা কালীর হাতের পিতলের খাড়া পড়ল ঠাকুরমশায়ের মাথায়, মাথা ফেটে রক্তে ভেসে গেল মন্দির।

যিনি মন্দিরে আছেন তিনিও এক রক্তমাখা নারী তার কালো রূপে ঘোচায় কালিমা।

রক্তে নারীকে অশুচি বলার কোন যুক্তি নেই। তাই আর একজন নারীকে অপমান করার যথাযথ শাস্তি পেলেন পুরোহিত। রক্ত নিয়ে অপমান করার ফল তাকে রক্ত দিয়েই দিতে হল।

অনীশ ব্যানার্জী

Saturday, 11 September 2021

নিঃস্বার্থ বন্ধুত্ব

বনানি একটা  মাদক আসক্তি সহায়তা  সংস্থায় কাজ করে এক বছর ধরে।অনেক মাদক আসক্ত লোককে দেখেছে কেউ গরিব  কেউ বা ধনী ।শুধু একটা  মিল  এদের পুরো পরিবার এদেরকে ঘৃণা করে। এমনকি সমাজ ও এদের ঘৃণা করে। এই সংস্থার সঙ্গে বনানী নিজ ইচ্ছায় যুক্ত হয়।কিন্তু এত মানুষের কষ্ট দেখে এখন ওর কাছে নিজের বড় বড় কষ্টও ছোট্ট লাগে।কিন্তু ও আজ সত্যিই খুব বড় একটা কষ্ট পেল যখন ও এই নির্মম জায়গাটায় নিজের অতিপরিচিত বন্ধু দ্বীপ কে দেখতে পেল। ও দ্বীপের কাছে গেল দ্বীপের হাতে একটা কাচের প্লেট ছিল

 বনানী দ্বীপ?

বনানীকে দেখে অবাক হয় দ্বীপ।আর ওর হাতের প্লেটটি টুকরো টুকরো হয়ে ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। দ্বীপ বলে বন তুই এখানে? বনানী অবাক হয়ে যায় সে বলে তুই এখানে আমি কি বলবো দীপ? তুই তো....... 

তখনই কে জানি বনানী কে ডাকে তো বনানী ওর বসের কাছে যায় তাকে বলে যে "এখানে নতুন একটা ছেলে এসেছে আমি চাই ওকে কাউন্সেলিং করতে।" তার বস বলে "এখানে তো অনেক ছেলে আছে তুমি কেন এরকম ভাবে তাকে ঠিক করতে চাও?""আর তোমাকে আমি ছেলেদের কাউন্সেলিং করতে দিতে চাইতাম না।""আর সত্যি বলতে এক বছর আগে চাকরি হয়ত দিতাম না।"কিন্তু আমি কেন দিয়েছিলাম জানিনা।"তবে ওটা আমার লাইফের একটা সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল।" "তুমি যা করতে চাও কর।" ও আচ্ছা ওর নাম কি? "বনানী বলে "ফারজান ইসলাম দ্বীপ। "দ্বীপের কাছে যায় বনানী কেমন আছিস দ্বীপ? 

"এখানে যেমন তোরা রেখেছিস ঠিক তেমন।" বনানী বলে "কটাক্ষ করবি না  আমাদের কি স্বার্থ রয়েছে তোকে আটকে রাখার?আর আমি অবাক হয়ে গেছি তোর মতো ভালো একজন স্টুডেন্ট এখানে!"

"দেখ এসব বলে লাভ নেই।"

লাভ আছে তুই সত্যি করে বল প্লিজ বল প্লিজ।

 তো তখন দ্বীপ বলে, যে স্কুল পাশ করার পর এলাকা পাল্টানো, তোরা ছিলি না। যেখানে এত বছর ছিলাম সেই জায়গাটাও ছিল না

। একা লাগছিল তারপর একদিন বা মারা গেল।বাবা তো সেই কবে ছিল না তখন একা হয়ে গেলাম। সবার সহানুভূতি পেতে পেতে ক্লান্ত হয়ে পড়ে কয়েকজনের সাথে নেশা আর সিগারেট।তারপর আরকি ভাই এখানে ভর্তি করে দিল।দীপ বলে "আমি জানি আমার লাইফ আমি নিজে নষ্ট করেছি কিন্তু এতে কারো কি এসে যায় বন?" বনানী বলে "দেখ দ্বীপ তুই লাইফটাকে যত সহজ ভাবিস ততটা না।দুঃখ কি তোর একার?" 

"দ্বীপ আমি নেশা ছাড়তে পারবো না।"

বনানী পারবি তুই চেষ্টা করেছিস কখনো বল?

করেছি।

 না এটা চেষ্টা না। চেষ্টা আমি দেখাবো দ্বীপ 

আমার পেছনে কেন পরলি আমি এভাবেই ঠিক আছি

। বনানী" না তুই ঠিক নেই ""আজ থেকে ধরে নে যে এই জায়গাটা তোর বাড়ি।" এবং আমি সেই বন বন বনানী।"  বলে হেসে ওঠে বনানী।দ্বীপও হেসে উঠে।ছোটবেলায় দ্বীপ বনানীকে এভাবে ক্ষ্যাপাতো 

 বনানী কোনভাবে ওকে মানায় "একটা খেলা খেলি চল word বলতেই যেটা মাথায় আসবে তা বলবি_

 ফ্রেন্ড?

 তুই 

ফ্যামিলি?

মা।

 স্মৃতি

 এক সেকেন্ড ভেবে স্কুল।

 তুই স্কুল মিস করিস?

কি যে বলিস স্কুল মিস করবো কেন? এমনি 

হয়েছে সাফাই দেওয়া লাগবে না।কাল রেডি থাকিস

 ও কোনোভাবে দ্বীপকে নিয়ে  স্কুলের কাছে যায়। দ্বীপ খুশি হয়ে যায় দ্বীপ গাছটা এখনো আছে?

 বনানী হ্যাঁ আছে।  ওই দেখ চল ফুচকা খাই। ওরা ফুচকা খায়। তারপর বনানী বলে দেখেছিস লাইফটা সুন্দর। কিন্তু তোর দেখা লাগবে। লাইফটা তো তোর তুই নিজের  ক্ষতি নিজে করবি কেন?  ভালো কাজ করবি বুঝলি। দ্বীপ বলে বন তুই এত ফিলোসফিক্যাল কথা কই শিখলি?আগে তো বন বললে ক্ষেপে যেতি।বলতি আমার নাম বন না বনানী। স

ময়ের সাথে সাথে অনেক কিছু বদলায়। চল ফিরে যাই।

ফিরে গিয়ে জানি বন্দি কারাগারে যেতে তোর ভালো লাগছে না কিন্তু  আমি কি করি বল?   

সব বুঝি আমি। প্রত্যেকদিন আসবি তাহলেই হবে। শোন একটা কথা বলি?

হ্যাঁ বল

 তুই কি সবার মত আমার হেট করিস?

 হেট তোকে? জিবনেও না।শোন খারাপ কাজকে ঘৃণা করব কিন্তু যে ভুল করেছে তাকে না।


এরপর  চেষ্টা করে অনেক কষ্ট করে বনানী।  এবং সুস্থ হয়ে  উঠে  দ্বীপ। তো সুস্থ  এর অনেকদিন পর একটা সভায় দ্বীপের সুস্থ হওয়ার পর :

নিঃস্বার্থ বন্ধু পাওয়া খুব কঠিন ব্যাপার। যে সেটা পায় সে ভাগ্যবা।ন এরকম বন্ধুকে হারানো উচিত নয় আর hurt করা উচিত না।আমি আজ এখানে একজনের নাম নিবো বনানী। থ্যাংকস বন বনানী।

সে বলে বন্ধুত্ব থ্যাংক ইউ নেই। 

আজ তাকে আবার সেই প্রশ্ন করে বনানী 

 ফ্রেন্ড?

 তুই।

ফ্যামিলি? 

মা

 স্মৃতি? 

স্কুল।

স্বপ্ন?

কিছু জায়গায় ঘোরা। 

ভালোবাসা?

 স্বাধীনতা।

 নেশা?

ছেড়ে দিয়েছি। 

 প্রিয় মানুষ?

বন বন বনানী।

 বনানী  খুব খুন্ধ তার বন্ধুর জন্য নিঃস্বার্থভাবে কাজ করেছে সে আজ।


বিদৌরা প্রিয়দর্শিনী বারহান


Friday, 10 September 2021

এক মিনিটের রাস্তা

 "বাবা, সদর হাসপাতালটা কোথায় বলতে পারবে?"


"হ্যাঁ।এই তো,এক মিনিটের রাস্তা ।এখান থেকে সোজা গিয়ে ডানদিকে যাবেন ।ওখানে বড় রাস্তা পাবেন ।রাস্তা পেরোলেই সদর হাসপাতাল ।"


"আচ্ছা বাবা ।আমার মেয়েটার বাচ্চা হয়েছে গতকাল ।বয়স হয়েছে বলে হাসপাতালের  রাস্তা ভুলে যাই বারবার ।"


"সমস্যা নেই নানু।আপনাকে কি পৌঁছে দেবো?"


"না থাক বাবা ।যেতে পারবো ।মেয়েটা একা আছে ।তাড়াতাড়ি যেতে হবে।"


এক মুহূর্ত দেরি না করে বয়স্ক মহিলা চলে গেলেন ।বয়সের ভারে ভারাক্রান্ত বোঝাই যাচ্ছে ।কিন্তু তারপরও দায়িত্বগুলো তো  বয়স মানে না।ধীরে তবে যথাসম্ভব দ্রুতগতিতে হেঁটে চলে গেলেন মহিলা।হয়তো বয়সের কারণে স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে গেছে বলে তিনি রাস্তা হারিয়ে ফেলেছিলেন এবং হয়তো আবারও হারাবেন ।তাই শিহাবের কাছে জেলা সদর হাসপাতালের রাস্তা জিজ্ঞাসা করেছেন ।


উনি যাওয়ার পর কিছুক্ষণ ওনার যাত্রাপথের দিকে তাকিয়ে থাকে শিহাব ।পুরনো স্যান্ডেল আর জোড়াতালির বোরকা,ধীর পায়ে এগিয়ে যাওয়া এক বাহন যেন।যেন অনেক ভারী কোনো বোঝা বয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।


"বৃদ্ধ হলে দায়িত্ব কি আরও বেড়ে যায়? বয়সের ভারে মানুষ বৃদ্ধ হয় না;দায়িত্বের ভারেই বৃদ্ধ হয় ।ওনার পরিবারে কি কেউই নেই যিনি ওনার সদ্য মা হওয়া মেয়ের কাছে থাকতে পারতেন ।কেমন পরিবার যে এমন বয়স্ক মানুষকে খাটায়? অবশ্য মা তো ।হয়তো পরিবারের সবার বারণ উপেক্ষা করে তিনিই মেয়ের কাছে আসতে চেয়েছেন ।

যাই হোক,পরিবারের তো ওনার প্রতি একটা দায়িত্ব থাকে।"


এসব চিন্তা করতে করতেই হঠাৎ শিহাব দেখে রাস্তার সবাই দৌঁড়ে দৌঁড়ে বড় রাস্তার দিকে যাচ্ছে।ও একজনকে ধরে জিজ্ঞেস করে,


" সবাই বড় রাস্তার দিকে যাচ্ছে কেন?"


" আরে বড় রাস্তায় নাকি অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছে!!কাকে নাকি একটা ট্রাক পুরো পিষে দিয়ে গেছে!!!"


ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে শিহাব ।

"ওদিকেই তো গেলেন ঐ নানু।ওনার আবার কিছু........."

দৌঁড়ে বড় রাস্তার দিকে যায় ও ।একটা বড়সড় ভিড় জমে গেছে ।ট্রাক ড্রাইভার ট্রাক ছেড়েই পালিয়েছেন।


"আল্লাহ্ ঐ নানুর যেন কিছু না হয় ।"


এক মিনিটের আলাপ তারপরও ওনার জন্য দোয়া করছে শিহাব ।এক মিনিটের জন্যও যার সাথে পরিচয় হয় তাকে মানুষ হারাতে চায় না ।ভিড় ঠেলে কোনোমতে এগিয়ে যায় শিহাব ।কিন্তু...এটা যে সেই নানুই.......একদম পিষে দিয়েছে পুরো শরীর!!শুধু মলিন চেহারা মলিনভাবেই পড়ে আছে ।


"এক মিনিট আগেও যার সাথে কথা বললাম,যার সাথে প্রথম পরিচয় হলো তিনি এখন এই পৃথিবীতে নেই?কেন আমি ওনাকে জোর করে পৌঁছে দিলাম না!!হয়তো তাহলে আজ একটা প্রাণ বেঁচে যেতো!!"


লেখক-মাইনুল ইসলাম তানিম 

Thursday, 9 September 2021

অতীতের সমৃদ্ধি

বৃষ্টির ফোঁটা গুলো ডুমুর পাতার গা বেয়ে বেশ বয়ে যাচ্ছিলো, রোজকারের মতো আজও আমার ঘুম ভরা ঠোঁটে ছিল জ্বলন্ত সিগারেট, আর ঈষৎ কম্পমান হাতে ছিল চায়ের কাপটা| প্রথম চুমুকেই আলস্য ভাবটা বিদায় নিয়েছিল আর কাঁচের ফোকর দিয়ে আগত তীক্ষ্ণ ফলার মতো দু একবার বৃষ্টির কাতরতাপূর্ণ ঝাপটা, বাস্তবতার কঠিন চাদরে মুড়ে থাকা বিশ বছর আগের শৈশব এর কিছু পাগলামির দিকে মৃদু মন্দ ঠেলে দিচ্ছিল| 


       উপলব্ধি করলাম দেখতে দেখতে বিশটা বছর কাটিয়ে ফেলেছি !ব্যালকনি তে দাঁড়িয়ে, বৃষ্টির জল বয়ে যাওয়া কাঁচের ওপারের স্মৃতিচারণ করাটা নেহাতই ভাগ্যের রথচক্রের অনন্ত গতিফের ছাড়া আর কিছুই না ; 


       সেই বৃষ্টির ফোঁটার দাগে সুসজ্জিত কাদা জলে মোড়া ফুটবল এর দিকে ছুটে যাওয়া, একরাশ প্রানোচ্যল আনন্দে মেতে ওটা ছেলেগুলোর মধ্যে নিজেকে মনে পরে গেলো. কাদা মাখা জলে নিমজ্জিত ক্ষমতাহীন শরীরটাকে নিয়ে আনন্দের জেরে পুকুরে ঝাঁপ দেবার কথা স্পষ্ট মনে পড়ছিলো. কল্পময়ই মনটাকে কষ্ট না দিয়ে আরেকটা সিগারেট ধরিয়ে কাঁচের উপর হাত রেখে আবার মশগুল হতে থাকলাম |নিজেকে বড্ড একা লাগছিল, লাগবেনা বা কেন? সোনালী দিন শুরু হবার আগেই গোধূলি তেই শেষ হয়ে গেছে |


            সেই দিনগুলোকে বড্ডো কাছে পেতে ইচ্ছেকরছিলো |কিন্তু বাস্তবতা, সেই অকুল প্রেমের নিদাগ তিয়াসার কল্পনাকে করাঘাত করো উঠেছিল, কাজেই ঘড়ি র দিকে তাকিয়ে তাড়াতাড়ি করে ঘরে আসতে গিয়ে খামোকা হোঁচট খেয়ে দেওয়াল আলমারিতে ধাক্কা দিয়ে, নিজেকে প্রায় সামলে নিলাম |আলমারি মধ্যেকার অগোছালো বই গুলো আন্দোলনের সাথে মেঝেতে আছাড় খেয়ে পড়লো |একটা বইয়ের পৃষ্টা থেকে একটা অতিপরিচিত কাগজ মেঝেতে লুটোপুটি খাচ্ছিলো |আন্দাজ করতে পারছিলাম ওটা কিসের কাগজ ;প্রবল উত্বেজনার সাথে চিঠিটা খুলতে খুলতে বুজতে পারছিলাম, চিঠিটা 20বছর আগের হলেও, তার ভিতরের আন্তরিক ভাবসমৃদ্ধ লেখাটা, বৃক্ষ্যে বিকশিত কুঁড়ি থেকেও নুতন |আর তার স্মৃতি বর্তমানের করাল অঙ্গীকার কে চূর্ণ বিচূর্ণ করে ভয়ঙ্কর উন্মাদনার সাথে অন্তরটাকে বিদীর্ণ করছিলো |সেদিন যাদের জন্য আমার প্রাণ বন্ধু কে লাঞ্ছনা সহ্য করতে হয়েছিল তাঁদের উদ্যেশে আমার বিদির্ন হিয়া থেকে ধিক্কার ছাড়া আর কিছু আসছিলো na. সে ছিল আমার কল্পনার রাজকুমারী, আর বাস্তব জীবনের জ্বলন্ত 'দিয়া'| যাকে একটি শব্দে প্রাণ বন্ধু বললে কিছু মাত্র ভুল হবে না |কাগজ টা ছিল তারি দেওয়া আমার কাছে শেষ চিঠি |


            যেটা আমার অতীতের সেই বিরহ যন্ত্রনা কে মনে করিয়ে দিছিলো |


এমন সময় হটাৎ আমার ফোনটা বেজে উঠলো, আর বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা "আমি" কে বিছানায় শায়িত অনুভব করলাম |আলমারির বইগুলো আমার মাথার চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে, বালিশের পাশে থাকা ফোনটার দিকে চোখ মেলতেই দেখলাম, Sayan এর incoming call. ঘড়িতে 8.30 বেজে গেছে, এখন একটাই চিন্তা "কলেজ যেতে দেরি হয়ে যাবে আর Sayan আমাকে খিস্তি দেবে "|ফোন receive করে গালাগালি হজম করার ভুল না করে, গামছা টা খুঁজতে ব্যাস্ত হয়ে গেলাম ||


                                                  -দেবাংশু..

Monday, 6 September 2021

আর্য্যা বহুত মিনতি করি তোয়

আর্য্যা বহুত মিনতি করি তোয়


কোন এক প্রশান্ত ভোরে শিউলির গন্ধে জাগ্রত ছোট্ট একটি মাটির দুর্গা প্রতিমা।


অপূর্ব সেই শান্ত  শোভন ললিত পেলব মূর্তি।


রক্তাভ আলতায় রাঙানো যার চরণযুগল শোভিত পদ্মরাজে।


অক্লান্ত ও নিবিষ্ট মননে যে তুলিকা জেগেছিল নিদ্রাবিহীন রাতের পরে রাত্রি-


সেই তুলিটিও মন প্রাণ ও সত্ত্বা নিয়ে বেঁচে আছে, শুধু নীরবে অনুভব কর তাকে।


যুগযুগান্তের সীমানা থেকে ভেসে আসা ঢাকের মন্দ্রমধুর ধ্বনি আর,


পুজোর আবেশে ঢাকিদের বোল কথা বলে ভালোবেসে,


ঠিক তখনই বাতাসে ধূপ ধুনোর গন্ধ আর কিছু মাতাল করা সুর শুনি-


অহম রুদ্রেভীর্বসুভিশচরাম্যহমাদিতৈরুত বিশ্যদেবৈ:


অহম মিত্রাবরুনোভা বিভর্ম্যাহমিনদ্রাগনী অহমস্বীনোভা....


পবিত্রতা আজও বেঁচে আছে ওই ছোট ছোট তালিবানি শিশুগুলির চোখে


ওরা নিষ্পাপ তাই কদর্যতার কালি ওরা বোঝে না, ওরা জানে না 'ভয়ঙ্কর' কী!


ওদের চোখে আজও ভীষণ পবিত্র তুমি ভীষণ পবিত্র আমি।


ঠিক যেমনটি ছিলাম বহুযুগ আগেও, সেই আত্রাই নদীর ধারটিতে- তোমার কি মনে পড়ে সেই কথা?


কাঁসর, ঘণ্টাধ্বনি ও শঙ্খের আওয়াজে শুরু হয় মন্ত্রোচ্চারণ- "ওম দুর্গে দুর্গে রক্ষণি স্বাহা..."-


বিশ্ব চরাচর পবিত্র হয়  সেই মন্ত্রে; পরমাপ্রকৃতি সৃষ্টির আদি ও উগ্ররূপে মুগ্ধ হন ধরিত্রী।


সৃজনশীল ব্রহ্মা, পালনকর্তা বিষ্ণু এবং সংহারকারী রুদ্রের ত্রিশক্তিতে মিলেমিশে যায় সর্বমন্ত্রময়ীর মান্যতা।


মাগো ফিরিয়ে দাও সেই শান্তি, অকৃত্রিম সুখ আর রূপকথাদের স্বপ্নিল ডানা।


ঠিক যেমনটি ছিল ছোট্টবেলায়; ঠিক যেমনিভাবে আপনঘরে সূর্যাস্তে ফিরত পাখী -আপন পাখা মেলে।।



অনিন্দিতা সরকার

Saturday, 4 September 2021

দুর্ঘটনা

 দুর্ঘটনা

 দু হাতে ঢেউ তুলে দেখি - অবিনশ্বর তেজ প্রেম মরে যাওয়ার সময় ঠিক যেরকম করে গর্জন করে , ঠিক সেরকম করে মরেছে আমার শেষটুকু 

কতবার দুঃখ নিমেষে ঢাকা পড়েছে আমি বুঝতেই পারিনি- দম বন্ধ হলে কেমন যেন হয় !

 নৌকা করে চলে গেল আমার প্রাণ ওষ্ঠাগত গরীবের গর্বের ঘুষ , আমাদের বুক ঈশ্বরেও কেনে না ! সত্যি ! আজো নিজেকে বলতে পারিনি - " এমন একটা দুর্ঘটনার অপেক্ষাতেই তাে বেঁচে আছি ! "

 সিকতা আনান হক

কিরাত সন্তান

কিরাত সন্তান

রবীন বসু


অন্ধকারে বাণ ছুঁড়ি অহেতুক উল্কার প্রপাত

আমাকে আবিষ্ট করে রাত্রিচর পাখির চিৎকার

সামনে দাঁড়িয়েছেন দৃঢ় বৃক্ষ উচ্চ সারি সারি

সবুজ পাতার থেকে মায়া অন্ধকার নেমে আসে

প্রাচীন সভ্যতা-মুখ ঢাকা পড়ে আলোছায়া মাখা

বৈদিক স্তোত্রের মত উচ্চারিত নামগান জাগে

অনুমান সংক্রামক, তবুও আক্রমণ উদ্যত 

নিহত শিকার যেন আমি আর আদ্যপান্ত খেলা।


অব্যর্থ লক্ষের দিকে চেয়ে থাকি, বনভূমি চুপ

আমারও দৃষ্টি বিদ্ধ কুহক আচ্ছাদিত সম্ভ্রম

কুয়াশা ঢেকেছে রাত, আমি তার হাত ধরে থাকি

বৈষ্ণবী আঁচল ওড়ে, চমৎকার প্রেম জাগে দেহে

সকাম উষ্ণতা মাখে শ্রীরাধার উরুসন্ধি বেয়ে

স্বপ্নসখা কালোধন আর আমি কিরাত সন্তান।

Thursday, 2 September 2021

স্তন্যদায়িনী

 স্তন্যদায়িনী

সোমনাথ সাহা


অসংখ্য উষ্ণতা গায়ে মেখে শুয়ে আছি তোমার কোলে মুখ ডুবিয়ে।

আমার মৃত্যুমুখী ব্যর্থ রক্তপাত বর্ধিত প্রলয়ের আভাস দিয়ে গেলো সবে।

সনাতনী দীর্ঘশ্বাস দুঃখের মত বুক চিতিয়ে ওঠে,

আর কণ্ঠ শুকিয়ে আসে শূন্য হওয়ার আগে।

ঠিক তখনই মায়ের শীতলতা আমি বুঝতে পারি,

যখন জ্বলন্ত কপালে তোমার স্পর্শ পাই।

তারপর ঘাম দিয়ে জ্বর চলে যায় নিরন্ন মানুষের পথ- মিছিলে।

আমি ঘুমিয়ে পড়ি ঘুমের ভিতরে আর স্বপ্ন দেখি,

রাস্তায় রাস্তায় কবর দেওয়া হচ্ছে মানুষের মনোবল।

আমি বুঝতে পারি বিপন্ন বাতাস এখানে পাথরের চেয়ে ভারী।

মা তখন হাত বুলিয়ে বাস্তবতার জানান দেয়,

আর বলে সভ্যতার পথ গুলো এইভাবেই মায়া কাটিয়ে কঙ্কাল হয়ে ওঠে। ভয় কোরোনা!

পদ্মের কোমলতাকে ভেদ করে যে মৃত্যু জন্মের ঠোঁট ছুঁয়ে এসেছিল, সূর্যাস্তের অনন্ত গোধূলি থেকে আমার নিঃসঙ্গ মা উঠে এসে তাদের তাড়িয়ে দিয়েছে জননী সত্ত্বা দিয়ে।

ঠিক যতটা দুর্বল হলে মেরুদন্ড থাকেনা, ততটাই দুর্বল হয়ে মায়ের কোলে শুয়ে আকাশের সুখতারা গুনছি।

দেখবে তুমি ক্লান্তির চাদরে শুয়ে স্নেহের চুম্বনও কেমন স্বাদহীন লাগে।

অশ্রুস্নাত চোখে দেখতে পাই চারিদিকে সামাজিক জঞ্জাল; উঠে দাঁড়াতে পারছিনা।

তাই, মায়ের হাত ধরে শুয়ে আছি শান্তির বিশ্রামে।

 একদিন উঠে দাঁড়াবো ঠিক !

স্তন‍্যদায়িনীর ঋণ শোধ করে মৃত্যুর কাছে গিয়ে আজীবন চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকবো মেরুদন্ডহীন হয়ে।

                              সমাপ্ত

মনে পড়ে যায় সেই হৃদয় দেবার তিথি দুজনার দুটি পথ মিশে গেল এক হয়ে নতুন পথের বাঁকে।

 মনে পড়ে যায় সেই মন দেওয়ার তিথি, আজও মনে আছে সব, ভুলতে পারিনি অনেক সময় গেছে বিতি । সেদিন ছিলো পূর্ণিমা রাত যেনো জ্যোৎস্না স্নাত প্ৰহেলিক...